সোয়েব সাঈদ, রামু:
“নৌকা বিরোধীদের আওয়ামী লীগের দায়িত্ব দেওয়া হবে না” বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার এ নির্দেশকে সামনে রেখে রামু উপজেলার তৃণমূল আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল।
সংসদ সদস্য কমল বলেন- উপজেলা আওয়ামীলীগের তৃণমূলের সকল নেতৃবৃন্দকে আগামী দিনেও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে থেকে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক আগামীতে কোন নৌকা বিরোধীরা আওয়ামীলীগের দায়িত্বে থাকতে পারবে না।
বুধবার (৪ মে) বিকালে রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য, প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কবির সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় উপজেলার তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে সম্মেলন করতে সংগঠনের সভাপতি, বঙ্গবন্ধুকন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মতে সম্মেলন ও কাউন্সিল করারও দাবী জানান।
বক্তারা বলেন, বিগত নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মন্ডল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছিলেন।
এছাড়া রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন, আর সাধারণ সম্পাদক বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের নৌকার পক্ষে কাজ করায় তারা বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে নিজেদের পকেট কমিটি গঠন করেছেন। সভাপতির বিরুদ্ধে দখলবাজী, চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎ, বৌদ্ধ মন্দির হামলার অভিযোগ এবং সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণামতে তারা আর আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকতে পারবেনা।
মতবিনিময় সভায় তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ আরো বলেছেন, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আনারস মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেন এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মন্ডল ওই বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, রশিদনগর, চাকমারকুল ও খুনিয়াপালং ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি-জামাত সমর্থিত ও বিদ্রোহীদের নিয়ে পকেট কমিটি ঘোষণা করেন।
উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে। কিন্তু অদৃশ্য কারনে তিনি এখনও সভাপতি পদে বহাল তবিয়তে থাকায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাদেরকে বয়কট করছে।
তারা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি -সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখা কমিটি গঠনে অর্থের বিনিময়ে বিএনপি-জামাত সমর্থিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে। বিশেষকরে জাতীয় সংসদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট করে তাদেরকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিতে পদায়ন করে।
আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল বিভিন্ন সময় অস্ত্র হাতে জমি দখলের কথা রামুবাসি জানে। তিনি বিচারের নামে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠানের নামে গণহারে চাঁদাবাজি করে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন। রামুর ব্যবসায়ি সমাজের কাছে সোহেল সরওয়ার কাজল একটি আতংকের নাম।
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুতে সংগঠিত বৌদ্ধ মন্দির হামলায় সোহেল সরওয়ার কাজলের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সে সময় তিনি রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ওই সময় তার ভুমিকা রহস্যজনক থাকায় রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি -সাধারণ সম্পাদক গত ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-জামাতের প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নৌকা প্রতীকের জন্য অজনপ্রিয় ব্যক্তিদের নাম কেন্দ্রে পাঠান। যার কারনে বিভিন্ন ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়।
রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মন্ডল একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। তিনি বিভিন্ন মাদক কারবারিদের নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরী করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। মাদকাসক্ত অবস্থায় বিভিন্ন সভা সমাবেশে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বেফাঁস বক্তব্য দেয়। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কোন উন্নয়ন হয়নি বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার বলে বিভিন্ন জনসভায় প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে বিএনপি-জামাতকে উস্কানি দিচ্ছেন।
এছাড়া বিভিন্ন অপকর্মের কারনে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের জনপ্রিয়তা বর্তমানে শূণ্যের কোটায়। উপমহাদেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে বর্তমান বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে সম্মেলন করার জোর দাবী জানান তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
সভায় তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- রামু উপজেলার প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা, কক্সবাজার সরকারি কলেজ সংসদের সাবেক ভিপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক রেজা, প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইসহাক বাঙ্গালী, মাস্টার ফরিদ আহমদ, ছিদ্দিক আহমদ সওদাগর, নুরুল হক, হাবিবুল্লাহ চৌধুরী, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গণি সওদাগর, সাবেক চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাংবাদিক আব্দুল মাবুদ, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল গফুর কোং, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, গর্জনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব সিকদার, চাকমারকুল ইউনিয়নের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম সিকদার, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য নুরুল হক, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওসমান সরওয়ার মামুন, প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা হাছন আলী, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর সিকদার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সহ সভাপতি মো. হাসেম, রাজারকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম সিকদার, জোয়ারিয়ানালার প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা রোস্তম আলী, রফিক আহমদ, কচ্ছপিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দীন সোহেল সিকদার, মোহাম্মদ আলম সওদাগর, মোহাম্মদ আলী সওদাগর প্রমুখ।
রামু উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তপন মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তৃণমূলের হাজারো আওয়ামী লীগ নেতা নৌকা প্রতীকের বিরোধিতাকারিদের প্রত্যাখান করে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নৌকার পক্ষের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং কেন্দ্রীয় ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তমতে নৌকা বিরোধীদের বাদদিয়ে কমিটি গঠনের অনুরোধ জানান। নেতৃবৃন্দ নৌকার পক্ষের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে একটি আহবায়ক কমিটি গঠনেরও দাবি জানান।

 
  
%d bloggers like this: