শাহী কামরান: প্রতারকদের ভিড়ে ভাল কাজের এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছেন তিনি। সাধারন জনগন ও রোগীদের আস্থা বাড়ছে তার প্রতি। নরমাল ডেলিভারী থাকে ছাড়া যেন চিন্তা করা যায় না। তার হাতে যেন ডেলিভারীর জাদু আছে। যে কোন ডেলিভারী রোগী বা তার স্বজনরা হাসপাতালে গেলে খোঁজেন তাকে। এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তিনি সিনিয়র নার্স আইয়ুরা বিলকিস (৪২)।

তিনি ২০০৫ সালে নার্স হিসেবে যোগদান করেন কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার চেইন্দা মা ও শিশু হাসপাতাল (বর্তমানে হোপ হসপিটাল)। দীর্ঘ ১৭ বছরের অভিজ্ঞতার এই মহিলা ধরলেই যেন নরমাল সন্তান প্রসব করেন মায়েরা। এমনটাই বলছেন নরমাল সন্তান প্রসব করা একাধিক সুবিধাভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বেশ কয়েকজন সন্তান প্রসব করা মায়েরা জানান, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় ক্লিনিক ও হাসপাতালে সিজারের ব্যবসা চলছে দেদারছে। কেউ কারো তোয়াক্কা করছেনা। প্রসূতি মায়েদের ভর্তি করা মাত্র বিভিন্ন অজুহাতে ভয় দেখিয়ে অপারেশনমুখী করছে যা মায়েদের জন্য অধীক স্বাস্থ্য ঝুঁকি। কিন্তু তার ব্যতিক্রম দেখলাম হোপ হসপিটালের সিনিয়র নার্স আইয়ুরা বিলকিস। তিনি প্রসূতি মায়েদের ভরসা দেন নরমাল প্রসবের। শুধু হাসপাতালে তিনি নরমাল ডেলিভারী করান তা কিন্তু নয়। বিশেষ আত্বীয় স্বজনের অনুরোধে রাত বিরাতে বাসায় গিয়ে তিনি ডেলিভারী করিয়ে আসছেন যা আমাদের নিজ চোখে দেখা।

গত ২৮ মে হোপ হসপিটালে সদ্য বাচ্চা জন্ম দেওয়া ইয়াসমিন জানান, একজন আত্বীয়ৈর কাছে শুনেছি ওনার কথা। আমার প্রথম ডেলিভারী ছিল এটি। অনেক ভয়ে ছিলাম কি না কি হয়। আমার পুরা পরিবার চিন্তিত ছিল ডেলিভারী নিয়ে। গত ২৭ তারিখ আমার প্রসব ব্যাথা উঠে। চেইন্দা হোপ হসপিটালে এসে যথারীতি ভর্তি হয়। ২৮ মে সকালে সিনিয়র নার্স আইয়ুরা আপা ডিউটিতে আসেন এবং আমাকে দেখেন। দেখামাত্র তিনি ভরসা দিলেন নরমাল ডেলিভারী করা সম্ভব। একটু সময় লাগবে ও কষ্ট সহ্য করতে হবে। ঠিক তার ২ ঘন্টা পর আমি একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান প্রসব করি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে।

সিনিয়র নার্স আইয়ুরা বিলকিস এর দেওয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৩ হাজারের অধিক নরমাল সন্তান প্রসব করিয়েছেন তিনি। বিশেষ অসুবিধা থাকায় সিজারের পরামর্শ দিয়েছেন হাতে গুনা কয়েকটা। তার অভিজ্ঞতা জীবনে ১টি মাত্র ফরসেপ ডেলিভারীও করেছেন।
তিনি জানান, ডেলিভারী করার কাজটা আমি উপভোগ করি। এটি আমার পেশাগত দায়িত্ব। একটি ডেলিভারীর মাধ্যমে একটি পরিবারের মুখে হাসি ফুঁটে। যদি হয় নরমাল ডেলিভারী তাহলে তো কথায় নেই। যতদিন বেচেঁ থাকেবেন সবার দোয়া নিয়ে বাচঁতে চান এমনটাই জানান মুখে এক চিলতে হাসি রেখে।

হোপ ফাউন্ডেশনের কান্টি ডিরেক্টর কেএম জাহেদুজ্জামান বলেন, তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রবীন নার্স। বর্তমানে তার পদবী সিনিয়র স্টাফ নার্স। তার অসাধারন মেধা দিয়ে সে দীর্ঘ বছর হোপ হাসপাতালে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। গত ১২ মে বিশ্ব নার্স দিবসে সে পুরস্কৃত হয়েছে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে। অনেক সময় অনেকে ইচ্ছাকৃত বা রাগের মাথায় না বোঝে অনেক কিছু বলে। অনেকে ঈর্ষান্বিত হয়ে অনেক মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করে অনেক কথাবাত্রা বলে। তখন বিষয়টা নিয়ে আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ি।

উল্লেখ্য যে, কক্সবাজারের সন্তান আমেরিকা প্রবাসী ডা: ইফতেখার মাহমুদ (মিনার) ১৯৯৯ সালে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে এটির নাম ছিল ‘মা ও শিশু হাসপাতাল’ যার বর্তমান নাম হোপ হসপিটাল।

 
  
%d bloggers like this: