প্রতিবেদকের বক্তব্যঃ

কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামিল (মাস্টার্স) মাদরাসা কেন্দ্রে ৩০৩ নং কক্ষে দাখিল পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৩২ জন। ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের হাদীস পরীক্ষা ছিল।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা হলো, হাদীস শরীফের ‘এমসিকিউ’ প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি খাতায় লিখতে হবে। ওএমআর ফরমে ‘বৃত্ত ভরাট’ করলে হবে না।
এ ক্ষেত্রে অভিযোগ হলো, ৩০৩ নং কক্ষের পরীক্ষার্থীদের ভুল তথ্য দিয়েছেন দায়িত্বরত পর্যবেক্ষক। এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তরে ‘বৃত্ত ভরাট’ করতে বলায় পরীক্ষার্থীরা সেভাবে লিখে উত্তরপত্র জমা দেন।
পরে মাদরাসা-এ তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়ার পরীক্ষার্থীদের ডেকে অতিরিক্ত সময় দিয়ে উত্তরপত্র সঠিক করে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়। প্রতিকার দাবি করে তারা।
পরের দিন ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে কেন্দ্র পরিদর্শনে যান জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নাসির উদ্দিন।
এসময় তিনি ঘটনার বিষয়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ মাহমুদুল করিম ফারুকীর নিকট জানতে চাইলে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।
এমনকি পরীক্ষা কন্ট্রোলার, জেলা প্রশাসক কিংবা সংশ্লিষ্ট কাউকে না জানিয়ে কিছু ছাত্রকে অতিরিক্ত সময় প্রদানের কথা স্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব।
এরই প্রেক্ষিতে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের অব্যাহতির নির্দেশ এবং এবিষয়ে বোর্ড বরাবর দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দেন জেলা শিক্ষা অফিসার। এ সময় কয়েকজন সংবাদকর্মীও উপস্থিত ছিলেন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ভুলের দায় স্বীকার করে পরীক্ষার হলে দায়িত্বপালনকারী শিক্ষকদের অব্যাহতি দিয়েছেন, এটিই তো তাদের অপরাধের প্রমাণ।
তাছাড়া অতিরিক্ত ৫ মিনিট সময় দেয়ার স্বীকৃতির অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের আছে সংরক্ষিত আছে।
ঘটনার একদিন পরে ১৯ সেপ্টেম্বর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোলার বরাবর পাঠানো প্রতিবেদনেও কিছু ছাত্র উত্তরপত্রে ‘ঠিক চিহ্ন’ দেন উল্লেখ আছে।
নিজেদের অপরাধ ধরা পড়ার পরেও প্রতিবাদলিপি পাঠিয়ে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র চেষ্টা করেছেন কেন্দ্র সচিব ও মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যথাযথ, সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ। সঠিক তথ্য প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে ভুক্তভোগী, অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তের বক্তব্যও যোগ করেছেন প্রতিবেদক।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ হলো, একই হলের কিছু পরীক্ষার্থীকে ভুল সংশোধনের সুযোগ দিলেও হাশেমিয়ার কাউকে জানানো হয় নি। যে কারণে ১৬ জন ছাত্রের কাঙ্খিত ফলাফল অনিশ্চিত।
ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে তাদের। যার দায়ভার হল পর্যবেক্ষক ও কেন্দ্র সচিব এড়াতে পারে না।
১৬ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ কেন করা হলো? প্রশ্ন রয়ে গেল।