বার্তা পরিবেশক:

কক্সবাজাার সদর উপজেলার রাখাইন পাড়ায় সাতটি অসহায় পরিবারকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তদের হামলা ও তান্ডবের পর বাড়িগুলোতে মানুষশূণ্য ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গ্রামছাড়া হয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে মানবেতর দিন কাটছে পরিবারগুলোর। তাদের নিত্য রুজি-রোজগারের পথও এখন সম্পূর্নভাবে বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেও নিস্কৃতি মিলছে না।
গ্রামছাড়া হওয়া পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, অন্যের সম্পত্তি নিজের নামে কুক্ষিগত করার মানষে রাখাইন পাড়ার বৌদ্ধ ভিক্ষু –উ শাসন বংশ এর প্ররোচনায় তার আত্মীয়স্বজনরা সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেন (পিবিআই) এর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সার্বিক তদন্তে ও প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে এবং ঘটনার পরিপার্শ্বিকতায় সাক্ষীদের জবানবন্দীতে বিবাদী মংসাই অং প্রকাশ বারিসে (৪০), মেনাং (৫৮), উসাং প্রঃ বাবু (৩২), ওয়ানচেন (২১), বাসান (৪২), উনাংখিন (৩৯), হলা মেচিং (৪৫), মক্য লোইন প্রকাশ বাপ্পু (২৪), মেসাং (৪৭), ক্যহলাচিং (৬০), মং বাহলাইন, মংহলাওয়ে (৫৭) ও ক্যচিং হলা (৩৬) গণ বেআইনী জনতাবদ্ধে বাদী ও সাক্ষগণের বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করিয়া মারধর ও ভাংচুরসহ ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ করিয়াছে বিধায় তাহাদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৪২৭/৫০৬ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমানিত হইয়াছে।’
আক্রান্ত পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠা হ্লাছাউ (৯০) বর্তমানে গ্রাম থেকে বিতাড়িত হয়ে কক্সবাজার শহরে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয়ে আছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গ্রামের কিছু সমাজ সচেতন নারী পুরুষ গ্রামের সার্বিক কল্যানের উদ্দেশ্যে একটি সমবায় সমিতি গঠন করে এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সমিতির নিজস্ব তহবিলের টাকায় ১৯৯৮ সালে আমান উল্লাহ গং হতে ২০ শতক জমি ক্রয় করে এবং ৬৬১ কবলা করত্ব সমিতির নামে ১০৮২৬ নং সৃজিত খতিয়ান করা হয়। ওই জমিটি পাড়ার বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান আয়োজনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । কিন্তু জমির দলিল গ্রামের বৌদ্ধ মন্দিরের অধ্যক্ষ ভান্তে উ শাসন বংশ এর কাছে রক্ষিত ছিল এবং পরিবতির্তে ভান্তের সহযোগীতায় তাঁর এক আত্বীয় জমির রেজিস্ট্রির নাম পরিবর্তন করতে অনৈতিক চেষ্টা করে। কিন্তু জমির মালিক নির্দিষ্ট কারোর ব্যক্তি বিশেষের নামে বা কারোর উত্তরধীকার সুত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি না হাওয়ায় তা করতে সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ভান্তের পরামর্শে তাঁর কয়েকজন আত্মীয় এবং এলাকার কিছু লোকজন মিলে সমিতির পরিবারগুলোকে মন্দির এবং শ্মশানে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। রাতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে মাসের পর মাস মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন করতে থাকে। তারা এও ঘোষনা করে, কেউ যদি সমিতি সদস্যদের হয়ে কথা বললে তাকেও মন্দিরচ্যুত এবং গ্রামচ্যুত করা হবে । পরে তারা সমিতির কয়েকজন সদস্য জমিটি লুকিয়ে বিক্রির ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে সহজ সরল গ্রামবাসীদের খেপিয়ে তুলে তাদেরকে ভান্তের দলে বেড়ায় এবং সমিতির সভাপতি আবুরি এবং সম্পাদক আমারী সঙ্গবদ্ধ হয়ে উক্ত জমির মালিকানার স্বত্ব ভান্তে উ শাসন বংশ-এর নামে বা সমাজ কমিটির নামে হস্তান্তরের জন্য চাপ দিতে থাকে।
ভুক্তভোগীরা জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় জমির মালিকানার স্বত্ব কোনভাবে হস্তান্তর করা সম্ভব না হাওয়ায় গত ২৭/৯/২০২১ তারিখে মে নং এর ছেলে মংসাইঅং প্রকাশ বারিসে, মৃত চিং থোইন ছা এর ছেলে ক্য হ্লাচিং, মৃত উ চিং মং এর ছেলে মংহ্লা ওয়ে, মৃত চিংক্য এর ছেলে মেসাং, সাংমং এর স্ত্রী ফ্রুমাসে নেতৃত্বে বেআইনি জনসমাগম ঘটিয়ে সমিতির সংশ্লিষ্ট ৭ টি পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এর আগে ভান্তের উপস্থিতিতে তাঁর এক আত্মীয় ঘোষনা করেন যে, জমির স্বত্ব আইনি বা বেআইনি যেভাবে হোক তাঁর নামে হস্তান্তর না করা হলে সমিতির সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমাজচ্যুত করা হবে এবং তিনি সেটাই করেছেন। এমনকি মৃতের সৎকারের অংশগ্রহন করেতে দেওয়া হয়নি। এর কয়েকমাস আগে মংহ্লাওয়ে এর ছেলে উছাচিং এবং মংবালাইন, চিং থোইন হ্লা এর ছেলে মংক্যহ্লাইন সহ আরো কয়েকজন সমিতির জমিতে স্থাপিত প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজা ভেঙ্গে অফিসের কাগজপত্র তছনচ করে আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিয়পত্র ভেঙ্গে ফেলে এবং স্কুল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং সেদিন থেকে স্কুল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই সমিতি বাংলাদেশ সরকারের কক্সবাজার উপজেলা সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত, যার নং: ২৫৬৪ তারিখ ১/৪/২০২১। সমিতির গঠন করার সময় সমিতির নাম ছিল পুরুষ ও মহিলা সমিতি। কিন্তু এই সমিতির নামে নিবন্ধন লাভের জন্য কক্সবাজার উপজেলা সমবায় দপ্তরে আবেদন করলে সমবায় সমিতি বিধিমালা/২০০৪ (সংশোধন ২০২০) সমিতির ৩৫টি প্রকারভেদেও মধ্যে না থাকার কারনে আবেদীত নামে নিবন্ধন পাওয়া সম্ভব হয়নি কিন্তু সমবায় দপ্তরে পরামর্শে সমবায় সমিতি বিধিমালা/২০০৪ (সংশোধন ২০২০) এর ৩ (১৭) বিধির আলোকে খুরুস্কুল জালিযা পাড়া রাখাইন সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লি: নামে সমবায় অধিদপ্তর জেলা সমবায় কার্যালয়, কক্সবাজার কর্তৃক নিবন্ধন প্রাপ্ত হয় যার নিবন্ধন নম্বর ২৫৬৪ তারিখ ১/৪/২০২১।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে চান এবং নিরাপত্তার সাথে শান্তিতে বসবাস করতে চান। এ ব্যাপারে প্রশাসনের আন্তরিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 
  
%d bloggers like this: