জালাল আহমদ ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
শখের বসে কুষ্টিয়ায় ভ্রমণে যাওয়ার পথে ট্রেনের রেলিং এর সাথে ধাক্কা লেগে অকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের ছাত্র মাহাবুব আদর।

মাহাবুবের হলের রুমমেট , প্রশাসন এবং
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শখের বসে কুষ্টিয়ায় ভ্রমণে উদ্দেশ্যে হল থেকে বের হয় মাহাবুব। রাত আটটার ট্রেনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে সে।আজ সকাল সাড়ে এগারোটায় কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেল স্টেশন থানার কর্মকর্তার মাধ্যমে তার বন্ধুরা জানতে পারে মাহাবুব পাবনা – কুষ্টিয়ার সীমান্তে পদ্মা নদীর নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পার হওয়ার সময় ব্রীজের রেলিং এর সাথে মাথায় ধাক্কা লেগে অকালে মারা যায়।
কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেল স্টেশনের কর্তব্যরত কর্মকর্তা জানান, তার (মাহাবুব)মরদেহ এখন পোড়াদহ রেল স্টেশন থানায় আছে। তার পরিবারের সদস্যরা আসলে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
মাহাবুবের দূর সম্পর্কের এক চাচা ফরহাদ বলেন, মাহাবুবের লাশ আনার উদ্দেশ্যে তার পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়ায় যাত্রা করেছেন।
মাহাবুবের গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার সদর ইউনিয়নে । সে তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। বাবা মোঃ আব্দুল হান্নান মিঠু পেশায় একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত। বর্তমান জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান।

মাহাবুব থাকতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মহসিন হলের ১০০৬ নাম্বার কক্ষে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ডঃ মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, সকালে আমরা মাহাবুবের মৃত্যু সংবাদ পেলাম। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর , তার ডিপার্টমেন্ট এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। ইতিমধ্যে হলের তার বন্ধু-বান্ধবের একটি দল তার গ্রামের বাড়িতে রওনা দিয়েছে। আমাদের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব তা আমরা করব।
মাহাবুবের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে।
মাহাবুবের রুমমেট রাহাত সিকদার দৈনিক আমার সংবাদ কে জানান, “সে খুব ভালো বন্ধু ছিল।সবসময় হেসে কথা বলতো।সবার সাথে সবসময় বন্ধুত্বসুলভ আচরণ ছিল। সে মারা গেছে এটা আমরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না “।

 
  
%d bloggers like this: