আব্দুস সালাম,টেকনাফ(কক্সবাজার)
বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনদ্বীপ চ্যানেলে এক জালে প্রায় ১৫ মণ ওজনের ১২০টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের মালিকানাধীন এফবি রহমান নামের ট্রলারে এই মাছগুলো ধরা পড়ে। একেকটি মাছের ওজন সাড়ে চার থেকে ছয় কেজি পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রলারটি শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাটে পৌঁছালে স্থানীয় উৎসুক জনতা মাছগুলো দেখতে ভীড় জমান। এরই মধ্যে মাছগুলো তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ফিশিং ট্রলারের মালিক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ট্রলারটি গত বুধবার দুপুরে শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মোহাম্মদ আলী মাঝির নেতৃত্বে ৯ মাঝিমাল্লা ছিলেন ট্রলারটিতে। মৌলভীর শীল এলাকায় সেন্টমার্টিন চ্যানেলে ট্রলারটি নোঙর করে জেলেরা জাল ফেলেন। দুপুরে জাল টানা শুরু করেন জেলেরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে জাল টেনে উঠিয়ে তাঁরা ১২০টি লাল কোরাল পান। পরে মাছগুলো ফিশারিজ ঘাটে নিয়ে এলে ২০ হাজার টাকা মণ দরে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, লাল কোরালগুলো স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ লালু তিন লাখ টাকায় কিনেছেন। তবে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হয়ে থাকে ৫০০-৬০০ টাকায়। এখন মাছগুলো বরফ দিয়ে প্যাকেট করে উপযুক্ত দাম পাওয়ার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হবে।

একসঙ্গে এতগুলো বড় মাছ পেয়ে আনন্দিত ফিশিং ট্রলারের মোহাম্মদ আলী মাঝি বলেন, পাঁচজন জেলে জাল তুলতে গিয়ে দেখেন, অনেক ভারী। পরে ট্রলারে থাকা ৯ জেলের সবাই মিলে জাল টেনে তোলেন। এরপর হিসাব করে দেখা যায়, ১২০টি লাল কোরাল এবং আরও ২৫-৩০ কেজি অন্য প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে। প্রতিটি লাল কোরাল মাছের ওজন সাড়ে চার থেকে ছয় কেজি, একত্রে ওজন প্রায় ১৫ মণ। অন্য প্রজাতির মাছগুলো ট্রলারের মালিক ও জেলেরা ভাগ করে নিলেও লাল কোরালগুলো বিক্রি করা হয়।

শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আয়ুব বলেন, লাল কোরাল গভীর সমুদ্রের মাছ বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্য জেলেরাও লাল কোরাল মাছ ধরতে সেন্টমার্টিন চ্যানেলে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই এলাকায় কয়েকদিন ধরে ভালোই মাছ ধরা পড়ছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা সিঃ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সুস্বাদু কোরাল মাছের কদর দেশব্যাপী। কোরাল সব সময় হাটবাজারে পাওয়া যায় না।
এ জন্য এই মাছের দাম কিছুটা বেশি। এ মাছ সাধারণত ১ থেকে ৯কেজি পর্যন্ত হতে থাকে।
তিনি আরো আরও বলেন, এই মাছ উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল, বিশেষত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেখা যায়। এ ছাড়া এশিয়ার উত্তরাঞ্চল, কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্ব আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলেও এগুলো পাওয়া যায়।

 
  
%d bloggers like this: