রাজু দাশ ,চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষের নাভিঃশ্বাস উঠেছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম। কয়েক মাসের ব্যবধানে ভোজ্য তেলের ৪০ থেকে ৫০টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের সঙ্গে বাজারে ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলছে নিত্যপণ্যের দামও। এমন প্রেক্ষাপটে নিত্যপণ্যের দামে মাথায় হাত দিয়ে কাঁদাচ্ছে মানুষ।

রবিবার (২৯ মে) চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে বিরাজ করছে অস্বস্তি। আয়ের সঙ্গে খরচের ভারসাম্য রাখতে গিয়ে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের কাটছাঁট করতে হচ্ছে প্রতিদিনের বাজার তালিকা। এভাবে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে মানুষের জীবনে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জরুরি নিত্যপণ্য চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা-ময়দা, পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম বেড়েই চলেছে। একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মসলা জাতীয় পণ্যের দামও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকমাসের ব্যবধানে প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম বেড়েছে ৪০-৫০ টাকা করে। গত এক মাসআগে পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ছিল ৭৫০ টাকা। সেই সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৯৮০ টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ লিটারের বোতলে দাম বেড়েছে ২৩০টাকা। এক মাসে ব্যবধানে পাঁচ লিটারের বোতলের দাম বেড়েছে ২৩০ টাকা। এ ছাড়া এখন এক লিটার বোতল ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। যদিও কয়েক মাস আগে এ তেলের দাম ছিল ১৬০ টাকা। এ ছাড়া দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে আদা, ময়দা, হলুদ, তেজপাতাও। কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে আমদানি করা আদা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। ১৩০ টাকা কেজি হলুদ এখন বিক্রি হচ্ছে দরে। ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া তেজপাতা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। ১৩০ টাকা কেজি ধনে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা। দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির। অন্যদিকে বাজারে সব ধরনের চালের কেজিতে ৩ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫, মিনিকেট ৮০, কাটারি ৭৫, টাকায় বিক্রি হয়েছে। আটা-ময়দা কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। খোলা আটা ৪৫, প্যাকেট (দুই কেজির) আটা ১২০, প্যাকেট ময়দা ৬০ টাকা কেজি। মুরগি ও গরুর মাংস এবং ডিমের দাম বেড়েছে। ফলে এসব পণ্য কিনতে সব শ্রেণির মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।
খুচরা ব্যবসায়ী জানান, বাজারে সব পন্যের দাম এখন বেশি। তবে অন্য পণ্যের তুলনায় তেলের দাম প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পেকেটজাত তেলের চেয়ে খোলা সোয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাজারে লাভ বেশি হচ্ছেনা। ক্রেতারা অল্প করে তেল ক্রয় করছে।

মুদি দোকানদার আরিফুল ইসলাম জানান, পাইকাররা তেলের সংকট সৃষ্টি করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়াচ্ছে। সংকট তৈরি করে অতি মুনাফা অর্জনের জন্যই এই কাজ করছে। এতে ভোক্তার ওপর চাপ বাড়ছে। এ কারণ আমাদের বেশি দরে কিনে আনতে হলে বেশি দরেই বিক্রি করতে হবে।
তেলের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ায় সাধারণ জনগণের মাঝে দেখা যাচ্ছে প্রতিক্রিয়া। দাম বাড়লেও কর্ম সংস্থানে নেই মজুরি বৃদ্ধির সুযোগ এতে ক্ষিপ্ত সাধারণ জনগণ।

চিরিংগা কাঁচা বাজারের নিত্যপণ্য বাজার কিনতে আসা ইয়াসমিন আক্তার জানান, আমরা সাধারণ মানুষ। আয় রোজগার নেই আমাদের সেরকম। প্রতিনিয়ত নিত্য পণ্যের দাম বাড়ার ফলে, আমাদেরকে না খেয়ে থাকতে হবে। যত আয় হয় সে অনুয়ায়ী সারা মাসের পণ্য ক্রয় করা কষ্টকর হয়ে দাড়ায় আমাদের জন্য। তেলের দাম দিন দিন বাড়ায় আগের চেয়ে পরিমাণে কম ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাছাড়া সবজি, চাল, ডাল কোনোটার দামই কম না। নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে আমার মত নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষদের বাজার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আরো বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, আগের মতো আয় নেই, অথচ খরচ বাড়তেই থাকছে। পরিবারের সবার মুখে ডাল-ভাত দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পরিবারের কর্তারা। আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেলাতে পারছেন তারা।

পৌর শহরে গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে চায়ের দোকানদার ফনিন্দ্র কুমার দাশ জানান, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম আকাশ ছোয়া, আগে যে সিলিন্ডার ৯৫০ টাকায় কিনেছি বর্তমানে এটি ১৪৭০ টাকা দাবী করছে, নিত্য পণ্যের দাম বাড়লেও স্বাভাবিক মূল্যেই খাবার বিক্রি করছি। পূর্বের তুলনায় প্রতিদিন খরচ অনেক বেড়েছে। আমি দিন আনি দিন খাই। দিনশেষে নিজের পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছি।

এ নিয়ে বেশ কেয়কজন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ হলে তারা জানান, আমাদেরকে বাজার থেকে পণ্য বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। সেই জন্য বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। এদিকে ভোজ্য তেলের মূল্য নিয়ে তামাশায় মেতেছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা, তেলের বোতলের গায়ে লেখা মূল্যের তুলনায় বেশি মূল্যে তেল বিক্রি করছেন তারা।প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মহল পণ্যমূল্য কমাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান বলেন, যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।