মো. নুরুল করিম আরমান, লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় তাছলিমা আক্তার (২৫) নামের দুই সন্তানের এক জননীর ঝুলন্ত লাশ ঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার সরই ইউনিয়নের পুইট্টাঝিরি এলাকার ইসহাক মেম্বার পাড়াস্থ নিজ ঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তাছলিমা আক্তার ইসহাক মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা আবীর হোসেনের স্ত্রী ও আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্বচাম্বী ডিগ্রি খোলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত মরহম আলীর মেয়ে। এদিকে তাছলিমা আক্তার আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, এ নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।

মৃত তাছলিমার স্বামী আবীর হোসেনের ভাষ্যমতে, শুক্রবার দিনগত রাত ১১টার দিকে জুতা কিনে না দেওয়ার বিষয় নিয়ে তাছলিমা আক্তার ও আবীর হোসেনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে অভিমান করে রাতের কোন এক সময় তাছলিমা আক্তার ঘরের ভীমের সাথে গলায় ফাঁস দেয়। শনিবার সকালে ঘরের ভীমের সাথে তাছলিমা আক্তারের লাশ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্বামী আবীর হোসেন। তবে মৃত তছলিমা আক্তারের বড় ভাই মো. হেলাল হোসেন বলেন, ২০১৬ সালে আবীর হোসেনের সাথে তাছলিমা আক্তারের ইসলামি শতিয়ত মতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। এর মধ্যে তাদের দুটি সন্তানেরও জন্ম হয়। বিয়ের পর দুই তিন বছর সংসার সুখে কাটলেও পরবর্তীতে আবীর হোসেন প্রায় সময় নানা অযুহাতে আমার বোনকে মারধর করত। গত ঈদ উল্ আযহার পরদিন রাতেও আমার বোনকে মারধর করেছে সে। এরপরও দুটি সন্তানের দিকে তাকিয়ে আমার বোন সব সহ্য করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার বোন তাছলিমা আক্তারকে বাঁচতে দিল না, হত্যা করে ঘরের ভীমের সাথে ঝুলিযে রেখে এখন আতœহত্যা বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে আবীর হোসেন। এ ঘটনায় আমরা আইনের আশ্রয়ন নিবো।

এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক সূরতহাল শেষে গৃহবধূ তাছলিমা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।