নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশের মামলা তদন্তকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধা মা-বাবা ও ছোট ভাইকে বেধড়ক পিটিয়েছে ১৭ মামলার আসামী সন্ত্রাসি পুত্র। আহতরা সবাই জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ায় এই বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে।

আহত পিতা বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম ও মাতা নুর আয়েশা বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ছেলে আজিজুল হক রুবেল প্রকাশ কাটা রুবেল দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতা ও নাশকতার মামলাসহ পিতা, মাতা ও ভাই বোনকে অমানবিক নির্যাতনের দায়ে ১৭টি মামলা রয়েছে। প্রতিদিনের নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বোনকে বেধড়ক মারধর ও অমানষিক নির্যাতন করার কারণে আদালতে মামলা করা হয়। ওই মামলা নিয়ে বাড়ীতে যায় পিবিআইয়ের তদন্তকারি কর্মকর্তা। এই তদন্তকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে বৃদ্ধা মা-বাবা ও স্কুল পড়–য়া ভাইকে বেধড়ক মারধর করে।

জানা গেছে, আজিজুল হক রুবেলের বিরুদ্ধে রামুর মন্দির জ¦ালিয়ে দেয়া, সড়কে গাড়ি ভাংচুর, নাশকতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, নারী নির্যাতন, মারামারি ও বন মামলাসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত মা-বাবা, বোন ও ভাইদের উপর অকারণে নির্যাতন চালানোর দায়েও রয়েছে আরো কয়েকটি মামলা।

বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম জানান, তার অবাধ্য ছেলে সন্ত্রাসি রুবেলের কারনে যে কোন মুর্হতে আত্মহত্যার পদ বেঁচে নিতে হবে। কারন থানা, কোর্টসহ তার বিরুদ্ধে বিচার চাওয়ার স্থান বাকী নেই। কয়েকদিন জেলে থাকলেও পওে জামিনে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে যায়। সর্বশেষ তার অত্যাচার ধমাতে স্থানীয় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহম্মদও শালিশী বৈঠক করেন। চেয়ারম্যানের বিচার না মেনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে।

বৃদ্ধ পিতার অভিযোগ, রুবেল গত চার বছর আগে থেকে স্ত্রীকে নিয়ে মা-বাবা থেকে পৃথক হয়ে বসবাস করছে। এই সন্ত্রাসি রুবেল তার কলেজ পড়–য়া বোন সাদেকাকে প্রবাসী এক বার্মাইয়াকে বিয়ে দিয়ে মোটা অংকের বাণিজ্য করতে চেয়েছিল। সেখানে সে সুযোগ করতে না পেরে দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

ছেলে রুবেলের ব্যাপারে মা নুর আয়েশা জানান, রুবেল এর অত্যাচার নির্যাতন দেখলে মনে হয় কিয়ামত এর আলামত চলে এসেছে। তার বিরুদ্ধে থানা পুলিশে অভিযোগ করেও কোন প্রকার প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছেনা। সর্বদায় পিতা-মাতাসহ বোন ও ভাইয়ের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। আহত মা নুর আয়েশা বেগম আরো অভিযোগ করে বলেন, তার অবাধ্য ছেলে রুবেল অমানুষ হয়ে উঠেছে। রুবেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান আছে। এসব মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকেলে তার নেতৃত্বে ইসমাইল, আবুল হোছন ও তার ছেলে জয়নাল, স্ত্রী খুর্শিদা বেগম ও ইসমাইলের স্ত্রী তসলিমা আক্তার এই মারধর ও হামলার ঘটনা ঘটায়।

এদিকে উপরোক্ত বিষয়ে রুবেলকে ফোন করা হলে সে ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে কথা বলবে বলে ফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন।