জালাল আহমদ, ঢা.বি প্রতিনিধি:
বাংলা একাডেমিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী সারমিন মতিন মিতু’র লেখা দুইটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
আজ ২৪ জুন(২০২২) শুক্রবার দুপুর বারোটায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে লেখিকা সারমিন মতিন মিতু’র লেখা কবিতার বই “নিঃশব্দে অশ্রুপাত” এবং উপন্যাস “আলো আঁধারের ইতিবৃত্ত” গ্রন্থ দুইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বাংলা একাডেমির সচিব এ. এইচ. এম. লোকমান এর সঞ্চালনায় মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে তিনি বলেন, “মানুষের জীবন মানেই হলো নিঃশব্দে অশ্রুপাত। পৃথিবীর আসার পর আমরা সবাই মায়ের কোলে নিঃশব্দে অশ্রুপাত করেছি।
কেউ না লিখলে কখনো লেখক হতে পারেন না। লেখকদের জীবনে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা অনেক। বেগম রোকেয়া তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। আমাদের মিতু তার পরিবারের স্বামী, সন্তান ও মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
আমাদের দেশে বহুমাত্রিক প্রতিভার লেখক কম।মিতু একজন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী লেখিকা। কবিতার পাশাপাশি তিনি উপন্যাস লিখেছেন। সৃষ্টির জন্য সাধনা করতে হবে। ‌ খাতা,মাথা এবং পাতার সমন্বয়ে লেখক তৈরি হয়‌”।

লেখিকা সারমিন মতিন মিতু বলেন, “আমি কলেজে পড়াকালীন সময়ে কলেজের ম্যাগাজিনে আমার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতার হাত ধরে সাহিত্য অঙ্গনে আমার পদচারণা। প্রকৃতিকে আমি ভালোবাসি। প্রকৃতির টানে আমি বিমোহিত হই বারবার। আমার লেখনীতে আমি প্রকৃতিপ্রেম, মানুষের বিচিত্র অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ, দেশপ্রেম, গ্রামীণ মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবন সংগ্রাম, মনস্তাত্ত্বিক চেতনাপ্রবাহ ও মনোজাগতিক কলহ তুলে ধরেছি‌। আজকের দিনটা আমার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু লেখার চেষ্টা অব্যাহত রাখব।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘রিদম প্রকাশনা সংস্থা’র কর্ণধার মোঃ গফুর হোসেন,লেখিকার মাতা সামনুন নাহার, রুবিনা আক্তার,মাহফুজুল আলম মাসুম প্রমুখ।

লেখিকার বই থেকে এ সময় কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং কবি গোপাল চন্দ্র দাস।
উল্লেখ্য যে, লেখিকা সারমিন মতিন মিতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করে কয়েকবছর শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে মাসিক “অরুণোদয়” ম্যাগাজিনের উপদেষ্টা হিসেবে সম্পৃক্ত আছেন।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি এবং সঙ্গীত চর্চায় নিয়োজিত আছেন। তার স্বামী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব।

 
  
%d bloggers like this: