নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঈদুল আজহার ছুটিতে অনেকেই পরিবার-পরিজন বা প্রিয়জনকে নিয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে ভ্রমণে আসবেন। তাই কক্সবাজার ভ্রমণে এসে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়, সেজন্য পর্যটকদের ১৪টি পরামর্শ দিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

সোমবার (০৪ জুলাই) সকালে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের ফেসবুক পেইজে এসব পরামর্শ দেয়া হয়। এগুলো হলো-

১। বাস থেকে নামার পর নিজেদের ইচ্ছামতো অটোতে উঠবেন, অবশ্যই গন্তব্যস্থল উল্লেখ করে ভাড়া ঠিক করে উঠবেন। (আমরা সুনির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করার উদ্যোগ নিয়েছি)।

২। সম্ভব হলে আগেই হোটেল বুকিং দিয়ে যাবেন। তবে বুকিং দেবার আগে ভাড়া ঠিক করে নেবেন। যারা কক্সবাজার এসে হোটেল ঠিক করতে চান তারা অবশ্যই অটোচালকের কথায় কোনো হোটেলে যাবেন না। নিজেরা যাচাই করে, রুম দেখে ভাড়া ঠিক করে হোটেলে উঠবেন।

৩। হোটেলে উঠার সময় অবশ্যই এনআইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন কার্ড সাথে আনবেন এবং হোটেলে কপি জমা দেবেন।

৪। বিচে নামার সময় মূল্যবান জিনিসপত্র হোটেলে রেখে আসাই উত্তম।

৫। কিটকটে বসে কোনো ম্যাসেজ বয়কে দিয়ে ম্যাসেজ করাবেন না, ম্যাসেজ বয় দেখলে কিটকটের দায়িত্বে থাকা কর্মীকে সরিয়ে দিতে বলবেন অথবা ট্যুরিস্ট পুলিশকে জানাবেন। (ম্যাসেজের আড়ালে তারা আপনার মোবাইল, মানিব্যাগ নিয়ে যেতে পারে), ট্যুরিস্ট পুলিশ ম্যাসেজ বয়দের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

৬। কোনো ভিক্ষুক, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ দেখলে ট্যুরিস্ট পুলিশকে অবহিত করুন।

৭। বিচ থেকে ভ্রাম্যমাণ হকার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ হকার মুক্ত করা হবে। আপনারা ভ্রাম্যমাণ হকার থেকে কেনাকাটায় বিরত থাকুন।

৮। ফটোগ্রাফারের কাছে ছবি তোলার ক্ষেত্রে আগে থেকেই দরদাম ঠিক করে নিতে হবে। সম্ভব হলে তার লাইসেন্স আছে কি না সেটা যাচাই করে নেবেন এবং মোবাইল নম্বর ও ফটোগ্রাফারের ছবি তুলে রাখবেন।

৯। বিচবাইক, ওয়াটার বাইকে চড়ার ক্ষেত্রে তাদের রেট নির্ধারণ করে দেয়া আছে, যাচাই করে, দাম ঠিক করে উঠবেন।

১০। পানিতে নামার ক্ষেত্রে যেখানে লাইফ গার্ড রয়েছে তার আশপাশে নামার চেষ্টা করবেন।

১১। কোনো ধরনের হয়রানি হবার সম্ভাবনা হলে ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নেবেন।

১২। হোটেলে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে মূল্য তালিকা দেখে নেবেন।

১৩। স্ট্রিট ফুড খাওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

১৪। কক্সবাজার বিচ এলাকা ও এর আশপাশ নিরাপদ তবে সন্ধ্যার পর ঝাউবন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকা এভয়েড করাই উত্তম।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, ২৪/৭ পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় কাজ করে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিচ উপহার দিতে কাজ করে চলেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন।

 
  
%d bloggers like this: