আব্দুস সালাম,টেকনাফ(কক্সবাজার):
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নাফনদীর খুরের দ্বীপ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা মূল্যের এক কেজি ১৪ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস ও ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১টি নৌকা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় পাচারকারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান,শনিবার (১৯মার্চ) ভোররাতে গোপন সূত্রের মাধ্যমে জানতে পারে যে, টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ হ্নীলা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-১২ হতে আনুমানিক ৭০০ মিটার দক্ষিণে খুরের দ্বীপ এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে হ্নীলা বিওপি’র একটি বিশেষ টহলদল তাৎক্ষনিকভাবে বর্ণিত এলাকায় গমণ করে কেওড়া জঙ্গলে গোপনে অবস্থান গ্রহণ করে। টহলদল কিছুুুুক্ষণ পর দুইজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার হতে একটি কাঠের নৌকাযোগে শূন্য লাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখে। টহলদল তাৎক্ষণিক উক্ত ব্যক্তিদেরকে দেখা মাত্রই চ্যালেঞ্জ করে খুব দ্রুত তাদের দিকে অগ্রসর হয়। চোরাকারবারীরা বিজিবি’র উপস্থিতি অনুধাবন করা মাত্রই বিজিবি’র চ্যালেঞ্জকে উপেক্ষা করে মিয়ানমারের দিকে চলে যেতে থাকলে বিজিবি টহলদল উক্ত সন্দেহভাজন চোরাকারবারীদের থামানোর চেষ্টা করে। চোরাকারবারীগণ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে নৌকা হতে ঝাঁপ দিয়ে রাতের অন্ধকারে ডুব সাঁতার দিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে টহলদল বর্ণিত স্থানে পৌঁছে চোরাকারবারীদের ফেলে যাওয়া নৌকাটি আটক করে। আটককৃত নৌকাটিতে তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করে নৌকার ভিতর থেকে ৫ কোটি ৭ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১ কেজি ১৪ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করতে সক্ষম হয়।
তিনি আরো জানান,চোরাকারবারীদেরকে আটকের নিমিত্তে বর্ণিত এলাকা ও পার্শ্ববর্তী স্থানে পরবর্তীতে সকাল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হলেও তাদেরকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে চোরাকারবারীদেরকে আটকের নিমিত্তে অত্র ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদা জাগ্রত হয়ে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন সীমান্ত সুরক্ষা ছাড়াও চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃ রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অপরাধ দমনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে যথাযথ ও কার্যকরীভাবে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে বেসামরিক পরিমন্ডলে ভূয়সী প্রশংসা পেয়ে আসছে।

 
  
%d bloggers like this: