জাহেদ হাসান:
কক্সবাজারের রামু দক্ষিণ মিঠাছড়ির চেইন্দা খোন্দাকারপাড়ায় প্রতিবেশীর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সইতে না পেরে বিষপানে সাবিকুন নাহার নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রবিবার (৩ জুলাই) দুপুর ১টায় নিজ বসত ঘরে বিষপান করে আত্নহত্যা করেছে বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছেন।

খবর শুনে নিহত সাবিকুন নাহারের বোনের জামাই এসে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিওতে নিয়ে গেলে সেখানে সাবিকুন নাহারের মৃত্যু হয়। নিহত সাবিকুন নাহার ৫ সন্তানের জননী, তার দুই ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে।

নিহত সাবিকুন নাহার মিঠাছড়ির চেইন্দা খোন্দাকারপাড়ার মৃত মোহাম্মদ ইসহাক এর ছেলে মৃত আব্দুর রহিমের স্ত্রী।

নিহতের বড় মেয়ে সাদিয়া আক্তার বলেন, আমার পিতার মৃত্যুর পর থেকে আমার মা আমাদের অনেক কষ্ট করে লালনপালন করে আসছে,এবং অনেক কষ্ট করে ধারদেনা করে আমার বিয়ে দিয়েছে।এমনকি আমার ছোট ভাইবোনদের অশিক্ষিত না রেখে লেখাপড়া করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে দিয়েছে।

সাদিয়া আক্তার আরও বলেন,দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী আবুল কালাম এর স্ত্রী হোসনে আরা ও শামশু আলমের স্ত্রী দিলদার বেগম মিলে সকলে আমার মা সাবিকুন নাহার কে নানান প্রকার অত্যাচার চালিয়ে আসছে,প্রায় সময় আবুল কালাম এর স্ত্রী হোসনে আরা তার স্বামীর সাথে সাবিকুন নাহারের অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে ঘরে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ শারীরিক নির্যাতন করতো।এবিষয়ে অনেকবার স্হানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিকে অবগত করা হলে তার সমাধান করে দেয়ার আশ্বাস দেন এবং বিচারের দিন ঠিক করে।

এরপরও আবুল কালামের স্ত্রী হোসনে আরা কারো কথা শুনে আমার মা সাবিকুন নাহার কে অত্যাচার শুরু করে এবং শারীরিক নির্যাতন করে।ফলে আমার মা হোসনে আরার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ঘরে এসে বিষপান করে আত্নহত্যা করে।

নিহতের আত্মীয়স্বজনরা বলেন, প্রতিবেশী হোসনে আরা তার স্বামী আবুল কালামের সাথে সাবিকুন নাহারের অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে প্রায় সময় সাবিকুন নাহারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। এবিষয়ে স্হানীয় জনপ্রতিনিধি বিচার করে দিবে বলে উভয়পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেন।তারপরও হোসনে আরা অত্যাচার বন্ধ না করে প্রতিনিয়ত জ্বালাতন করে আসছে। ঘটনার কয়েকদিন আগে আরেক প্রতিবেশী শামশু আলমের স্ত্রী দিলদার বেগম হোসনে আরা কে গিয়ে বলে- তোমার স্বামী আবুল কালাম সাবিকুন নাহারের সাথে বেড়াচ্ছে, হোসনে আরা এই কথা শুনে সাথে সাথে সাবিকুন নাহারের বাড়িতে গিয়ে তাকে গালিগালাজসহ শারীরিক নির্যাতন করে। আবুল কালাম তার স্ত্রী হোসনে আরা, শামশু আলম ও তার স্ত্রী দিলদার বেগম মিলে নির্যাতন করে সাবিকুন নাহারকে মেরে ফেলেছে। তারা সাবিকুন নাহারকে বিষপানে আত্নহত্যা করতে বাধ্য করেছে। এ ব্যাপারে আমরা আইনের শরণাপন্ন হবো এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি।

নিহতের পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী হোসনে আরা তার স্বামী আবুল কালাম এবং শামশু আলমের স্ত্রী দিলদার বেগম তাদের সকলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে সাবিকুন নাহার বিষপানে আত্নহত্যা করেছে। তারা ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সুপার সহ রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগীতা কামনা করেছেন।

 
  
%d bloggers like this: