প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে ভাসানচরে মানবিক সহায়তা ও এই দ্বীপে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর কার্যক্রমের সম্পূরক সহায়তা হিসেবে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (WFP) ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার জরুরি অনুদান দিয়েছে জাপান সরকার।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ইয়োহানেস ভন ডার ক্লাও বলেন, “এই প্রতিশ্রুতির জন্য জাপানের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ভাসানচরে জাতিসংঘের কার্যক্রমে কোনো দাতার সর্বপ্রথম এই অনুদান এই দ্বীপে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অনুদান তাদেরকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি একাত্বতারই বহিঃপ্রকাশ।”

তিনি আরও বলেন, “জাপান সরকারের এই অনুদান ইউএনএইচসিআর ও WFP কে মৌলিক কিছু বিষয়ে সেবাদান ও বিভিন্ন কার্যক্রম, যেমন: সুরক্ষা, দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, খাদ্য, পুষ্টি, জীবিকা ও স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে সাহায্য করবে, যা এই দ্বীপে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মানসম্মত জীবনযাপন করতে ও ভবিষ্যতে মায়ানমারে টেকসইভাবে প্রত্যাবর্তনের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে।”

জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (৯ অক্টোবর ২০২১) পর ভাসানচরে জাতিসংঘের মানবিক সাড়াদানের স্বপক্ষে এই অনুদান দেওয়া হয়। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই দ্বীপে মানবিক সাড়াদানের জন্য একটি সার্বজনীন সুরক্ষা ও নীতির কাঠামো তৈরি করা হয়।

বাংলাদেশে WFP-এর প্রতিনিধি রিচার্ড রেগান বলেন, “জাতিসংঘের এই মানবিক সাড়াদান ভাসানচরে বর্তমানে স্থানীয় এনজিওগুলোর দেওয়া সহায়তার সম্পূরক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।“ তিনি আরও বলেন, “জাপানের এই অনুদান এই দ্বীপে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজনগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করতে ও এই দ্বীপে লজিস্টিকস্ সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। আমরা আশা করি, অতি ঝুঁকিপূর্ণ এই সময়ে বাংলাদেশকে এবং এই দ্বীপ ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে জাপানের পাশাপাশি অন্যান্য দাতাগোষ্ঠীও এগিয়ে আসবে।”

বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের জনগণের এই সহায়তায় ইউএনএইচসিআর ও WFP কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে ও একইসাথে জাপান দূতাবাসের সাথে চলমান অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানাচ্ছে।

 
  
%d bloggers like this: