সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাদের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগস্ত হয়েছে তাদের জীবকায়ন শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করার জন্য ৮টি তথ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করছে আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা একশন এগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ)। উপজেলার কাউয়ারখোপ, রাজারকুল, খুনিয়াপালং এবং দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বাজারে ৮টি কমিউনিটি তধ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এতে আর্থিক ও কারগরি সহায়তায় দিচ্ছে জিআইজেড। এসব তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে জীবিকায়ন সংক্রান্ত তথ্য-পরামর্শ প্রাপ্তির মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠী তাদের জীবিকায়নকে আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করতে পারবে বলে আশাবাদ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যেখানে উদ্যোক্তা সুবিধাভোগীদের যেকোনো ধরনের তথ্য প্রদান, ফর্ম পূরণ, চাকরির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিষেবা প্রদান করবেন এবং তারা উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য শিক্ষানবিশ নিয়োগের করে তাদের প্রশিক্ষণও প্রদান করে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে রামু উপজেলার সম্মেলন কক্ষে‘আইসিটি আইটেম হ্যান্ডওভার ইভেন্ট’ শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ তথ্য জানান।

প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব প্রণয় চাকমা।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ নুরে আলম মজুমদার, জেআইজেড এর সিনিয়র এডভাইজার মোবাশ্বেরুল ইসলাম, এসিএফ এর ইনফো হাব প্রজেক্টের প্রোগাম ম্যানাজার মোঃ মাসুদ রানা, সিনিয়র ম্যানাজার- পার্টনারশিপ এন্ড ইন্সটিটিউশনাল ইফতেখার আহমেদ খান, সিনিয়র অফিসার- পার্টনারশিপ এন্ড ইন্সটিটিউশনাল সুমন চন্দ্র দাস।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসিএফ এর এসিএফ এর ইনফো হাব প্রজেক্টের প্রোগাম ম্যানাজার মোঃ মাসুদ রানা ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জিআইজেড এর সিনিয়র উপদেষ্টা মোবাশ্বেরুল ইসলাম, এটিএন নিউজের কক্সবাজার ডিস্ট্রিক করেস্পনডেন্ট অর্পন বড়ুয়া এবং রামু উপজেলার ইনফো হাব প্রজেক্টর সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার এসএম বেলালুর রহমান।

প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশ সরকারের ইউডিসি পরিষেবা এবং জিআইজেড-এর সহযোগিতাায় ডিজিটাল দক্ষতার মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে স্থায়িত্বশীলতা অর্জন করা ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, রামু উপজেলার চারটি ইউনিয়ন কাউয়ারখোপ, রাজারকুল, খুনিয়াপালং এবং দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের সওদাগর পাড়া, মনিরঝিল, হালদারকুল, পাঞ্জেগানা , দারিয়ারদিঘী, ধোয়াপালাং, পানেরছড়া এবং চেইন্দা বাজারে মোট আটটি কমিউনিটি তথ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ ইতিমধ্যে শেষ করেছে। এসব তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর অন্তত পক্ষে ছয় ধরনের তথ্যসেবা কার্যক্রম পরি চালিত করা হবে।

এর মধ্যে বাজার মূল্য সংক্রান্ত তথ্য পাবেন উপকারভোগীরা। এছাড়াও প্রকল্প এলাকায় চাকুরী প্রত্যাশীরা, শিক্ষিত তরুণ-তরুণী চাকুরী সংক্রান্ত সকল তথ্য পাবেন। বিদ্যমান কৃষি, মৎস্য, প্রাণী, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমসমূহ সম্পর্কে এলাকার জনগন সকল তথ্য পাবেন।
গ্রামীন জনগোষ্ঠী কৃষি এবং অকৃষি বিষয়ক জীবিকায়ন কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য, সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণে যে সুযোগ রয়েছে সে সম্পর্কে জানতে পারবেন।

রামু উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা উদ্যোক্তা তৈরীর কারখানা হিসাবে কাজ করার জন্য এসিএফ এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে। কিন্তু অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল রয়েছে যেখান থেকে দূরত্ব এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে সেখানে বসবাসরত জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা ঠিকমতো গ্রহন করতে পারছেন না। এই প্রকল্পের প্রত্যেকটা তথ্যসেবাকেন্দ্র প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সাথে এসব তথ্য সেবা কেন্দ্রে যেন সাংঘর্ষিক না হয় সে বিষয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রাখার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন ।
প্রত্যেকটি কমিউনিটি তথ্য সেবা কেন্দ্রে জেআইজেযের পক্ষ থেকে প্রদানকৃত দুইটি ল্যাপটপ, একটি মাল্টিফাংশনাল প্রিন্টার, ৩৫০০ কিলোভোল্টএ্যাম্পিয়ারেরএকটি আইপিএস, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং একটি ওয়াইফাই রাউটার মাননীয় উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট তথ্যকেন্দ্রের উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।