বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভাস্হ সংলগ্ন হেইচ্ছা খালের পাড় থেকে দুই’দিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় একটি প্রভাবশালী চক্র দিনে ও রাতের আঁধারে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে। এতে বাঁধ, কৃষি জমি হুমকিতে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উক্ত চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে সাহস করছেন না।
খোঁজ নিয়ে আরও দেখা যায়, শক্তিশালী চক্রটি এক্সভেটর (ভেকু) মেশিনের মাধ্যমে ডাম্পার গাড়ী দিয়ে খালের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবাধে মাটি তুলছেন। এতে নদের তীরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাটি উত্তোলনের কারণে বিভিন্ন স্থানে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যেকোনও সময় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বা কৃষি জমি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক নদ তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মাটি ও বালু ব্যবসায়ীরা অনুরোধ সত্ত্বেও বালু ও মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছেন। সারা দিনরাত ট্রাক ও ড্রাম্পার করে মাটি ও বালু পরিবহন করায় সড়কগুলো ধসে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। আবার মাটি তোলার কারণে নদের তীরবর্তী ফসলি জমি ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। মাটি উত্তোলনের স্থান থেকে নাফ নদীর মোহনা আনুমানিক অর্ধ কিলোমিটার।
তারা আরও বলেন, প্রভাবশালী বালু ও মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার মেলেনি। মাঝে মাঝে প্রশাসন থেকে অভিযান চালিয়ে মেশিনপত্র জবাদ করা হলেও কিছুদিন পর আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ অবস্থা বিরাজ করলে আগামী দু’তিন বছরের মধ্যে নদের পাশের ফসলি জমি, ভিটে ও বাড়িঘর ধসে নদগর্ভে বিলীন হবে।

এ বিষয় টেকনাফ পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ডে সচেতন বাসিন্দা উপজেলা সেকেন্ড কমান্ডার ফোরাম মুক্তিযুদ্ধা ৭১ এর সভাপতি সাইফুদ্দীন খালেদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হেইচ্ছার খাল সংলগ্ন আমাদের মালিকানাধীন খতিয়ান নং-৩৬২, দাগ নং -৭৮৯,৮০৪ জমি রয়েছে এভাবে রাতে ও দিনে মাটি উত্তোলন করলে বর্ষা মৌসুমে আমাদের কৃষি জমিসহ অনান্য জমি গুলো ক্ষতিগ্রস্হ হবে। এ বিষয়ে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে মাটি উত্তোলন বন্ধের ব্যবস্হা নিয়ে আমাদের মালিকানাধীন কৃষি জমি রক্ষা করতে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এরফানুল হক চৌধুরী’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছে। বর্মমানে মাটি উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া রয়েছে।

 
  
%d bloggers like this: