নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জেলে পরিবারের নারী সদস্যদের স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ জাকারিয়া।

তিনি বলেন, সম্পদের সঠিক ব্যবহার না করার কারণে আমরা পিছিয়ে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসছে না। জেলে সম্প্রদায় অবহেলিত, নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকে সরকারি-বেসরকারি সুবিধা পায় না। নিজেদের স্বাবলম্বী করতে প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার করতে হবে।

মঙ্গলবার (৩০আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স হলে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে নারী জেলেদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিতকরণ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে খুরুশকুলে জেলে পরিবারের ৮জন সদস্য নিহত হয়েছে। যে যার অবস্থান থেকে তাদের সহায়তায় পাশে দাঁড়ানো দরকার।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (সদর) তারাপদ চৌহান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ হাসান,  প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অসীম বরন সেন, উপজেলা সমবায় অফিসার রমিজ উদ্দিন, যুব উন্নয়ন অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান, পোকখালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ, খুরুশকুল ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান ছিদ্দিকী।

সুইজ ব্যুরোর আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কোস্ট ফাউন্ডেশন।

প্রকল্প অফিসার সোহেল মাহমুদের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণে নারীদের ক্ষমতায়নে নিজেদের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে দেশকে সমৃদ্ধ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

সভায় বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান, গণমাধ্যমকর্মী, নারী প্রতিনিধি, জেলে, আড়তদাররা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ও পোকখালীতে নারী সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রদান, স্বাস্থ্য সেবামূলক প্রচারণা, মৌলিক অধিকার আদায়ে সহযোগিতা করা, নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানো, ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলমুখী করা, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে সরকারি আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা, ইউনিয়ন পরিষদসহ সরকারি অফিসগুলোতে নারীদের অবাধ যাতায়াত ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে কোস্ট ফাউন্ডেশন।

কক্সবাজারের তিনশত জনসহ মোট ৯০০ জেলে পরিবারের নারী সদস্যদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। তাদের প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় উপাদান প্রদান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। এসব জেলে পরিবার থেকে পর্যায়ক্রমে ১০ হাজার মানুষকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কারিগরি সহায়তা পাবে।