জালাল আহমদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলেছেন,”জিডিটাল নিরাপত্তা আইন এখন গদিরক্ষার আইনে পরিণত হয়েছে।এই আইন বাতিল করতে হলে আওয়ামী লীগ সরকার কে বাতিল করতে হবে।
প্রতিদিন কাউকে না কাউকে এই আইনে জেলে যেতে হচ্ছে ‌‌‌।লুটপাট কে নিরঙ্কুশ করার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন তৈরি করা হয়েছে।

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর (২০২২) রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের জাতীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য প্রীতম দাশের মুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রচার এবং মিডিয়া সমন্বয়ক সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন এর সভাপতিত্বে এবং ইমরান ইমনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক দুই বারের ভিপি এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না,ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর , গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম,নৈতিক সমাজের আহ্বায়ক জেনারেল আ ম স আমিন,মাশকুর রাতুল,দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া,ফরিদুল হক প্রমুখ।

ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ” সম্রাটদের কে গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা হয় নি। কিন্তু প্রীতম দাশকে রাখা হয়েছে।
জেলখানায় দেখবেন ৫ হাজার বন্দীদের মধ্যে হয়তো ৫ ০০ জন অপরাধ করেছেন। বাকিরা এই সরকারের হয়রানির শিকার।
এই রাষ্ট্র দখল করেছে চোরেরা। চোরেরা জেলে গেলে ডিভিশন পায় ‌।এই সরকার তাদের কে লালন করে।এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।তাই তার কোন জবাবদিহিতা নেই।যাকে ইচ্ছা তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা হচ্ছে।এই সরকারের পুলিশ
এই মাসের মধ্যে ৭জনকে হত্যা করেছে। এখন সরকারের মন্ত্রীরা দিল্লী , লন্ডন এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে বিদেশিদের কাছে ধর্না দিতে ব্যস্ত।
এই সরকারের মন্ত্রীরা বলে এক কথা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন অন্য কথা।
অতীতে ভালো- মন্দ যা ই থাকুক না কেন, গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
গণতন্ত্র রক্ষা এবং মানুষের ভাগ্য বদলের লড়াই এখনই শুরু করতে হবে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব
নুরুল হক নুর বলেছেন, ” গণতন্ত্র রক্ষায় দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল গুলো অভিন্ন দাবিতে রাজপথে নামছে।
তিনি পুলিশ কে উদ্দেশ্য করে বলেন,
শেখ হাসিনারও রক্ষা হবে না এবং
আপনাদেরও রক্ষা হবে না।
এই সরকারের পরিবর্তন না হলে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে না।
গদিরক্ষার জন্য হেলমেট বাহিনী এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কে মাঠে- ময়দানে নামান ,মিয়ানমারের সীমান্তে ছাত্রলীগ কে পাঠান না কেন?
শেখ হাসিনার পতনের জন্য গণতন্ত্র মঞ্চ সহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি ‌‌।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক বলেছেন, “শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিকরা ভোটের মজুত বাক্স।গত
৫০ বছরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যত হামলা হয়েছে, তাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ জড়িত।৭০ ভাগ হিন্দুদের সম্পদ দখল তারা করেছে।কোন সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে ডিজিটাল আইন চলতে পারে না। সরকার বিরোধীদলের দমন ও গদি রক্ষা করতে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন তৈরি করেছেন।এই আইনে অসংখ্য সাংবাদিক, ছাত্র কে জেলখানায় বন্দী করা হয়েছে।
আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে আপনারা কয়জন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের কে গ্রেফতার করেছেন? ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল করতে হলে আওয়ামী লীগকে বাতিল করতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, এই আওয়ামী লীগ বড়াই করে বলে তারা নাকি অসাম্প্রদায়িক দল।
কিছু বুদ্ধিজীবী আওয়ামী লীগের পা চাটতে চাটতে তাদের কে নর্দমায় পরিণত করেছে।এসব বুদ্ধিজীবীদের কে ফ্যাসিবাদের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে। আওয়ামী লীগ দেশকে জমিদারীতে পরিণত হয়েছে।
মধ্যবিত্তের একটি সুবিধাভোগী অংশ ফ্যাসিবাদের দালালী করেছেন
আওয়ামী লীগের পায়ের তলায় মাটি নেই।
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিরোধী দলের আন্দোলনের মুরোদ নেই। আন্দোলন শব্দ শুনলেই আওয়ামী লীগ ভয় পেয়ে যায়।
জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে আওয়ামী লীগের পতন হবে ‌।
ন্যায়ের পক্ষে সাহসিকতার সাথে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
আগামী দিনের লড়াই ,গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই।
সেই লড়াইয়ে জনগণ কে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেছেন, প্রীতম দাশের মামলার বাদী মামলার অভিযোগে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, মামলায় দেরী হয়েছে।কারণ তার রাজনৈতিক দলের বড় ভাইদের নির্দেশে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।যারা বাংলাদেশে হিন্দুদের অধিকারের কথা বলেছেন, তারা এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার- নির্যাতন করছে।
আওয়ামী লীগের কথা ছাড়া বাংলাদেশে গাছের পাতা পর্যন্ত নড়ে না ‌। সাম্প্রদায়িকতা হলো আওয়ামী লীগের নিকৃষ্ট হাতিয়ার। শ্রীমঙ্গলের ঘটনায় আওয়ামী লীগের চরিত্র পরিস্কার হয়ে গেছে। এখন আওয়ামী লীগের টিকে থাকার হাতিয়ার হচ্ছে আমার টাকায় কিনা অস্ত্র, আমার বেতনে পোষা পুলিশ।রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করবে। পুলিশ কে জনগণের পুলিশে পরিণত করবে।

কারা নির্যাতিত দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “২০২০ সালে ৫ মে আমাকে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন গ্রেফতার করা হয়েছিল। আমরা সরকারী তথ্য অনুযায়ী করোনা মহামারীর ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছিলাম।তাই আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
আমাকে সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
কিন্তু আমাকে মামলার এজাহারে সম্পর্ক কোন কিছুই জিজ্ঞেস করা হয় নি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল আমি মোশতাক আহমেদ এর সাথে মিলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলাম।এই সরকারের নির্দেশে মোশতাক কে জেলখানায় মেরে ফেলা হয়েছে।