এম.এ আজিজ রাসেল:

কেউ থাকতেন অন্যের বাড়িতে, কেউ অন্যের জায়গায় বা খাসজমিতে। তাঁদের ছিল না কোনো স্থায়ী ঠিকানা। তাই স্বপ্ন দেখতে ভুলে গিয়েছিল তাঁরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উপহারেরর ঘর পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন বুনছে এসব ছিন্নমূল মানুষ। এখন তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে নতুন করে পথচলা।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন ২৬ হাজার ২২৯টি পরিবারকে জমিসহ গৃহ হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আশ্রয়ণ একটি মানুষের ঠিকানা। জীবন—জীবিকার একটি সুযোগ। যে বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, সে বাংলাদেশের কোনও মানুষ যেন ঠিকানাবিহীন না থাকে, তাদের জীবনটা যেন অর্থহীন হয়ে না যায়, তাদের জীবনটা যেন সুন্দর হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগটা সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন। তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে দলমত নির্বিশেষে তাঁর হাতে গড়া বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের জন্য অন্তত বসবাসের একটি জায়গা করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এই আশ্রয়ণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একদিকে করোনা, অপরদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধের সময় আমেরিকা রাশিয়ার ওপর যে স্যাংশন দিয়েছে, যার ফলে আমাদের সার ও খাদ্য কিনতে সমস্যা হচ্ছে। কারণ, ডলার দিয়ে কেনা যায় না। স্যাংশন দেওয়া। এসব কারণে শুধু বাংলাদেশ না বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। খাদ্যের জন্য হাহাকার। এমনকি উন্নত দেশগুলোতে পর্যন্ত সেই হাহাকার দেখা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও আমাদের দেশকে ভালোভাবে চালাতে পারছি। কিন্তু আমাদের এখন থেকেই সর্তক থাকতে হবে এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপও আমরা নিয়েছি। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে। পানি ব্যবহার সেটাও সাশ্রয় করতে হবে। জ্বালানি ব্যবহার সেটাও সাশ্রয় করতে হবে। আর প্রত্যেকে এক ইঞ্চি জমি যেন খালি না থাকে, খাদ্য উৎপাদন করতে হবে।’

কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে এই অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয় জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানের পর কক্সবাজারে ৩৮৫ জন গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মাঝে জমির দলিল ও ঘরের চাবি তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

তিনি জানান, ‘কক্সবাজার জেলার ৮টি উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৪৭৭২ পরিবারের মাঝে ইতোমধ্যে ১ম এবং ২য় পর্যায়ে ১৪২৫টি গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৪৬৩টি। তারমধ্যে ৮৬৭টি ঘরের দলিল গত ২৬ এপ্রিল হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই ৩য় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমিসহ ঘর পাচ্ছে ৩৮৫ গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার। জেলায় অবশিষ্ট থাকবে ১৮৮৪টি ভূমিহীন পরিবার। তাঁদেরও খাস জমি এবং প্রয়োজনে জমি ক্রয় করে পুনর্বাসিত করা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজারকে গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করা হবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ জানান, ‘কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১১৭, চকরিয়ায় ৪০, পেকুয়ায় ৩১, রামুতে ১৩০, মহেশখালীতে ০৫, উখিয়া ৪৩, টেকনাফ ১৪ ও কুতুবদিয়া ০৫টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে জমির দলিল ও ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহারের ঘর পেয়ে হাসি ফুটেছে একসময়ের ছিন্নমূল, আশ্রয়হীন এবং দুর্ভোগ পোহানো এসব মানুষের।

খুরুশকুলের রাণী বালা দে বলেন, ‘আমার স্বামী রিকশা চালায়। সন্তানদের নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই উপহার আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ‘

শামসুল আলম ও গুরা মিয়া নামে দুই উপকারভোগী বলেন, ‘দিন মজুর করে জীবন চলে তাঁদের। অন্যের বাড়িতে কষ্টে জীবনযাপন করতে হতো। সরকার তাঁদের নতুন ঘর দেওয়ায় এখন পরিবার—পরিজন নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন তারা।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, সাবেক সাংসদ অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রধান একেএম তারিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদর মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ও কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুল ইসলাম।

 
  
%d bloggers like this: