নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বকসীর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আজ সোমবার ১৮ এপ্রিল। ২০২১ সালের মার্চে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়ে সেখানেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। সেখানকার ভেলুর সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ এপ্রিল তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।
করোনার বিধিনিষেধ ও লকডাউনের কারণে তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। পরে সেখানকার গান্ধীরোডস্থ জামিয়া মসজিদ কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
নজরুল ইসলাম বকসী ছিলেন একজন পেশাদার সাংবাদিক। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি সিলেট ও কক্সবাজারে কাটিয়েছেন। বকসী ১৯৫৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলাস্থ চকতিলক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সিকান্দর বকসী ও মাতার নাম শামসুননাহার বেগম।
১৯৭৬ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক যুগভেরী পত্রিকার (বর্তমানে দৈনিক) শিশু কিশোর পাতা ‘শাপলার মেলা’য় সভ্য ও লেখক হিসাবে সংবাদপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট হন। ১৯৭৮ সালে সিলেট সমাচারে লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৮০ সালে তিনি প্রথমে চট্টগ্রাম ও পরে কক্সবাজার চলে আসেন। কক্সবাজারে এসে তিনি পেশাদার সাংবাদিকতা শুরু করেন।
কক্সবাজারের মাসিক বাঁকখালী (বর্তমানে দৈনিক), দৈনিক গিরিদর্পণ, দৈনিক খবর, দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক ইনকিলাব, আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ, কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক সৈকত, দৈনিক কক্সবাজার, দৈনিক হিমছড়ি, সাপ্তাহিক কক্সবাজার বার্তা, সাপ্তাহিক সাগরকণ্ঠ, সাপ্তাহিক সাগরবাণী, দৈনিক ইনানী, দৈনিক আপনকণ্ঠ, দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর এবং সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগভেরী, দৈনিক বার্তাবাহক, দৈনিক জালালাবাদ ও শ্যামল সিলেটে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ভয়েস অব আমেরিকা (ঠঙঅ), ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বৃটিশ ব্রটকাস্টিং কর্পোরেশন (ইইঈ) এবং একই সাথে অঋচ’র কক্সবাজার স্ট্রিংগার হিসাবে কাজ করেন।
এছাড়া মধ্যখানে তিনি সিলেট থাকাকালে কিছুদিন রয়টার্সের সাথেও কাজ করেন।
১৯৯৩, ১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিরসন ও বানিজ্য চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের সাথে মিয়ানমার (বার্মা) সফর করেন।
এর আগে ১৯৮৮ সালে ব্যক্তিগত ভাবে তিনি বার্মা সফর করেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি ৬ বার ভারত সফর করেছেন।
তিনি ঐতিহ্যবাহী আবৃত্তি ও উচ্চারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমী’র নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
নজরুল ইসলাম বকসী ১৯৯৫ সালে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক একে.এম শাহাবুদ্দিন -এর বড় কন্যা লুৎফা বকসীর সাথে বিবাহিত জীবন শুরু করেন। কক্সবাজার প্রেসক্লাবের প্রবীণ ও স্থায়ী সদস্য নজরুল ইসলাম বকসী এক পুত্র (সিদরাতুল মুরসালিন ভাষা) ও এক কন্যা (সিদরাতুল মুনতাহা বর্ণ) সন্তানের জনক।
মরহুম নজরুল ইসলাম বকসীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে কক্সবাজার শহরের লিংকরোড জামে মসজিদ ও ভারতের ভেলুর গান্ধী সড়কস্থ জামিয়া মসজিদে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। নজরুল ইসলাম বকসীর সহকর্মী, ঘনিষ্টজন ও আত্মীয়স্বজনদের ইফতার ও দোয়া মাহফিলে শরীক হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে তার পরিবার।

 
  
%d bloggers like this: