ফারুক আহমদ , উখিয়া :

উখিয়ায় সরকারি বনবিভাগের জায়গা প্লট আকারে বিক্রির প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এতে করে সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি বেহাত হয়ে জবর দখলকারী হাতে চলে যাচ্ছে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে , উখিয়া রেঞ্জের অধীনে হলদিয়াপালং বনবিটে ৯৯০ হেক্টর বনভূমি রয়েছে । তৎমধ্যে অল্প পরিমাণ জাগায় বনাঞ্চল থাকলেও শত শত একর বন ভূমি বেদখলে চলে গেছে।
অভিযোগে প্রকাশ , হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ঘাটি পাড়া এলাকায় বনবিভাগের জায়গা ক্রয় বিক্রিকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে ।
আবদুল কাদের নামের জনৈক ব্যক্তি বন বিভাগের বিপুল পরিমাণ জায়গায় ৫ টি প্লট বানিয়ে বিক্রির জন্য তোড়জোড় শুরু করেছে। ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বন বিভাগের জায়গা বিক্রির ঘটনা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে , রত্না পালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া পালং আচ্ছর বাপের পাড়া গ্রামের মোবারক হলদিয়া পালংয়ের ঘাটি পাড়া গ্রামের আকতার মিয়া, ও আমীর হামজা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সরকারি বন ভূমি অবৈধ ভাবে ক্রয় করছে।
হলদিয়া পালং বনবিট কর্মকর্তা ছৈয়দ আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সরকারি বনভূমি প্লট বানিয়ে বিক্রি করতেছে মর্মে আমরা খবর পেয়েছি । বনবিভাগের জায়গা জবর দখল করে কেউ অবৈধ ভাবে স্হাপনা তৈরি করলে কতৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে স্হাপনা উচ্ছেদ সহ মামলা করা হবে। রাতের আধারে কারা বন ভূমি দখলে লিপ্ত রয়েছে তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করার জন্য ভিলেজার আবদুস শুক্কুরকে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই বিট অফিসার।
স্হানীয় নাগরিক সমাজের মতে সরকারি বনবিভাগের জায়গা জবর করে প্লট বানিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার ঘটনা রীতিমতো সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ ভাবে চলতে থাকলে বন বিভাগের জায়গা বেদখল হয়ে জবরদখল কারীদের হাতে চলে যাবে।
ভিলেজার আবদুস শুক্কুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন , বন পাহারাদার হিসাবে আমরা বন বিভাগের পতিত জায়গায় পানের বরজ, ক্ষেত খামার ও বাগান পরিচর্যা এবং রক্ষণা বেক্ষন করে পরিবার পরিজন নিয়ে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। কিন্তু ভূমি দূস্যরা মোটা অংকের টাকা দিয়ে বন বিভাগের ভিলেজারি জায়গা কেড়ে নিয়ে বিক্রি করা খুবই দুঃখ জনক ।
পরিবেশ বাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সরকারি বন বিভাগের বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধার সহ জবরদখল কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নিকট দাবি জানিয়েছেন।

###