পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় কীটনাশক পান এবং গলায় ফাঁস দিয়ে এক সপ্তাহে কিশোরী শিক্ষার্থীসহ ৪ জন আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে মাইনুল ইসলাম মানিক (২৮) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। মানিক উপজেলার সদর ইউনিয়নের মছিন্যাকাটা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।

নিহতের চাচা নুরুল আজিম বলেন, মানিকের পিতা উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে ও মা পাশের একটি বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। সেই সময় ফাঁকা বাড়িতে মানিক ঘরের আঁড়ির সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

বুধবার (২৭ জুলাই) ভোররাতে জান্নাতুল মাওয়া (২০) নামে উজানটিয়া এএস আলিম মাদরাসার আলীম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

তিনি উজানটিয়া রুপালী বাজার এলাকার বাহার উদ্দিনের মেয়ে।

নিহতের মা গোলচেহার বেগম জানায়, রাতে খেয়ে আমার মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ভোরে ফজরের নামায আদায় করতে রুমে ডাকতে যাই। কোন শব্দ না পেয়ে বেড়ার ফাঁকে উঁকি দিয়ে দেখি মেয়ে ঘরের আঁড়ির সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

সেই সময় স্থানীয়রা জানায়, মেয়েকে বিয়ে দিতে চেয়েছিল তাদের অভিভাবকরা। মেয়ে রাজি ছিলোনা। মা বাবার সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করে।

সোমবার (১আগস্ট) সন্ধ্যায় আবু তাহের (৩৭) নামে এক যুবক কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করে।

নিহত যুবক মগনামা ইউনিয়নের মরিচ্যাদিয়া এলাকার মৃত বজল মিয়ার ছেলে।

সেই সময় স্থানীয় সূত্রে জানায়, আপন সহোদরদের মধ্যে জায়গার সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে আবু তাহেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। সেই অপমানে তিনি আত্মহত্যা করে।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আরজু বেগম (১৭) নামে এক কিশোরী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে।

উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের তিনঘর পাড়া এলাকায় ফয়েজ আহমদের মেয়ে ও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।

সাবেক ইউপি সদস্য জাহেদুল ইসলাম বলেন, দুপুরে নিহতের পিতা ফয়েজ আহমদ ও তার মা জ্যোৎস্না আক্তারের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিকেলে পিতা বারবাকিয়া বাজারে চলে যায় ও মা পাশের একটি বাড়িতে যায়। এ সময় আরজু বাড়িতে একা ছিল। কোন এক সময় সে ঘরের আঁড়ির সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। ধারনা করা হচ্ছে, মা বাবার সাথে অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে।

যুবক যুবতী ও কিশোরীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এডভোকেট কামাল হোসেন বলেন, পরিবার থেকে নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় ধারণা দিনদিন কমে যাচ্ছে। এছাড়াও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ওই বয়সের ছেলে মেয়েরা সব সময় আবেগপ্রবণ থাকে। তাই রাগ করে আত্মহত্যার মত নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটায় তারা। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ছেলে মেয়েদের বিষয়ে যতেষ্ট খোঁজ খবর রাখতে হবে তাদের পরিবারকে। সামাজিকভাবে সচেতনমূলক কর্মকান্ডও অব্যাহত রাখতে হবে।

এক সপ্তাহে ৪ জনের আত্মহত্যার বিষয়ে পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফরহাদ আলী বলেন, লাশগুলো উদ্ধার করে সবগুলোর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে জানা যাবে তাদের মৃত্যুর রহস্য।

 
  
%d bloggers like this: