মো. নুরুল করিম আরমান, লামা প্রতিনিধি:

কয়েক বছর আগেও স্বাস্থ‌্য সেবায় জরাজীর্ণ ছিল বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি রুপসীপাড়া ইউনিয়নের রুপসীপড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। নিয়মিত রুটিন কাজ হলেও মাতৃত্বস্বাস্থ্য সেবা ও প্রসূতি মায়েরাও অন্য রোগীদের মতো ছুটে যেতেন কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম মেডিকেলসহ বিভিন্ন প্রাইভেট স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। কিন্তু এখন বদলে গেছে এই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সেবার মান। প্রসূতি সেবা দানে এই কেন্দ্রটি আজ অনন্য এক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। বর্তমানে গর্ভবতী ও প্রসূতিদের কাছে নিরাপদ সন্তান প্রসবের আস্থা হয়ে উঠেছে এটি। তারই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারী’২২) সর্বপ্রথম প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপদ সন্তান প্রসব (ডেলিভারী) শুরু হয় এ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের। ইতিপূর্বে কেউ কোন গর্ভবতী মা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিরাপদ প্রসব করতে এ কেন্দ্রে আসেনি। এমনটি মন্তব্য করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা। তিনি আরো বলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পাশাপাশি গর্ভবতী মাদের নিরাপদ প্রসব করতে কেন্দ্রটিকে উপযোগী করে তুলেছেন মাতৃত্ব স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নয়নের জাতীয় প্রোগ্রাম “মামনি-এমএনসিএস” প্রকল্প। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে সমন্বয় রেখে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বেসরকারী সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেন ও গ্রীন হিল।

জানা যায়, বর্তমানে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের ইউনিয়নগুলোতেও। এখানে নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিনা খরচে সন্তান প্রসব শেষে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যান মায়েরা। কেন্দ্রটিতে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ থেকে এক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, মামনি প্রকল্প থেকে মিডওয়াইফ একজন চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। এছাড়া মাঠে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, পরিবার কল্যান সহকারী, স্বেচ্ছাসেবী তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই সেবা কেন্দ্রটি আজ জনগনের কাছে অনেক জনপ্রিয়।

প্রসূতি সেবা নিতে আসা ইউনিয়নের দুর্গম ৪নং ওয়ার্ড এ মন্ডু পাড়া বাসিন্দা জিপি মার্মা জানায়, ‘লোকমুখে এটার কথা শুনে এসেছি। মঙ্গলবার সকালে আমার প্রসবজনিত ব্যাথা ও পানি ভাঙ্গে যায়। দ্রুত এই কেন্দ্রের চলে আসলে নিরাপদে আমার একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়।” এ বিষয়ে মিডওয়াইফ রিটু চাকমা জানান, এখানে ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। যখনই প্রসূতি আসেন, তখনই সেবা দেওয়া হয়।

এদিকে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার প্রিয়া দে বলেন, এখানে যারা আসেন; তাদের সকলকে সাধ‌্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হয়। সন্তান হওয়ার পরও নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ পান এখানকার রোগীরা। শুধু প্রসূতি মায়েরা নয়, অনান্য রোগীরা এখান থেকে পরামর্শ ও ওষুধ নেন। অধিক গুরুতর রোগ ও রোগীর ক্ষেত্রে উপজেলা হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জোবাইরা বেগম জানান, রুপসীপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি উপজেলাতে একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেছে। জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে উপ-পরিচালক ডাঃ অংচালু আন্তরিকতায় বর্তমানে এই কেন্দ্রটি সেবার মান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই কেন্দ্রের সফলতা দেখে পুরো ইউনিয়নের মানুষের এখন একমাত্র ভরসা এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি।