হ্যাপী করিম, মহেশখালী : মহেশখালীর দ্বীপ উপজেলায় স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার দুর্যোগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের টেকসই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে এবং মুজিববর্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রামীণ রাস্তায় সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, গ্রমীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিংবোন বন্ডকরণ, উপকূলীয় এলাকায় ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) সাড়ে ১২ টায় উন্নয়ন ধারা’র আয়োজনে উপজেলা কনফারেন্স হলরুমে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামের সঞ্চলনায় গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসই করার লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ প্রকল্পের মতবিনিময় সভায় মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইয়াছিন সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আইএমইডি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) এস এম হামিদুল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন.. আইএমইডি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (যুগ্মসচিব) পুলক কান্তি বড়ুয়া, আইএমইডি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সহকারী পরিচালক মো: আমিনুর রহমান, উপ প্রকল্প পরিচালক হেরিং বোন বন্ড করণ (এইচবিবি) ২য় পর্যায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন।

কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট শেখ কামাল, কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল বশার পারভেজ, বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানাল চেয়ারম্যান দলিলুর রহমার, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গনমাধ্যমকর্মী উপকারভোগী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এস এম হামিদুল হক জানান, সুদূর অতীত থেকেই বাংলাদেশ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপসমূহ অনুসরণ করে বর্তমানে বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা সফলতার সাথে করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে (এইচবিবি) ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে জানমাল রক্ষার জন্য দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তৈরি করা হয়েছে ২১৮টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকার মানুষের জীবন এবং সম্পদ রক্ষায় সারাদেশে ১৬৪টি মুজিবকিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫টির কাজ সমাপ্ত হয়েছে। গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসই করার জন্য হেরিং বোন বন্ড প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার ৫৮৮ দশমিক ৭৮ কিমি রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান।

 
  
%d bloggers like this: