বিশেষ প্রতিনিধি:

২০১৭ সালে আলোচিত কালারমারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন জনপ্রিয় তরুণ নেতা তারেক বিন ওসমান শরীফ। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে একের এক সৃজনশীল ও জনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করে খুব অল্প সময়ে আলোচনায় আসেন তিনি। নজর কাড়েন রাজনৈতিক অঙ্গন ও  প্রশাসনিক দপ্তরসহ সর্বমহলে। ক্রমান্বয়ে পুরো জেলাজুড়ে তার নামডাক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বিচারব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং মানবিক কর্মকান্ড চালিয়ে জনতার মূল্যায়নে ‘সেরা চেয়ারম্যান’ হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হন। ফলে দিনে দিনে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তারেক বিন ওসমান শরীফ। এখন তারেক চেয়ারম্যান বললেই জেলার সর্ব অঙ্গনের তাকে এক নামে চেনেন।

চেয়ারম্যান তারেক শরীফ জনপ্রিয়তার এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছেন যেখানে তাকে ‘হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা’ বলা যায়। কারণ, তিনি যেখানে যান সেখানে মানুষের ঢল নামে। তার নাম শুনলেই ছুটে আসেন অগণিত মানুষ। তিনিও মানুষের সঙ্গ পেতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

এরমধ্যে চেয়ারম্যানের সময়কালের পাঁচ বছর অতিক্রম হতে চলে। ফলে আবারো নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। সবকিছু ঠিকাঠাক থাকলে মাসছয়েকের মধ্যে আলোচিত ইউনিয়ন কালারমারছড়ার নির্বাচন হতে পারে। ঠিক এই সময়ে এসে চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফের গত পাঁচ বছরের কর্মলিপি নিয়ে এই প্রতিবেদন।

শুরুর প্রেক্ষাপট

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ মোঃ শরীফ চেয়ারম্যানের দৌহিত্র ও উত্তর মহেশখালীর ডাকসাইটে নেতা সাবেক চেয়ারম্যান গণির পুত্র হিসেবে আলোচনার যোগ্য ছিলেন তারেক বিন ওসমান শরীফ। পিতা ওসমান গণি সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়ার পর সরাসরি স্থানীয় রাজনীতির মাঠে নেমেছিলেন তারেক বিন ওসমান শরীফ। মাঠে নেমে নিজের সজ্জনতা, উদারতা আর জনদরদি মন দিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সর্বস্তরের মানুষের স্থান করে নিতে সক্ষম হয়। ফলে হু-হু করে বেড়ে উঠে জনপ্রিয়তা- যা পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জনপ্রিয়তাকে ছাড়িয়ে যায়। শুধু কালারমারছড়া নয়; হঠাৎ করে পুরো উপজেলার মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেন তারেক শরীফ। সবার সাথে সজ্জনতা ও সুন্দর আচরণ দিয়ে, ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরণ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে অবদান রাখায় সবার মাঝে তারেক শরীফের নামডাক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি নিজ ইউনিয়ন ছাড়িয়ে উপেজলা পর্যায়ে তার নামডাক ছড়িয়ে পড়ে।

এর মধ্যে ২০১৭ সালের ইউপি নির্বাচন ঘনিয়ে এলে তার পক্ষে আকাশচুস্বি জনসমর্থন তৈরি হয়। তাকে চেয়ারম্যান বানাতে একাট্টা হয়ে সাধারণ মানুষ। তারই আলোকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামেন তারেক বিন ওসমান শরীফ। নিজ দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের জন্য তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য। মনোনয়ন পেয়েও শেষ মুহূর্তে আবার হাতছাড়া হয়ে যায়। মনোনয়ন না পেলেও তার জয় ঠেকারো যায়নি। বিপুল ভোটের ব্যবধানে নিজ দলের মনোনিত প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়ে তাক লাগানো জয় পেয়েছিলেন। চেয়ারম্যান হয়ে ইউনিয়নের সার্বিক কাঠামো সংস্কার ও উন্নয়নে বেশ জোর দেন তারেক বিন ওসমান শরীফ। অল্পদিনের মধ্যে বিচার ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ সার্বিক ক্ষেত্রে তাক লাগিয়ে দেন।

উন্নয়নের ফিরিস্তি

তারেক বিন ওসমান শরীফ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ইউনিয়নেরঅবকাঠামোগতউন্নয়নের দিকে বেশ নজর দিয়েছিলেন। তারই আলোকে গত পাঁচ বছরে অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট ও ব্রীজ-কালভার্টের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ইউনিয়নের প্রায় সব পুরাতন সড়ক বর্ধিত করে সংস্কার এবং উন্নয়ন করেছেন। একইভাবেবহু পুরাতন  ব্রীজ-কালভার্ট ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছেন এবং আরো বেশ কয়েকটি নতুন ব্রীজ নির্মাণ নির্মাণ করেছেন। সড়ক ও ব্রীজ উন্নয়ন নিয়ে  চিরাচিত কোনো পক্ষপাতিত্ব করেননি তারেক বিন ওসমান শরীফ। সব ওয়ার্ডে সমানভাবে উন্নয়ন করেছেন। সরকারি বরাদ্দের বাইরেও নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন কর্মকান্ড চালিয়েছেন তিনি।

ইউনিয়নের সব মানুষের প্রধানতম বাজার কালারমারছড়া বাজার সংস্কারের ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে বেশ প্রশংসনীয় হচ্ছে  বাজারের ভেতরে দিয়ে নতুন করে সড়ক তৈরি। এই সড়কটি নির্মাণের ফলে পুরো বাজারের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।তারেক চেয়ারম্যান উন্নয়ন কর্মকান্ড  কালারমারছড়ার বেশ সন্তুষ্ট।

সাধারণ মানুষ বলছেন, তারেক চেয়ারম্যান যে উন্নয়ন করেছেন তা অতীতে হয়নি। এই অভূতপূর্ব উন্নয়নের ফলে তাঁর প্রশংসা এখন ঘরে ঘরে!

কেমন ছিলো বিচারব্যবস্থা

কেমন ছিলো বিচার ব্যবস্থা: তারেক বিন ওসমান শরীফ উন্নয়নের সার্বিক দিকের মধ্যে অতি প্রশংসা পেয়েছে বিচার ব্যবস্থা! দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে বিচার ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়নে হাতে নেন নানা উদ্যোগ। প্রথমে তৈরি করেন গ্রাম আদালত ব্যবস্থার ভিত্তি! নির্মাণ করেন বিরাট গ্রাম আদালত ভবন। সেখানে আয়ত্বাধীন মানুষের সব ধরণের দ্বিপক্ষীয় সমস্যা মীমাংসার ব্যবস্থা করেন। কোনো নির্দিষ্ট দিন নয়; প্রতিদিন সালিশী মীমাংসা করে আসছেন। সকল স্বজনপ্রীতি ও সম্পর্কপ্রীতির উর্ধ্বে উঠে সবার জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করেন। এতে কালারমারছড়ার গ্রাম আদালতের প্রতি সর্বমহলের আস্থা তৈরি হয়। ফলে উপেজলা জুড়ে তারেক বিন ওসমান শরীফের ব্যাপক সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।

অপরাধ দমন:

মহেশখালীর প্রধান সড়ক গোরকঘাটা-জনতা বাজার সড়ক। এই সড়কের কালারমারছড়াস্থ উত্তর নলবিলাটি দীর্ঘদিনের ডাকাত কবলিত এলাকা। সড়ক ডাকাতের একটি যুগের পর যুগ এই স্থানে প্রতিনিয়ত যানবাহনে ডাকাতি চালাতো। এতে সন্ধ্যা নামলেই এই সড়কটি যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতো। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সড়কটি ডাকাত মুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারেক বিন ওসমান শরীফ। ডাকাতদের উৎখাত করে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। এর ফলে স্থায়ীভাবে এই সড়কটি ডাকাতমুক্ত হয়ে গভীর রাতেও নির্বিঘেœ সব ধরণের যানবাহন চলাচল করতে পারছে। এই দায়িত্বপূর্ণ মানবিক উদ্যোগ নেয়ায় পুরো উপজেলার মানুষের ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন চেয়ারম্যান তারেক শরীফ। শুধু এটি নয়; কালারমারছড়াকে অপরাধ মুক্ত করতে আরো নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। ফলে এক সময়ের চরম অশান্ত কালারমারছড়ায় ফিরে শান্তির বারতা!

নাগরিক সেবা:

নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ।সরকারের দেয়া ভিজিএফ, ভিজিডি এবং অন্যান্য বরাদ্দ দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে সঠিক বন্টন করে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন তিনি। একই সাথে জন্মনিবন্ধন, চারিত্র্যিক সনদ এবং মৃত্যুসনদ প্রদানসহ পরিষদের সব ধরণের  সেবা অতি সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন চেয়ারম্যান তারেক শরীফ। এসব নাগরিক সেবার দানের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে নির্ধারিত ফিও মওকুফ করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সকল স্তরের মানুষকে নাগরিক সেবা দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়; বিভিন্ন সময় মাইকিং করে সেবা নিতে পরিষদের আসার খবর পাঠান জনসাধারণকে। এতে খুব সহজে ও নির্বিঘেœ নাগরিক সেবা পেয়ে আসছে কালারমারছড়ার সর্বস্তরের মানুষ।

মানবিক কর্মকান্ড

অন্যান্য কর্মকান্ডের পাশাপাশি মানবিক কাজেও এগিয়ে রয়েছেন তারেক বিন ওসমান শরীফ। গত পাঁচ বছরে সব সময় অসহায় মানুষের দুঃখের সারথী হয়েই ছিলেন তিনি। গরীব ও দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি বরাদ্দের বাইরেও নিজস্ব তহবিল  সব সময়ে বিলিয়ে দিয়েছেন সহায়তা আর সহযোগিতা। গরীব-অসহায় মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহযোগিতা, অসহায়ছেলেমেয়েদেরপড়ালেখা ও গরীব রোগীদেরচিকিৎসা সহায়তা, এতিমদের আর্থিক সহযোগিতা এবং অনেক অসহায় মানুষের মৃত্যুকালীন দাফন-কাপনেও আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তিনি। তার জন্য খোঁজ নিয়েই অসহায় মানুষের মৃত্যু হলে জানাযা ও দাফন-কাপনে অংশ নেন। চেয়ারম্যান তারেক শরীফের একটি মানবিকতা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তা হলো- এতিমখানার ছাত্রদের নিয়ে বিভিন্ন সময় ভ্রমণে যান তিনি। অন্যান্য কর্মকান্ডের মতো, তারেক চেয়ারম্যানের মানবিক কাজের প্রশংসাও মানুষের মুখে মুখে।

ধর্মীয়, শিক্ষা, ক্রীড়া সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড: ধর্মীয়, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ। ইউনিয়নের প্রতিটি মসজিদ, মন্দিরে নিয়মিত অনুদান প্রদান করেন তিনি। একই প্রায় সকল বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায়ও সব প্রয়োজনের নিয়মিত অনুদান দিয়ে থাকে। গত পাঁচ বছরে সব ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমানহারে এভাবে সহযোগিতা করে এসেছেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিবদের এবং সর্বস্তরের আলেমদের সম্মানে বিভিন্ন আয়োজন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় এতিমখানার ছাত্রদের নিয়ে পিকনিকে যান তিনি। এই উদ্যোগটি সর্বমহলে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

 
  
%d bloggers like this: