ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পাশের রাস্তায় গতিরোধ করে ঢাকা থেকে আসা পর্যটককে ছুরিকাঘাত ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার ৩ ছিনতাইকারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তারা হলো, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা মুহুরিপাড়ার মোঃ ছৈয়দ করিমের ছেলে মোঃ ইয়াছিন (২১), শহরতলীর লারপাড়ার আবদুশ শুক্কুরের ছেলে রুবেল (২০), রামু পানের ছরা মৌলভী পাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম প্রকাশ সাগর (২০)।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) কক্সবাজার আদালতের তিনজন বিচারক পৃথক জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব কুমার বিশ্বাসের আদালতে মোঃ ইয়াছিন, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মোঃ আসিফের আদালতে রুবেল ও আকতার জাবেদের আমলী আদালতে মোঃ ইব্রাহিম প্রকাশ সাগরের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারে রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম।

তিনি জানান, পর্যটক ছিনতাইয়ের মামলায় গ্রেফতার তিন আসামি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বিচারক তাদের জবানবন্দি নিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে পূর্ব কলাতলি চন্দ্রিমা মাঠ এলাকা থেকে ৩ ছিনতাইকােীকে গ্রেফতার করে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

এর আগে ২৩ আগস্ট ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পাশের রাস্তায় ছিনতাইয়ের শিকার হন ঢাকার ধামরাই থেকে আসা মোঃ সুমন নামের পর্যটক। এ সময় ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীচক্র।

ঘটনার দিনই ইফতেখার হোসেন নাবিল (২৩) নামক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সে শহরের তারাবনিয়া ছড়া এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। বর্তমানে সে কারান্তরীন।

এই ঘটনায় ভিকটিমের সাথে থাকা আরেক পর্যটক মোঃ নুরুল হক বাদি হয়ে ২৪ আগস্ট কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। যার মামলা নম্বর ৫৪/৫৫২। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮ জন আসামি করা হয়। ইতোমধ্যে গ্রেফতার হওয়া ৪ জনকে ওই মামলার আসামি দেখানো হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারে রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম জানান, গত ২২ আগস্ট ঢাকার ধামরাই থেকে ৩৯ জন পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসে। কটেজ জোনের হামজা রিসোর্টে তারা উঠে। তাদের মধ্যে সুমন হোসেন, আব্দুল আলীম, সুভাষ ও মোঃ সুমন পরের দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পাশের রাস্তা হয়ে লাবনী বিচের দিকে যাচ্ছিল। তাদের মধ্যে সুমন হোসেনের কাছে একটি ডিএসএল আর ক্যামেরা ছিল। তাদের ৪ জনের মধ্য হতে সুমন বাকিদের থেকে একটু সামনে একা একা হেটে যাচ্ছিল। ঠিক হান্ডি রেস্তোরাঁর সামনে নিউ মা আচার বিতানের সামনে একটি অটোতে করে ৭ জন ছিনতাইকারী সুমনকে ঘিরে ধরে। কিছুটা পেছনে থাকা ৩ জনকে ছুরির ভয় দেখিয়ে তাড়া করে। সুমনের সাথে ধস্তাধস্তি করে ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনিয়ে নিতে চায়। এসময়  বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা সুমনকে ছুরিকাঘাত করে ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

ধস্তাধস্তির সময় ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যায়। ট্যুরিস্ট পুলিশ খবর পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

মো. রেজাউল করিম জানান, ছিনতাইকারীদের ফেলে যাওয়া মোবাইলের সূত্র ধরে ইফতেখার হোসেন নাবিলকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে ট্যুরিস্ট পুলিশ। তার দেয়া তথ্যমতে ও উদ্ধারকৃত মোবাইলের সূত্র ধরে ছিনতাইচক্রের ৩ সদস্য মোঃ ইয়াসিন, মোঃ রুবেল ও মোঃ ইব্রাহিম ওরফে সাগরকে গ্রেফতার করা হয়। রুবেলের দেখানো জায়গা হতে ছিনতাই হওয়া ক্যামেরাটি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ক্যামেরাটি মামলার আলামত হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম।