কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সমাবেশে এস.এম জিলানী

মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথ প্রকম্পিত করতে হবে

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২ ১০:৪৫ pm , আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২ ১০:৪৮ pm

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


[Sassy_Social_Share]

ইমাম খাইর, সিবিএন:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি এস.এম জিলানী বলেছেন, মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথ প্রকম্পিত করতে হবে। আমাদের গণতন্ত্র নেই। মানবাধিকার নেই। ভোটাধিকার নেই। বাক স্বাধীনতা নেই। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে স্বৈরশাসক আমাদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে। অব্যাহত নির্যাতনে নেতাকর্মীরা ক্ষতবিক্ষত। মিথ্যা মামলায় জর্জরিত। তবু আমরা থেমে যাইনি।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণে কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস.এম জিলানী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ সবক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ। শেখ হাসিনা সরকারের পায়ের তলার মাটি শেষ। ভারতে গিয়েও তেমন সুবিধা করতে পারে নি। সাধারণ মানুষের মনে তার স্থান নাই। এক মিনিটের জন্যও আওয়ামী লীগ সরকারকে চায়না জনগণ।

সমাবেশে উপস্থিত দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, আমাদের সমস্ত শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে নামতে পারলে হাসিনা চিরতরে ক্ষমতার মসনদ থেকে পালাতে বাধ্য হবে। মাফিয়া সরকার শত নির্যাতনের পরও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে আটকে রাখতে পারেনি। আমাদের আটকে রাখা যাবে না। চূড়ান্ত সফলতা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে এস.এম জিলানী বলেন, ওরা (আওয়ামী লীগ) আমার নেত্রীকে এক কাপড়ে স্মৃতিবিজড়িত স্থান থেকে বিতাড়িত করেছে। রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমানকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তার মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে দিয়েছে।

শহীদ জিয়ার কনিষ্ঠ সন্তান আরাফাত রহমান কোকোকে জেলখানার ভিতরে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করেছে। এসব ঘটনায় এখনো আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।

তিনি বলেন, জুলুম-নির্যাতনের বদলা নিতে সংগঠনকে শক্তিশালী এবং আরও গতিশীল করে রাজপথে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।

আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে না নেওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতাকর্মী ঘুমাতে পারে না।

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সেই আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার আহ্বান জানান স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস.এম জিলানী।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অধ্যাপক আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান।

সকল ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান কেন্দ্রীয় এই নেতা।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইউনুসের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী।

বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বে আগামীর আন্দোলন সংগ্রামের জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানান দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

সমাবেশে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিভিন্ন উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

সভাপতির সমাপনি বক্তব্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অধ্যাপক আজিজুর রহমান বলেন, ওয়ান ইলেভেন পরে যখন কিছুই ছিলনা তখন আমি স্বেচ্ছাসেবক দলটা গঠন করেছিলাম। এখন অনেকে স্বেচ্ছাসেবক দল করতে এসেছেন। এটাই আমার সফলতা। আমি ধৈর্য ধরেছিলাম।

তিনি বলেন, গতিশীল ছেলেরা আসতেছে দেখে আমি সবচেয়ে খুশি। তারাই আগামীর নেতৃত্ব দিবে। দলকে আরো গুছাবে। কম্পিটিশন তৈরি হবে, এটাই তো সার্থকতা। এভাবেই আমরা সংগঠনকে বেগবান করব।

তিনি আরো বলেন, আমাদের মঞ্জিলে মকছুদ হলো, চোরকে অপসারণ করা। এই চোরকে যদি দেশ থেকে অপসারণ করতে না পারি, তাহলে কিচ্ছুই হবে না।

সবাইকে আগামী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে আহবান জানান অধ্যাপক আজিজুর রহমান।