পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদে ছেলে চুরি করেছে এমন অপরাধে দুই নারীকে দিনভর আটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

পরে ঘটনার ৮ঘন্টা পর পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের জিম্মায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে ৫ মে বিকালে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে।

এই ঘটনার পরপর পরিবারের পক্ষ থেকে দুই নারীকে জিম্মায় নিয়ে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী নারীর আত্মীয় স্বজন ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছেলে পানির মোটর চুরি করেছে এমন অপরাধে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের দক্ষিণের ঝুম গ্রামের আহমদ হোসেনের স্ত্রী রাশেদা পেক (৩৬) ও মোজাহের মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে বাড়ী থেকে সকাল ১০ টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে এসে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এছাড়াও আগের রাতেও ওই দুই নারীকে পরিষদে ডেকে আরেক দফা মারধর করেছিল ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিলখালী ইউপি কার্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রেখে ইউপি চেয়ারম্যান নিজের হাতে লাঠি নিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে পেকুয়া থানার এসআই মিন্নত আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। এসময় পুলিশ দুই নারীকে পরিষদ থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় ছেড়ে দেন।

ভুক্তভোগী নারী রাশেদা বেগম বলেন, তার ছেলে হুমায়নকে চুরির মিথ্যা অপবাদে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে পরিষদে নিয়ে সাথে। সাথে তিনিসহ অপর এক নারীকেও পরিষদে এনে আটকে রেখে মারধর করেছে।

ভুক্তভোগী নারী মনোয়ারা বেগম বলেন, চেয়ারম্যান কামাল আমাদের আটকিয়ে রেখে ক্লান্ত না হয়ে লাঠির আঘাতে পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত করেন। এক পর্যায়ে স্টাম্প নেয়ার পর ৫০হাজার টাকা দাবী করেন। টাকা না দেয়ায় ইয়াবা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিবেন বলে হুমকি দেন। আমরা চেয়ারম্যানের এমন ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিব।

শিলখালী ইউপির সদস্য আহমদ ছবি বলেন, দুই ছেলে বহু মালামাল চুরি করেছে। তাদেরকে থানায় এনে ছেলেদের হাজির করার জন্য বলেছি। ২০হাজার টাকা করে জমা করার জন্য চেয়ারম্যান নির্দেশ দেন যাতে পরে ক্ষতি পূরণ দেয়া যায়।

চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, ছেলেগুলো চোর। তাদের মাকে নিয়ে এসেছি ছেলেগুলোকে হাজির করার জন্য। বেধে রাখার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

পেকুয়া থানার এসআই মিন্নত আলী বলেন, দুই নারীকে আমরা বেধে রাখার সময় পায়নি। তবে এক ছেলেকে চুরি করার অপরাধে থানার জিম্মায় আনা হয়েছে।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কানন সরকার বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। দুই মাকে আমার বরাবর পাঠালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
  
%d bloggers like this: