জালাল আহমদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি বলেছেন ,”বাংলাদেশের জন্য শেখ হাসিনা অপরিহার্য। বাংলাদেশের কোথায় কী উন্নয়ন করতে হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা জানে। আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলাম। ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক যারা ছিলেন, তারা সবাই মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। শেখ হাসিনা মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে ছাত্র রাজনীতি তুলে দিয়েছেন।

আজ ২৬ জুলাই(২০২২) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শরীয়তপুর জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন “কীর্তিনাশা” এর “নবীনবরণ,কৃতি সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান -২০২২ ” এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও অনেক কিছু শিখা যায়। আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম যে ,শরীয়তপুর জেলার পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।
ঢাকা শহরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শরীয়তপুর জেলার শিক্ষার্থীদের কে আমরা ক্রমান্বয়ে বৃত্তি প্রদান করব‌।

শরীয়তপুর জেলার মানুষ সম্পর্কে তিনি বলেন, কে বলে শরীয়তপুর জেলার মানুষ পিছিয়ে আছে? বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে শরীয়তপুর জেলার মানুষ আছে। আমি উপমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে সবার সাথে আমার যোগাযোগ আছে। শরীয়তপুর জেলায় রোজিনা আপার(প্রথম আলো পত্রিকার সাংবাদিক) মতো অনেক সাংবাদিক আছেন।
তিনি শরীয়তপুর জেলার উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে নড়িয়া থেকে কালকিনি উপজেলা পর্যন্ত রাস্তা হয়ে যাবে। শরীয়তপুর জেলার ৬০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে শরীয়তপুরে শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করা হবে। আমি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি হওয়ার কারণে সরকারের যারা সচিব, তারা আমাকে চিনেন।তাই আমার কাজ করতে সুবিধা হয়।

শরীয়তপুর জেলার মানুষ কে বিদ্যুতের জন্য একসময় মাদারীপুর জেলার উপর নির্ভর করতে হতো। এখন শরীয়তপুর জেলার মানুষ কে বিদ্যুতের জন্য মাদারীপুর জেলার উপর নির্ভর করতে হয় না। বরং মুন্সীগঞ্জে আমরা বিদ্যুৎ দিয়ে থাকি। শেখ হাসিনা তাঁত পল্লী শরীয়তপুর জেলায় হয়েছে। শরীয়তপুর জেলার মানুষের ভাগ্যের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভাগ্য জড়িত।
শরীয়তপুর জেলার মানুষ প্রতি আমার হক আছে বলেই আমি বিশ্বাস করি।তাই মানুষের সেবা করাই আমার কাজ।

উচ্চ শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বমানের শিক্ষায় শিক্ষিত করার সুযোগ শেখ হাসিনা সবাই কে করে দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,পড়াশোনা ঠিক রেখেই তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
শরীয়তপুর জেলার সদর থেকে একটা বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদেরকে যাতে নিয়ে আসতে পারে ,সে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে বাসে সংরক্ষিত আসন রেখে দিবো।
সংগঠনের সভাপতি তানভীর ইসলাম প্রিন্স সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এর চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার । তিনি ছাত্রদের কে বাঙালি হওয়ার আগে মানুষ হওয়ার পরামর্শ দেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জীবনাদর্শ হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান ‌
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ আখতার হোসেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডীন প্রফেসর ডঃ জিল্লুর রহমান, শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল , সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম প্রমুখ।

 
  
%d bloggers like this: