এস.এম.জুবাইদ ,পেকুয়া:

কক্সবাজারের পেকুয়ার রাজাখালী এরশাদ আলী ওয়াকফ এস্টেটের জমির বিরোধ নিয়ে উত্তপ্ত পুরো এলাকা। প্রতিদিন ঝরছে কোন না কোন মানুষের রক্ত। রাজাখালীতে ১৬ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষ লবন চাষের ওপর নির্ভরশীল। ৭/৮ জনের একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি এ এলাকার লবনচাষীরা। ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আনছারুল ইসলাম টিপুর নেতৃত্বে চলছে পুরো রাজাখালীর রাম রাজত্ব।
অস্ত্রধারী, ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে গঠন করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের সকল সদস্য অত্যন্ত ভয়ংকর। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রয়েছে ডাকাতি, হত্যা, চাঁদাবাজি, সাগরে দস্যুতা, অপহরণ ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা। প্রশাসনের রেকর্ডে সবাই মোস্ট ওয়ান্টেড।
টিপু একজন বিত্তশালী ও প্রভাবশালী। সাধারন জনগন তার ভয়ে তটস্থ। তার ইশারায় চলে সব। প্রশাসনও তার কাছে অসহায়। প্রশাসনের অনেক কর্তাবাবু তাকে সমিহ করে চলে। কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চলে তার হিটলারী শাসন। শত অপকর্ম করলেও এ বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ টু-শব্দ করার সাহস পায়না। কেউ অবাধ্য হলে চলে তার ওপর ষ্ট্রীম রোলার। অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি রাজাখালীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটে। প্রতিদিন ঝরছে রক্ত। চলতি লবন মৌসুমে লবনচাষী ও দালাল সিন্ডিকেটের মধ্যে মারপিট লেগেই আছে। প্রতিদিন ঘটছে রক্তপাতের ঘটনা।

জানাগেছে,এরশাদ আলী ওয়াকফ এস্টেটের প্রায় ২৪৫ একর জমির অফিসিয়াল মুতাওয়াল্লী পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা। স্থানীয়রা ওই জমি পৃথক পৃথক ইজারা নিয়ে চাষীদের লাগিয়ত দিয়েছে। চাষীরা পুরোদমে লবন উৎপাদন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। লবনই তাদের একমাত্র ভরসা। লবন নিয়ে তাদের স্বপ্ন।
কয়েকজন চাষী বলেন, কানি প্রতি প্রায় দেড়শ মন লবন উৎপাদন হয়েছে। টিপু বাহিনীর লোকজন তাদের জিম্মি করে রেখেছে। পানির দামে তাদের লবন বিক্রি করতে বাধ্য করছে। চাষীদের মারধর করছে। মাঠের পলিথিন কেটে দিচ্ছে। লুট করছে লবন।

রাজাখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন বলেন,ইউএনও’র কাছ থেকে ১৩৫ কানি জমি ইজারা নিয়েছি। চাষীদের জমি লাগিয়ত করেছি। লবন উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু টিপু বাহিনীর লোকজন চাষীদের টিপুকে লবন বিক্রি করার চাপ প্রয়োগ করছে। ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
শুক্রবার আমার চাষা প্রতিবন্ধি ফরিদুল আলমের পরিমাপ করা প্রায় দেড়শ মন লবন নষ্ট করে দিয়েছে। লুট করেছে। অস্ত্রসস্ত্রসহ ৪০/৫০ জনের সন্ত্রাসীদের এনে প্রকাশ্যে ফরিদের ভাই আব্দুল কুদ্দুস (৪০) ও ভাতিজা নোমানকে (১৫) পিটিয়ে জখম করে টিপু। আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। তার ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতেও সাহস পাচ্ছেনা তারা। ইউএনওকে বিষয়টি আমরা বলেছি।
একইদিন এস্টেটের ভিন্ন ইজারাদারের জমিতেও তান্ডব চালানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ছৈয়দনুর জানায়, ইউএনও’র কাছ থেকে ৪কানি ধানি জমি নিয়েছি। চাষ করতে গেলে বাধা দেয় ছমিউল্লাহ মেম্বার। প্রান নাশের হুমকি দিচ্ছে মেম্বারের লোকজন। হক টাকা দিয়ে জমি নিলেও অনিশ্চিয়তায় পড়েছি। বিষয়টি থানা পুলিশকে লিখিতভাবে অবগত করেছি।
এদিকে শনিবার সকালে দুই লবন চাষীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্বক জখম করে টিপু বাহিনীর দুধর্ষ সন্ত্রাসীরা। সকালে লবনচাষী বামুলার পাড়া এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমকে (৪৮) বামুলারপাড়া ডাবল ব্রীজ এলাকা থেকে মারধর করে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল টিপু সিন্ডিকেটের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আনছার, কাছিম আলী, আব্বাস উদ্দিনসহ ৬/৭ জন লোক। এ সময় তাকে সড়কে পেটাতে থাকেন। তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে তার কার্যকারক আলী আজম (৩৬)কে কুপিয়ে জখম করে। আহতদের পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। আলী আজমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করে।

খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) তফিক আলম, ইউএনও পুর্বিতা চাকমা ও পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পেকুয়া থানার ওসি কানন সরকার বলেন,আমরা ঘটনাস্থল গিয়ে তদন্ত করেছি। একটি পক্ষ লিখিত এজাহার দিয়েছেন। মামলা নেওয়া হবে।

এস্টেটের মতােওয়াল্লী ইউএনও পূর্বিতা চাকমা বলেন, যাদেরকে লাগিয়ত দিয়েছি তাদেরকে কিছু দুষ্কৃতিকারী হামলা করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পুলিশও গেছে। লবনমাঠের কিছু পলিথিন নষ্ট করে ফেলছে।

 
  
%d bloggers like this: