রাশেদ আলম

কক্সবাজার জেলার প্রাচীনতম ও বৃহৎ মসজিদের মধ্যে ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ অন্যতম।মুসলিম উম্মাহর কাছে মসজিদ হলো মর্যাদাপূর্ণ সবচেয়ে উত্তম স্থান। মসজিদ নির্মাণ সদকায়ে জারিয়া অর্থাৎ মৃত্যুর পরও মানুষ কবরে থেকে এ আমলের ছোয়াব পাবে।এ প্রসঙ্গ রাসুল(সঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মসজিদ তৈরি করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে মসজিদের মত একটি ঘর তৈরি করে দিবেন। তিরমিজি ২৯২
ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার পেছনের ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না।
কবি আমির মোহাম্মদ সিকদার পিতা মাগন আলী সিকদার সাং ধলীরছড়া (বতর্মানে রশীদনগর ইউনিয়ন) উপজেলা রামু,কক্সবাজার একজন জমিদার ও ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন। ১৯০৫ইং সালে ঈদগাঁও বাজার এলাকায় মুসলমানদের নামাজ আদায়ে অসুবিধার কথা বিবেচনায় একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি শুধু মাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সম্পূর্ণ নিজ খরচে ঈদগাঁও বাজার এলাকায় উক্ত মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদের উন্নয়ন, শাসন ও সংরক্ষণের জন্য নিজেই প্রতিষ্ঠাতা মতোওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় উক্ত মসজিদটি মাছুয়াখালী সিকদার বংশের মসজিদ হিসেবে সকলের কাছে সুপরিচিত হয়ে উঠে। সি. এস. এবং আর. এস. জরিপ চলাকালীন সময়ে আর.এস. খতিয়ান নং ১৬৪ ও আর. এস ৬৯২৪ দাগটি লিল্লাহ মতোওয়াল্লী আমির মোহাম্মদ সিকদার নামে এবং মসজিদ শ্রেণী রেকর্ডভূক্ত করে চুড়ান্তভাবে প্রচারিত হয়। তৎকালীন সময়ে তিনি সর্বসাধারণ মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে মৌখিক অছিয়ত করেন যে, তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন উক্ত মসজিদের মতোওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাঁর অবর্তমানে তাঁর ঔরসজাত পুত্রগণ বা তাদের অবর্তমানে তাদের পুত্রগণ উক্ত মসজিদের মতোওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার উক্ত অছিয়তের বিষয়টি অত্র এলাকার সকলে জানতেন।তিনি সুপণ্ডিত ও ন্যায়বিচারক হিসেবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাতা মতোওয়াল্লী হিসেবে মসজিদের উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকতেন এবং যখন দেখলেন ক্ষুদ্র পরিসরের মসজিদে মুসল্লীদের অজু,গোসলে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে তখন তিনি মসজিদের সাথে লাগোয়া বাণী গ্রাম রায় এস্টেটের পুকুরটি মসজিদের জন্য বন্দোবস্ত নেওয়া পরিকল্পনা করেন। তিনি বাণী রায় এস্টেটের পক্ষে কোর্ট অব ওয়াডর্স বরাবর উক্ত পুকুর আর. এস. খতিয়ান ১৩৬ এর আর. এস. ৬৯২৩ দাগের ৫৯ শতক জমি বন্দোবস্তী পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। তাঁর আবেদন ৫০১ টাকা জমির মূল্য পরিশোধের বিনিময়ে মঞ্জুর হলে তিনি কালবিলম্ব না করে ০২/০৪/১৯৪৭ ইং সালে নগদে ৫০১ টাকা পরিশোধ করে উক্ত পুকুরের দখল বুঝে নেন।পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ পুকুরটি নিজ অর্থায়নে সংস্কার করে তাতে মসজিদের জন্য সেমিপাকা গৃহ নির্মাণ ও অজু গোসলের সুব্যবস্থা করেন।
মতোওয়াল্লী আমির মোহাম্মদ সিকদার অত্যন্ত দানশীল ও বড়মনের অধিকারী ব্যক্তিত্ব। উক্ত মসজিদের ব্যয় নির্বাহের জন্য তার মালিকানাধীন সম্পত্তি হতে আরও ৩.২০ একর জমি ৩০/০৩/১৯৫৭ইং সালে কক্সবাজার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ৪৭৭৯ নং রেজিস্ট্রি কবলামূলে ফি-ছবিল্লিল্লাহ হিসেবে ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ জন্য ওয়াকফনামা করেন এবং উক্ত ওয়াকফনামাতে পূর্বের মৌলিক অছিয়তকে লিপিবদ্ধ করেন যে, তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন উক্ত মসজিদের মতোওয়াল্লী হিসেবে থাকবেন এবং তাঁর অবর্তমানে তার ঔরসজাত পুত্রগণ বা তাদের অবর্তমানে তাদের পুত্রগণ উক্ত মসজিদের মতোওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও তিনি একজন সুপন্ডিত ও কবি হিসেবে হজ্জ যাত্রার উপর রচিত “আদর্শ হেজাজ ভ্রমণ” ছন্দময় কাব্য গ্রন্থে ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পরবর্তী মতোওয়াল্লী কে হবেন তা সুস্পষ্ট কাব্যিক ছন্দপতন করেন। অছিয়তনামা ছন্দ কাব্যটি হলো-
আমির মোহাম্মদ কহে ডাকিয়া রব্বানা
কোন অব্দে কে গড়িলো মসজিদ খানা
তেরশত চুয়ান্ন বাংলায় ইহারই স্থাপন
আমির মোহাম্মদ গড়ে বন্দেগির কারণ
পারাপার মাসে খমছা দিনেতে পত্তন
তেরশত সাতানব্বই জান বাংলা সন
পূনঃ নির্মাণে আল্লাহর মদদ পর জনগণ
সু-পুত্র মমতাজউদ্দিন আহমেদ মতোওয়াল্লীর স্থানে
রাখেন আল্লাহ দু’জাহানে মানে সম্মানে
হীনজ্ঞানী কি বর্ণিব হক কমিটির অবদান
কক্সবাজার অন্তর্গত ঈদগাঁও গ্রাম
তাঁর স্মৃতি বিজড়িত স্বরচিত অছিয়তনামা ছন্দ কাব্যটি এখনও মসজিদের প্রধান ফটকে খোদায় খচিত অক্ষরে টাঙানো আছে। হয়তো কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে,
ইনশাআল্লাহ
তাঁর মতোওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন কালে সেক্রেটারি /পরিচালক হিসেবে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন মরহুম নুরুল ইসলাম চৌধুরী (প্রকাশ ইসলাম মিয়া), আরও যারা তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মরহুম মোজাহের মাতবর,মরহুম রমজান মিয়া চৌধুরী, মরহুম বেদার মিয়া চৌধুরী, মরহুম মাওলানা ক্বারী সুলতান আহমদ এবং মরহুম শাহারিয়ার চৌধুরী (শহর মিয়া)প্রমূখ।
১৯৬৬ইং সালে মতোওয়াল্লী আমির মোহাম্মদ সিকদার বার্ধক্যজনিত কারনে ইন্তেকাল করেন। ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিওন। তাঁর অছিয়ত মোতাবেক তাঁর সু-পুত্র মমতাজউদ্দিন আহমেদ ১৯৬১ ইং সালে ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মতোওয়াল্লী এর দায়িত্ব গ্রহন করেন। তিনি মসজিদ পরিচালনা ও তদারকির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন। যারা মসজিদের সেক্রেটারি ছিলেন তারা
মরহুম আবদুর রহমান মাষ্টার, মরহুম মাষ্টার ফজলুল করিম, মরহুম মওলানা ওবাইদুল হক, মওলানা জসিম উল্লাহ মিয়াজি। কমিটিতে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মরহুম মোহাম্মদুল আলম, মরহুম আমিন মিয়া,মরহুম নজির মিয়া, মরহুম মোজাফফর আহমদ মেম্বার, মরহুম সৈয়দুল করিম চৌধুরী, মরহুম বদিউল আলম সওদাগর, মরহুম ডাঃ মোহাম্মদ ফেরদৌস, মরহুম আবু আহমদ খলিফা ও মরহুম কবির আহমদ।
বিগত ১৯৮৪ইং সালের দিকে মতোওয়াল্লী আলহাজ্ব মমতাজউদ্দিন আহমেদ জানতে পারেন যে,বাণী রায় এস্টেট থেকে তাঁর পিতার বন্দোবস্তী প্রাপ্ত আর. এস. ১৩৬ খতিয়ানের আর. এস ৬৯২৩ দাগের পুকুরটি ভুলবশতঃ বি.এস জরিপে মসজিদের নামে না হয়ে বাংলাদেশ সরকারের ১নং খাস খতিয়ানে রেকর্ডভূক্ত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় তিনি খতিয়ান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।তাঁর নির্দেশ মোতাবেক মসজিদ কমিটির তৎকালীন সেক্রেটারি ফজলুল করিম বাদী হয়ে মাননীয় সহকারী জজ আদালত কক্সবাজারে অপর ৩৬/১৯৮৪ মামলা দায়ের করেন। মামলার আর্জিতে বলা হয় মরহুম আমির মোহাম্মদ সিকদার ০২/০৪/১৯৪৭ ইং সালে ৫০১ টাকা মূল্য পরিশোধ করে উক্ত পুকুরটি বাণী রায় এস্টেটের পক্ষে কোর্ট অব ওয়াডর্স থেকে বন্দোবস্তী প্রাপ্ত হয়ে ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুসল্লীর অযু গোসল ও দোকান ভাড়াটিয়া উপলক্ষে ভোগ দখলে আছেন। দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর ২০/০৪/১৯৮৭ইং তারিখে মাননীয় সহকারী জজ আদালত মসজিদের পক্ষে রায় ও ডিগ্রি প্রদান করে৷ মাননীয় আদালতের রায় ডিগ্রি মোতাবেক কক্সবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর নামজারী জমাভাগ মামলা নং ১৪৪৫/২০০৬ নালিশী আর. এস ৬৯২৩ ও ৬৯২৪ দাগাদারি তুলনামূলক বি.এস ৭৮১২,৭৮১৩ ও ৭৮১৪ দাগাদারি মোট ৬২ শতক জমি ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পক্ষে সেক্রেটারির নামে ৫০৯৩ নং খতিয়ান চুড়ান্তভাবে সৃজিত হয়।
মতোওয়াল্লী আলহাজ্ব মমতাজউদ্দিন আহমেদ ও তাঁর পিতার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে মসজিদের সুনাম রক্ষা ও উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রাখেন। তাঁর মালিকানাধীন ঈদগাঁও মৌজার সম্পত্তি হতে আর. এস. ৩২০ খতিয়ানের আর. এস ১৭৭১২ দাগের নাল জমি মোট ৬৩ শতক ২০/১১/১৯৭২ ইং সালে ৫২২১ নং রেজিস্ট্রি কবলামূলে ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদকে ওয়াকফ করেন।একই দিনে তিনি ধলীরছড়া মৌজার আর. এস খতিয়ান ৪৬৬ ও আর. এস ২৫৬৫ দাগের মোট ১.২০ একর নাল জমি ৫২১৮ নং রেজিস্ট্রি কবলামূলে মসজিদকে ওয়াকফ করেন।ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, মাছুয়াখালী সিকদার বংশধরা প্রায় ৭/৮ একরের বেশি সম্পত্তি ছোয়াবের উদ্দেশ্যে উক্ত মসজিদে ওয়াকফ করেন।
মতোওয়াল্লী মমতাজউদ্দিন আহমেদ এর প্রচেষ্টায় মসজিদের আয় বৃদ্ধি খাত সৃষ্টি হওয়ার পর মসজিদটিকে বড় পরিসরে দ্বিতল ভবনে রুপান্তর করেন এবং মসজিদের চতুর্পাশে প্রায় ৭০টি দোকান নির্মাণ করে মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া প্রদান করা হয়।তাঁর দূরদর্শিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কক্সবাজার এর সর্ববৃহৎ ও সম্পদশালী মসজিদে পরিনত হয়।তবে মসজিদ কার্যক্রম পরিচালনার কোন নীতিমালা বা গঠনতন্ত্র ছিল না।১৯৯৮ সালে তাঁর জামাতা ও ভ্রাতুষ্পুত্র সাংবাদিক বদিউল আলম কে আহবায়ক করে একটি গঠনতন্ত্র প্রনয়ন কমিটি করেন।কারণ সাংবাদিক বদিউল আলম তখনকার সময়ে সাংবাদিক জগতের অন্যতম পুরোধা সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।তিনি লেখক,সংগঠক, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তিনি কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি, ডুলাফকির(রঃ) মাজারের সহ-সভাপতি, ফরিদা রশিদ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক সহ বহু সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মসজিদের গঠনতন্ত্র প্রনয়ন কমিটির আহবায়ক সাংবাদিক বদিউল আলম ছাড়াও আরও দুইজন সদস্য ছিল। তারা হলেন- আলহাজ্ব মোহাম্মদ আমিন ও আলহাজ্ব আবদুল ওয়াহেদ।তাদের প্রণীত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মসজিদের কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়।পরবর্তীতে সাংবাদিক বদিউল আলম কে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।অন্যদিকে মতোওয়াল্লী মমতাজউদ্দিন আহমেদ বয়োবৃদ্ধির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন।তাঁর পিতা মরহুম আমির মোহাম্মদ সিকদার এর অছিয়ত মোতাবেক পরবর্তী মতোওয়াল্লী কে হবেন এ নিয়ে একটু চিন্তায় পড়লেন।তখন তিনি সর্বদিক যোগ্যতা বিবেচনায় তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা সাংবাদিক বদিউল আলম কেই যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পরবর্তী মতোওয়াল্লী হিসেবে মনোনীত করেন এবং ২১/০৩/২০০৮ ইং তারিখে কক্সবাজার রোটারি পাবলিক এডভোকেট সরওয়ার কামালের অফিসে স্ব শরীরে উপস্থিত হয়ে পিতার অছিয়ত মোতাবেক সাংবাদিক বদিউল আলম কে পরবর্তী ২০১০ ইং সাল হতে অত্র মসজিদের মতোওয়াল্লীর দায়িত্ব অর্পণ করেন। মতোওয়াল্লী আলহাজ্ব মমতাজউদ্দিন আহমেদ ১৯৬০ ইং হতে ২০০৯ ইং পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ইং হতে অদ্যবধি সাংবাদিক বদিউল আলম ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মতোওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক মসজিদ পরিচালনার জন্য অত্র এলাকার জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্নয়ে ৭২ সদস্যবিশিষ্ট্য একটি সাধারণ পরিষদ ও ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদ গঠন করেন। প্রতি বছর মসজিদের আয় ব্যয় হিসাব একটি অডিট কমিটি গঠন করে স্বচ্ছ ভাবে করেন। স্থানীয় ব্যাংক ম্যানেজার ও সরকারী কর্মকর্তাদের সমন্নয়ে অডিট কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়।মসজিদের সম্পদ রক্ষায় ও বেদখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য বর্তমানে ৪/৫ টি মামলা চলমান আছে। অত্র মসজিদের একজন খতিব, একজন পেশ ইমাম, একজন মোয়াজ্জেম, ৩জন খাদেক ও ১জন অফিস সহকারী সহ মোট ৮ জন কর্মচারী আছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের আর্থিক সহযোগিতায় মসজিদটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন- কক্সবাজার -৩ আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, ঈদগাঁও উপজেলার কৃতি সন্তান মাননীয় সিনিয়র সচিব জনাব হেলালুদ্দীন আহমদ (অবঃ) ঈদগাঁও উপজেলার সূযোগ্য সন্তান ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জনাব লেঃ কর্নেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ পি এস সি।আমরা মসজিদের পক্ষে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাই।
বর্তমানে ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কার্যক্রম বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বর্তমান মতোওয়াল্লী সাংবাদিক বদিউল আলম কতৃর্ক বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক, ঢাকা এর বরাবরে আমির মোহাম্মদ সিকদার ওয়াকফ এস্টেট নামক সরকারি ওয়াকফ এস্টেটে তালিকাভূক্তির আবেদন করা হয়।উক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসক আমির মোহাম্মদ সিকদার ওয়াকফ এস্টেট এর ইসি নং ৩/২২ নথিবদ্ধ করেন। বর্তমানে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার ওয়াকফ পরিদর্শক এর নিকট তদন্তের জন্য আছে।
বর্তমান রশিদনগর ইউনিয়নের সিকদার বংশের ইতিহাস প্রায় ৪০০ বছরের পুরানো।ঈদগাঁও মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মতোওয়াল্লী আমির মোহাম্মদ সিকদার এর পিতা মাগন আলী সিকদার একজন শিক্ষিত সরকারি তহছিলদার ছিলেন। তাঁর পিতা উমেদ আলী সিকদার কে অত্র এলাকার সিকদার বংশেরে প্রথম পুরুষ বা ১ম জেনারেশন ধরা হয়।গত বছর সিকদার বংশধরা একটি পুনর্মিলনীর মাধ্যমে উমেদ আলী সিকদার ফাউন্ডেশন নামক একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সাংবাদিক বদিউল আলম কে সভাপতি ও মোহাম্মদ আবু কাউছার কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।আত্মপ্রচার বিমূখ উমেদ আলী সিকদার বংশধরায় বহু সামাজিক, শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা আমাদের অনেকের অজানা।নিম্নে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রতিষ্ঠানের নাম ও প্রতিষ্ঠাতার নাম দেওয়া হলো।
মসজিদ
১। ঈদগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ঈদগাঁও উপজেলা স্থাপিত ১৯০৫ইং প্রতিষ্ঠাতা- আলহাজ্ব আমির মোহাম্মদ সিকদার
২। মাছুয়াখালী সিকদারপাড়া জামে মসজিদ, সিকদারপাড়া,রশীদনগর, প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব আমির মোহাম্মদ সিকদার
৩।ধলীরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ,ধলীরছড়া, রশীদনগর প্রতিষ্ঠাতা-মাষ্টার নাদেরুজ্জামান
৪। ঈদগাঁও বাস ষ্টেশন জামে মসজিদ, ঈদগাঁও উপজেলা প্রতিষ্ঠাতা- নুরুল কবির চৌধুরী (প্রকাশ কবির মিয়া)
৫। কক্সবাজার মরকজ মসজিদ,গোল দীঘির পাড়, কক্সবাজার পৌরসভা প্রতিষ্ঠাতা- নজির আহমদ(প্রকাশ নজির মিয়া)
৬। মসজিদ আল রশীদ, ধলীরছড়া,রশীদনগর প্রতিষ্ঠা কাল ২০২১ইং,
প্রতিষ্ঠাতা- ফরিদা আর আহমদ সভাপতি
সাংবাদিক বদিউল আলম
সাধারণ সম্পাদক, ফরিদা রশিদ ট্রাস্ট
৭।বায়তুন নূর জামে মসজিদ মোরাপাড়া,সিকদারপাড়া,রশীদনগর
প্রতিষ্ঠাতা- মোস্তাফিজুর রহমান কামাল
৮।বায়তুল আজিম জামে মসজিদ, মগপাড়া,রশীদনগর প্রতিষ্ঠাতা- মমতাজ কামরুন নেসা আজিম
৯।নোয়াবাজার জামে মসজিদ, নতুনবাজার, রশীদনগর প্রতিষ্ঠাতা- জসিম উদ্দিন
১০। রত্নগর্ভা জামে মসজিদ
প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান,সাবেক সংসদ সদস্য
মাদ্রাসা
১।ইসলামিয়া আশরাফুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসা, সিকদারপাড়া, রশীদনগর,প্রতিষ্ঠাতা হাজী রফিক আহমদ
২।আজিজিয়া মাদ্রাসা থলিয়াঘোনা, রশীদনগর প্রতিষ্ঠাতা- আলহাজ্ব ফয়েজ আহমদ চৌধুরী
৩। শাফায়াত নূর হেফজ ও এতিমখানা
বড় ধলীরছড়া,রশীদনগর প্রতিষ্ঠাতা লিয়াকত নূর চৌধুরী
৪।ফরিদা রশীদ হেফজ ও এতিমখানা, সিকদারপাড়া,রশীদনগর প্রতিষ্ঠাতা ফরিদা রশিদ ট্রাস্টের সভাপতি ফরিদা আর আহমদ

ফরিদা রশিদ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বদিউল আলম
স্কুল
১। আমির মোহাম্মদ সিকদার উচ্চ বিদ্যালয়, ঈদগড়,প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মমতাজউদ্দিন আহমেদ
২। নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়
রশীদনগর, প্রতিষ্ঠাতা রশীদ আহমদ
৩।মাছুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিকদারপাড়া প্রতিষ্ঠাতা মাষ্টার নাদেরুজ্জামান
৪।ফরিদা রশিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধলীরছড়া,রশিদনগর প্রতিষ্ঠাতা ফরিদা রশিদ ট্রাস্টের সভাপতি ফরিদা আর আহমদ
সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বদিউল আলম
৫। রত্নগর্ভা রিজিয়া বেগম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত ২০১৭ইং প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান,সাবেক সংসদ সদস্য
কলেজ
১। ঈদগাঁও রশীদ আহমদ কলেজ
প্রতিষ্ঠাতা- প্রতিষ্ঠাতা ফরিদা রশিদ ট্রাস্টের সভাপতি ফরিদা আর আহমদ
সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বদিউল আলম
২। কক্সবাজার সিটি কলেজ
অন্যতম দাতা – ফরিদা রশিদ ট্রাস্টের সভাপতি ফরিদা আর আহমদ
সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বদিউল আলম
৩। কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ
অন্যতম দাতা- ফরিদা রশিদ ট্রাস্টের সভাপতি ফরিদা আর আহমদ
সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বদিউল আলম
এছাড়াও বহু সামাজিক সংগঠন ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে উমেদ আলী সিকদার বংশধরদের।

লেখক:
উমেদ আলী সিকদার ফাউন্ডেশন এর
প্রচার সম্পাদক

 
  
%d bloggers like this: