এস.এম.জুবাইদ, পেকুয়াঃ

কক্সবাজারের পেকুয়ার কাটাফাঁড়ি ব্রিজ হতে উজানটিয়া সোনালী বাজার সংযোগ সড়কের নাজুক অবস্থায় পরিণত হয়েছে। পেকুয়ার সাথে যোগাযোগের এক মাত্র মাধ্যম কাটাফাঁড়ি ব্রিজ থেকে সোনালী বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়ক। এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলে মনে হয় এ যেনো মরণফাঁদ। ঘটছে প্রতিদিন নানা দুর্ঘটনা। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে দুই ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজারের অধিক মানুষ।
এ সড়কে মোট সাত টি ছোট ছোট কালভার্ট আছে এরই মধ্যে দুই টির অবস্থা খুবই ঝুঁকি পূর্ণ। যেকোন মুহূর্তে ভেঙ্গে গিয়ে পেকুয়ার সাথে উজানটিয়া তথা মাতারবাড়ির লোকজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকা করছে সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা এ সড়কের উন্নয়ন নিয়ে বার বার লুকোচুরি খেলছে। সরকারী দপ্তর থেকে বার বার বরাদ্দ হলেও রহস্যজনক কারণে সড়ক সংস্কার করে না। স্থানীয় রহিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি জানান, এখানে এই সড়ক এবং কালভার্ট সংস্কার করবে না জনপ্রতিনিধিরা। কারণ তারা এখানকার চিংড়ি প্রজেক্ট ও লবণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা নিয়ে থাকে। ওই কালভার্ট দিয়ে লবণের পানি ডুকিয়ে চিংড়ি চাষ ও লবণ উৎপাদন করে। এটি যথাযথভাবে সংস্কার করা হলে ওই সব অসাধু ব্যবসায়ীরা তা করতে পারবে না। এ কালভার্টটি ধেবে গিয়ে সড়কটি দিন দিন চরম ঝুঁকিতে পতিত হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা।
এদিকে এ সড়ক দিয়ে উজানটিয়া ও মাতারবাড়ীর লোকজন তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহন করে নিয়ে যায়। এ সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে তাদের চরম দূভোগ পোহাতে হয়। বলতে গেলে এ দূভোর্গ দেখার যেন কেউ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ সড়কে যাত্রীরা খুবই ঝুঁকি পূর্ণ অবস্থায় চলাচল করে। কারণ সড়কের দূপাশেই নদী একটু এদিক ওদিক হলেই গাড়ী উল্টে গিয়ে নদীতে পতিত হয়। সড়কটি এমনই কালভার্ট ধেবে গিয়ে কংকরগুলো ছটাছিটানো হয়ে গেছে। এসব ছটাছিটানোর কংকরের উপর দিয়ে গাড়ী চলাচল করলে চাকা এদিক ওদিক চলে গেলে চালক গাড়ীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেলে। আর রাস্তায় ছোট বড় অনেক গর্তে হয়েছে। গত ৩০ মে বিকালে পেকুয়া বাজার হয়ে উজানটিয়া যাওয়ার পথে মালবাহী একটি নছিমন করিমন ট্রলি উল্টে গিয়ে গাড়ীর মালামালসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়। এসব দূঘটনার দায় নিবে কে এমন প্রশ্ন এলাকাবাসীর।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, এ সড়ক ২০-২১ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এল জি আইডি) হতে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার চকরিয়ার ফরিদুল আলম কালভার্টের বরাদ্দ নেই অযুত তুলে সড়কটি সংস্কার না করে বাকী কাজ শেষ করে তিনি ওই প্রকল্প সমাপ্তি করে।

উজানটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক জালাল উদ্দীন বলেন এলজি আইডির কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীন কর্মকান্ডের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় হয়। এ সড়কটির জন্য প্রতিবারই লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের সাথে আতাত করে তাদের পকেটে নেন ওই বরাদ্দের টাকা।

উজানটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কক্সবাজার জজকোর্টের আইনজীবি এডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু বলেন নাজুক অবস্থার জন্য দায়ী কে। আর এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পেকুয়ার সাথে যোগাযোগ ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে জনদূভোগ আরো বেড়ে যাবে। তাই অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারী বর্ষার আগে এ সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার করে জনদূভোগ লাঘবের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী লুৎফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে আমি আপতত যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দিচ্ছি। এটা টেকসই ভাবে করার জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমার সাথে কথা হলে তিনি বলেন এটি কালভার্ট নিমার্ণের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠাতে বলছি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। তারপরও চলাচলের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।