নুরুল আমিন হেলালী :

কক্সবাজারের নতুন উপজেলা ঈদগাঁও’তে চিকিৎসা অবহেলায় এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রয়াত ওই শিক্ষকের স্ত্রী।

এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই রাত ১০টার দিকে প্রচন্ড বুকব্যথা উঠলে শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে তার সহকর্মী ও স্বজনেরা তাৎক্ষণিকভাবে ঈদগাঁও বাসস্টেশনের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান।
এর আগে ওখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ শামিম রাশেলের পরামর্শ নিতে যোগাযোগ করেন প্রয়াত ওই শিক্ষকের এক সহকর্মী।
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঢুকেই পড়ে যান লম্বা এক অপেক্ষমান রোগীজটে।
জরুরি চিকিৎসা সেবাপ্রার্থী শিক্ষক সিরাজ তখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসকের সেবা পেতে কেটে যায় বেশ খানিকটা সময়।
ততক্ষণে মাষ্টার সিরাজ পৌঁছে গেছেন হিমশীতল মৃত্যুর দুয়ারে।

দ্রুত চিকিৎসাসেবা পেতে মরিয়া হয়ে উঠা মাষ্টার সিরাজের স্বজন ও সহকর্মীদের প্রাণান্ত চেষ্টা-তদবীরে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ডাঃ শামীমের এক সহকারী মনসুর আলমের বিরুদ্ধেও।

চেষ্টা,তদবীর ,বাকবিতন্ডা ও অপেক্ষার পালা শেষে ডাঃ শামীম রাশেল আসলেন, রোগী দেখলেন, দিলেন ইসিজি পরীক্ষা। অথচ ইসিজি করানোর কোন সুযোগ নেই ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
ইসিজির জন্য যেতে হলো এক কিমি দুরের অন্য একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে। ইসিজি পরীক্ষা শেষে ফের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পথেই থেমে গেছে মাষ্টার সিরাজের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া।
চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ওই শিক্ষকের আত্মীয় স্বজন,প্রতিবেশী থেকে শুরু করে শিক্ষক সমাজ,সচেতন নাগরিক সমাজ’সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।
প্রশ্ন উঠেছে ওই চিকিৎসকের পেশাদারিত্ব ও যোগ্যতা নিয়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসা অপ্রতুল সেবা,অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদনহীনভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই রকম একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিভাবে চলতে পারে?

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ শামীম রাশেলের অপেশাদারি আচরণ, কর্তব্য অবহেলা ও সময়ক্ষেপণই মাষ্টার সিরাজের মৃত্যুর কারণ বলে অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজন ও সহকর্মীরা।
তাদের মতে, যথাসময়ে চিকিৎসক যদি সঠিক পদক্ষেপ নিতে তবে ওই শিক্ষককে অকালে মৃত্যুবরণ করতে হতো না। এই মৃত্যু একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের শামিল বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে কেউ কেউ।

এই অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অবান্তর বলে ডাঃ শামীম রাশেল বিভিন্ন মাধ্যমে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, পেশাদার মনোবৃত্তি নিয়ে নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
অপরদিকে মাষ্টার সিরাজের মৃত্যু চিকিৎসকের কর্তব্য অবহেলার কারণ উল্লেখ করে স্থানীয় ঈদগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রয়াত মাষ্টার সিরাজের স্ত্রী।
অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি স্বীকার করে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন,অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে কোন ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পেলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

 
  
%d bloggers like this: