সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
সত্যিই সাহিত্যের কেন্দ্র ও সীমানা নেই। জাত, গোত্র, ধর্ম-বর্ণ এবং কোন রাজনীতির মাপকাঠিতে সাহিত্যকে বিচার করা যায় না। চিত্তের মাধ্যমে একজন সাহিত্যিক যে বলয়ের হোক না কেন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সাহিত্য রচনা করেও দেশ-বিদেশে তা ছড়িয়ে দেয়া যায়।
সাহিত্যের কেন্দ্রখ্যাত রাজধানীর সাথে পাল্লা দিয়ে জেলা শহরগুলোতে এখন সাহিত্য চর্চায় এগিয়ে আসছে সাহিত্যিকরা। ঢাকা কেন্দ্র হয়ে উঠলেও এই চর্চা থেকে বের হতে হবে। বাংলা সাহিত্যকেও যেকোন কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে দিতে হবে বিশ্বসাহিত্যের আঙ্গিনায়।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত জেলার একমাত্র প্রতিনিধিত্ব ও প্রতিশ্রুতিশীল সাহিত্য সংগঠন কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর একুশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, কবিতাপাঠ ও সঙ্গীতানুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, লোক গবেষক, সাংবাদিক মুহম্মদ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক কবি রুহুল কাদের বাবুলের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ, বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক এম এম সিরাজুল ইসলাম।

কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আহবায়ক, একাডেমীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গল্পকার সোহেল ইকবালের সূচনা বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন বহু আইন গ্রন্থের প্রণেতা, জেলার জৈষ্ঠ্য আইনবিদ, ও লেখক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উখিয়া কলেজের অধ্যক্ষ বিশিষ্ট লেখক অজিত দাশ ও কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক মাসুদা মোর্শেদা।

ছড়াকার জহির ইসলামের কোরআন তেলাওয়াতে মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন,
কক্সবাজার মানুষের বিত্ত আছে চিত্ত নেই। কিন্তু কক্সবাজারে এখন সাহিত্যচর্চার প্রতিযোগিতা হয়। এটা সুখের আনন্দের।
কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমী ২০০১ সাল থেকে এককভাবে জেলার সাহিত্যাঙ্গনকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রশংসার দাবী রাখে। যা একাডেমী থেকে বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রকাশিত একশো গ্রন্থই আমাদের তা স্পষ্ট করেছে। বলতে দ্বিধা নেই সৃজনশীল মন নিয়ে যারা লেখেন, তারাই ভালো কিছু করে এবং করবেন।

একুশ বছরে কক্সবাজারের স্থানীয়দের লেখা নিয়ে কবিতা, ছড়া, গল্প, উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধে ভাষা আন্দোলন, লোক সাহিত্য ইতিহাস, গবেষণা, ইসলামীক লেখা শীর্ষক ১০০ বই, ২৬ টি একাডেমীর মুখপাত্র সমুদ্রসংলাপ, শিশুদের লেখা নিয়ে কিশোর সংলাপ দুইটি, বিনোদনমূলক পত্রিক প্রমোদ সংলাপ একটি ও স্কুল মাদরাসার শিশুদের নিয়ে প্রতিভা অন্বেষণ জেলার সাহিত্যকে জাতীয়ভাবে তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, একাডেমী স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান কবি অ্যাডভোকেট সুলতান আহমেদ,
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক কোস্ট কর্মকর্তা অধ্যাপক মকবুল আহমেদ,
একাডেমির স্থায়ী পরিষদের সদস্য যথাক্রমে- লেখক ও গবেষক নুরুল আজিজ চৌধুরী, বিশিষ্ট লেখক প্রকৌশলী বদিউল আলম, একাডেমীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি ও বাচিক শিল্পী অধ্যাপক দিলওয়ার চৌধুরী।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দ্বিতীয় পর্ব কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ ও সঙ্গীতানুষ্ঠান মুগ্ধতা ছড়িয়েছে।

কবিতা পাঠ করেন, কবি অমিত চৌধুরী, কবি দিলওয়ার চৌধুরী, কবি আদিল চৌধুরী, কবি হাসিনা চৌধুরী লিলি, কবি নুরুল আলম হেলালি, কবি জহির ইসলাম, কবি সিরাজুল ইসলাম বুলবুল, কবি কানিজ ফাতেমা, কবি হাকিমুন্নেছা বাপ্পি ও কবি তৌহিদা আজিম।

সংগীত পরিবেশন করেন, সুপ্রভা দে, কামরুন্নাহার বুলবুল, কবি জোসনা ইকবাল ও তরুণ জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ইশমাম কবির।

অনুষ্ঠানে জেলার বরেন্য শিক্ষাবিদ ও সংগঠক হিসাবে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক এম এম সিরাজুল ইসলাম কে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ জনকল্যাণমূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ একাডেমির পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

 
  
%d bloggers like this: