হাসান তারেক মুকিম,রামু:
কক্সবাজারের রামুতে ঠিকাদারের গাফিলতিতে আড়াই বছরেও শেষ হয়নি রামু উপজেলা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ। এদিকে নতুন ভবন নির্মাণে পুরাতন সেমিপাকা টিনশেডের ভবনটিও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। যার ফলে অনিশ্চতায় পড়েছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
সূত্রে জানা গেছে, রামু উপজেলা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪৫ জন।দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সরকারি এই স্কুলটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২০২০ সালে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি পঁচিশ লাখ তেয়াল্লিশ হাজার টাকা বরাদ্দে চট্টগ্রামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ আলি আঁখি- আল- আমিনকে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুলাই বেঁধে দেওয়া হলেও কেটে গেছে প্রায় আড়াইটি বছর। এখনো পর্যন্ত ৫ শতাংশ নির্মাণকাজও শেষ করতে পারেনি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে ভোগান্তিতে রয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। পাঠদান নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
এব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েও সুফল পাচ্ছে না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
দেখা গেছে, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য বিশাল একটি গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে এবং বেজমেন্ট ঢালাই দেওয়ার পর আর কাজ করেননি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। বৃষ্টির পানি জমে ডোবায় পরিনত হয়েছে বেজমেন্টের গর্তগুলো।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁশের বেড়া দিয়ে টিনশেডের কক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন শিক্ষকেরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, ‘এত দিনেও বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় চরম অনিশ্চতায় মধ্য দিয়ে ক্লাস করছি। বাঁশের বেড়ার টিনশেডের ক্লাস রুমে আলো বাতাস অপর্যাপ্ত। যার ফলে প্রচণ্ড গরমে খুবই কষ্ট হয়। ঝড়বৃষ্টি হলে আরো বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
রামু আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভাষ বড়ুয়া জানান, এলজিইডি অর্থায়নে পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, অবিভাবক, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী সেমিপাকা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে নির্মিত টিনশেড কক্ষে ক্লাস নিতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ভবন নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য বারবার অনুরোধ করছি।
প্রকল্পের নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি কেন জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা মো: সেকান্দর বলেন, নির্মান সামগ্রীর অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারনে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু করবেন জিজ্ঞেস করা হলে তার কোন সদুত্তর তিনি দেননি।
এব্যাপারে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে পাঠদান স্বাভাবিককরণে স্থানীয় অবিভাবকগণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।