কামরুল ইসলাম মিন্টু , একাত্তর টিভি:

চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের রামু পর্যন্ত রেলপথের কাজ দ্রুত শেষ করতে, পুরোদমে কাজ করছে রেল মন্ত্রণালয়।

পথটি চালু হওয়ার পর কক্সবাজারের পর্যটন-অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। রেল কর্মকর্তারা জানান, এই পথে রেল চলবে ২০২৩ সালে।

দোহাজারী থেকে রামু পরে ঘুমধুম পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে রেললাইন। থাকবে ৯টি স্টেশন। এর একটি তৈরি হবে শামুকের আদলে।

এগুলো হলো—সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ঈদগাঁও, রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও ঘুমধুম। সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে তিনটি বড় সেতু।

এ্যানিমেশন চিত্রে কক্সবাজারের রেললাইনের নান্দনিক পরিকল্পনার কিছুটা এসেছে। তবে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেল সম্প্রসারণের কাজ পরিকল্পনা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

শুরুতে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে পরিকল্পনা নেয়া হয়।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পর্যটক পরিবহন ছাড়াও কম খরচে মাছ, লবণ, কাগজের কাঁচামাল, বনজ ও কৃষিজ দ্রব্যাদি পরিবহন করা যাবে।

রেলওয়ে মন্ত্রনালয়ের এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ফারহাদ হোসেন বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে ৭০ শতাংশ।

এরই মধ্যে বসানো হয়েছে কক্সবাজার অংশের প্রায় ১০ কিলোমিটার রেল ট্র্যাক, কালভার্ট, লেভেল ক্রসিং, হাইওয়ে ক্রসিংয়ের নির্মাণ এগিয়ে ৬০ শতাংশে এসে থেমেছে।

তাছাডা নির্মাণ চলছে সমুদ্রের শামুকের আদলে দৃষ্টি নন্দন আইকনিক রেল স্টেশন। এলাকার লোকজন বলছেন, এই রেললাইন পর্যটকদের যাতায়াত আরাম ও নিরাপদ করবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ জানান, রেল চলাচল শুরু হলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প বিকাশ ও এখানকার মানুষের জীবন মানে পরিবর্তন আসবে চোখে পড়ার মতো।

রেল মন্ত্রণালয় আশা করছে, ২০২৩ সালের মধ্যে এই এই পথে ছুটবে ট্রেন। আর সেই লক্ষ্যেই সব কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

 
  
%d bloggers like this: