ইমাম খাইর, সিবিএন:
নো আওয়ামী লীগ নো বিএনপি, ইসলাম ইজ দ্যা বেস্ট। অতীতে কোন সরকার দেশে শান্তি আনতে পারে নি। সবাই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণের সাথে প্রতারণা করে, সম্পূর্ণ ভাঁওতাবাজির আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে আওয়ামী লীগ। সরকারের প্রতি মানুষের কোন আস্থা নেই।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে কক্সবাজার পাবলিক হল ময়দানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জনসভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে চিহ্নিত একটি বিদেশি শক্তি। তারা বহুমুখী পরিকল্পনা করছে। দেশকে বাঁচাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, কমিউনিজম, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ দুনিয়ায় শান্তি দিতে পারেনি। গণতন্ত্রের প্রবক্তা আমেরিকা সারা বিশ্বে শন্তির নীড়ে আগুন জ্বালিয়েছে। সাম্যবাদের নামে মানুষকে ধোকা দেওয়া হয়েছে।
ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ভারত আজ কিনা করছে? মুসলমানদের ভিটেবাড়ি ছাড়া করছে। হাজার বছরের মুসলিম ঐতিহ্য ভারত থেকে মুছে দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মুসলমানরা ইসলাম ছাড়া অন্য কোন তন্ত্রমন্ত্র নিয়ে সময় শ্রম দিতে পারেনা। ইসলামই একমাত্র শান্তির গ্যারান্টি।

সরকারের লোকেরা জনগণের টাকা লুটপাট করে বেগম পাড়ায় প্রাসাদ গড়ছে। আর দেশের মানুষ না খেয়ে মরছে।

পীর সাহেব বলেন, ইসলামী আন্দোলন এখন একটি বড় দল। আগামীতে তিনশত আসনে নির্বাচন করার শক্তি অর্জন করেছে।

ভারতের টিপাইমু বাঁধ নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের কড়া প্রতিবাদের মুখে ভারত মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়। তখন কোথায় ছিল আওয়ামী লীগ? প্রশ্ন মুফতি রেজাউল করিমের।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুগ্ম মহাসচিব গাজি আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষ শঙ্কিত। অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী এই সরকার দেশ জাতিকে আজ বিপর্যয়ের পথে ঠেলে দিচ্ছে। দেশ শ্রীলঙ্কার পথে ধাবিত হচ্ছে।
মন্ত্রী এমপিরা বেসামাল কথা বলে দেশের মানুষের সাথে তামাশা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের স্বাধীনতা বিরোধী বক্তব্য দিয়েও বহাল তবিয়তে। আজ দেশের স্বাধিনতা হুমকির মুখে।

তিনি বলেন, দেশই যদি না থাকে, দল আর রাজনীতি কোথায় করবেন? আগে দেশ বাঁচান। তারপর রাজনীতি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন গাজি আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, উন্নয়নের প্রকল্প হাতে নিয়ে দুর্নীতির মহোৎসব করছে। দেশে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি বিরাজমান।

দেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সবার ঐক্যের বিকল্প নেই।

সরকারি দলের নেতাদের প্রতি আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধীতা করেও বহাল তবিয়তে। শেখ হাসিনা তাদের ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেন নি। ভিনদেশীরা আমার দেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করছে বারবার। সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই।

আওয়ামী লীগ দেশের জন্য নয়, খেলাধুলার রাজনীতি করছে। তারা ক্ষমতায় থাকলে বিরোধীরা ঘরে থাকতে পারে না। তাদের নিকট কোন রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তির নিরাপত্তা নাই।

দেশের স্থায়ী শান্তি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমান ও মুফতি দেলোয়ার হোসাইন সাকী।

জেলার অতীত, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ শোয়াইব।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক রাশেদ আনোয়ারের সঞ্চালনায় জনসভায় জেলা শাখার উপদেষ্টা মাওলানা হাফেজ হারুনুর রশিদ, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা মুহসিন শরীফ, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের সভাপতি মাওলানা আমীরুল ইসলাম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান, ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা শফিউল আলম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি মিছবাহ উদ্দিন কায়সার, ইসলামী আন্দোলন কক্সবাজার পৌরসভার সভাপতি মাওলানা জাহেদুর রহমানসহ বিভিন্ন উপজেলা ও শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।