জালাল আহমদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেছেন, “বাংলাদেশে আন্দোলন এবং নির্বাচন ছাত্রলীগ ছাড়া চলে না। আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিলাম। আমার রক্তে ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্মের আগেই ছাত্রলীগের জন্ম। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছাত্রলীগ প্রতিটি আন্দোলনে রাজপথে ভূমিকা পালন করেছে। সেজন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আগামী জাতীয় নির্বাচন আর মাত্র এক বছর বাকি। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও ছাত্রলীগ কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে ‌‌‌‌। সেজন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আমলে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
আজ ১৯ জুলাই (২০২২) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র -শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)মিলনায়তনে শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ” আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

১/১১ এর সময় শেখ হাসিনার গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সে সময় শেখ হাসিনা আপার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলাম। সেই সুবাদে তার সাথে প্রায় দেখা করতাম। তিনি অত্যন্ত দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ছিলেন। যেদিন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়, সেদিন তিনি বলেছিলেন ,”৭৫ এর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে”। আদালতের নির্ধারিত দুই ঘন্টা সময়ের পূর্বে শেখ হাসিনাকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি আদালতে ৩৬ মিনিট জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছিলেন। ১/১১ এর দু:সময়ে সেই বক্তব্য ছিল আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার।
কারাগারের স্মৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি
শেখ হাসিনার আইনজীবী প্যানেলের একজন সদস্য হিসেবে একবার সাবজেলের কারাগারে তার সাথে দেখা করেছিলাম। তিনি কারাগারে বসেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের কোথায় কী উন্নয়ন করবে তার খসড়া তৈরি করেছিলেন। তিনি তার নাম দিয়েছিলেন “দিনবদলের সনদ”। তিনি এই “দিনবদলের সনদ ” তরুণ প্রজন্মকে উৎসর্গ করেছিলেন।
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
এখনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বাংলাদেশের বিপক্ষে এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে । সেই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে”।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, ” ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই কাকডাকা ভোরে ‘মাইনাস টু ফর্মুলার পরিবর্তে মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা ‘ বাস্তবায়ন করার জন্য শেখ হাসিনা কে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগের ভেতরে থাকা একটি অংশ হাত মিলিয়েছিলেন ১/১১ এর অবৈধ সরকারের সঙ্গে । তাকে কারাগারের ভেতরে হত্যা করতে চেয়েছিল ‌‌।১/১১ এর অশুভ শক্তি
বাংলাদেশ কে পাকিস্তানী ভাবধারায় নিয়ে যেতে চেয়েছিল। আবার ক্ষমতায় আসার প্রত্যাশায় ১ কোটি ২৫ লাখ ভুয়া ভোটারদের তালিকা তৈরি করেছিল বিএনপি। জরুরী অবস্থার সময়
১/১১ এর সরকার প্রথম শীর্ষ ৫০জন যে দুর্নীতিবাজ নেতাদের তালিকা তৈরি করেছিল, তাতে আওয়ামী লীগের নেতাদের নাম ছিল বেশি।তার মধ্যে আমিও একজন। পঁচাত্তরের শক্তি একই কায়েদায় ভিন্ন আবরণে ২০০৭ সালে ক্ষমতায় এসেছিল। সেই সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনের সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করেছিল। আমরা তাদের কে ভুলে যায় নি।
শ্রীলঙ্কা দেউলিয়া হয়ে গেছে বলে এখন বাংলাদেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে সুশীল সমাজ এই স্বপ্ন দেখে।
চল্লিশ বিলিয়ন ডলার এখনো রিজার্ভ আছে। তাই বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হবে না।
১/১১ এর সেই ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো দেশের ভেতরে এবং বাইরে বার বার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।যে কোন মূল্যে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রকারী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে”।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক এমপি বিএম মোজাম্মেল হক বলেছেন, “আমাদের দেশের গণতন্ত্র এখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির। কিন্তু ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে সামরিক শাসক শ্রেণী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কে হত্যা করেছিল।১৯৯৬ সালে
১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। মাঝখানে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কবর রচনা করেছিলেন।১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৪৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।২০০১ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩২০০ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
তিনি ১/১১ প্রসঙ্গে বলেন , সেই সময় তথাকথিত সুশীল সমাজ ডক্টর ইউনুস কে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করেছিল। অশুভ শক্তি ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনা কে কারাবন্দীর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে কারাবন্দী করেছিল।

 
  
%d bloggers like this: