নুরুল কবির, বান্দরবান :

উন্ন্য়নের মহাসড়কে স্বাক্ষর রাখতে চলেছে পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। বিশেষ করে যোগাযোগ, পর্যটন ও কৃষি খাতের অভুতপুর্ব উন্নয়ন। পাহাড়ে চোখে পরার মতো উন্নয়ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার। এক উপজেলার সাথে আরেক উপজেলা, এক ইউনিয়নের সাথে আরেক ইউনিয়ন। ক্ষেত্র বিশেষে ওয়ার্ড পর্যায়ের এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ায় যাতায়াতের পথও সুগম হয়েছে। পাহাড়ের এই আমুল পরিবর্তন তথা পিছিয়ে থাকা বান্দরবান জেলাকে উন্নয়নের মহা সড়কে নিয়ে যাওয়ার একমাত্র পাহাড়ের স্বপ্নদ্রষ্ঠা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। তার সু-দক্ষ নেতৃত্বে বান্দরবান এগিয়ে গেছে বহুদুর।

বান্দরবানের তারাছা ও রোয়াংছড়ি উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে স্বপ্নের এই সেতু। রোয়াংছড়ি খালের উপর নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত সেতুটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। সৌন্দর্যবর্ধন কাজ শেষ হওয়ায় লাল-সাদা রঙের চাকচিক্য সেতুটি প্রতিদিন হাজারও মানুষের নজর কাড়ছে।

বান্দরবান এলজিইডি দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২১ অর্থ বছরে ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯৯.১০ মিটার দৈঘ্যের সেতুটির কাজ বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সেতুটি নির্মাণের ফলে তারাছা-রোয়াংছড়ি উপজেলার সঙ্গে দূরত্ব কমেছে। বর্তমানে তারাছার মানুষ রোয়াংছড়ি উপজেলা সদর এবং নদী পথ ব্যবহার করে থাকে

বান্দরবানের সেতুটি নির্মাণের ফলে দুর্গম এলাকার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত জনসাধারণের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে বান্দরবান জেলা সদরের শেষ সীমানা কালাঘাটা-ছাইংগ্যার সাথে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নকে যুক্ত করেছে এই সেতু। এতে করে তালুকদার পাড়া, রাতাঝিরি, বৈদ্যপাড়া, মিনাইপাড়া, মংনাইপাড়া, নোয়াপতংমুখ তারাছা মুখসহ আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ সহজে যোগাযোগ করতে পারবে।

ঠিকাদার নুরুল আবছার জানান তারাছা খালের উপর নিমিত ব্রীজটির কাজ শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে গত বছর সেপ্টম্বর মাসে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তারাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উনুমং মারমা বলেন,এলজিইডির সেতুটি উদ্বোধন হলে মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন ঘটবে। তাদেরকে আর কষ্ট করে নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হবে না। সেতুর পাশাপাশি দুইপাড়ের সড়ক নিমার্ণ কাজ শেষ হলে মানুষের জীবনমানের অনেক উন্নতি হবে। বেড়ে যাবে জমির দাম।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদত মো: জিল্লুর রহমান জানান ২০১৯-২১ অর্থ বছরে প্রায় ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯৯.১০ মিটার দৈঘ্যের সেতুটির কাজ বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা খালের উপর নিমিত ব্রীজটির কাজ শেষ হয়েছে গতবছর এবং ২০২২সালে যেকোন দিন এ সেতুটি উদ্ধোধন করা হবে।