বিবিসি বাংলা: বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের দল নির্বাচনে জয়লাভ করলে খালেদা জিয়া হবেন প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি’র নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মি. আলমগীর বিবিসি বাংলার কাছে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মামলা আইনগতভাবে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। এসব মামলাকে তিনি মিথ্যা মামলা হিসেবে বর্ণনা করেন।

খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার সাজা হবার বিষয়টি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “দলটির নেতৃত্ব কার হাতে এবং কে নেতা? ওরা ইলেকশন করবে কী নিয়ে, পুঁজি কী?

প্রধানমন্ত্রী বলেন “তারা যে ইলেকশন করবে কাকে দেখাবে (নেতা হিসেবে)? সাজাপ্রাপ্ত পলাতককে? সে তো এদেশের নাগরিকত্ব বাতিল করে ব্রিটিশ নাগরিক হয়ে বসে আছে। সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ব্রিটিশ নাগরিক কিভাবে হলো? এ নিয়ে তারা কিভাবে ইলেকশন করবে? সেটিই বড় কথা। এখানে গণতন্ত্রের দোষ কোথায়।”

এর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব এসব প্রশ্নকে ‘অবান্তর’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমাদের নেত্রী তো আছেনই। আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। বিরোধী দলের নেতা ছিলেন দুইবার। তিনি অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী হবেন।”

“তার অবর্তমানে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমান প্রধান প্রধানমন্ত্রী হবেন, যদি আমরা নির্বাচনে জয়লাভ করি।”

বিএনপির নেতৃত্বে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব প্রশ্ন তুলেছেন সেগুলোকে ‘শিশুসুলভ’ বলেও বর্ণনা করেন বিএনপি মহাসচিব।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দেয়া হয়েছে বলেও মির্জা ফখরুল দাবি করেন।

“যাকে আপনারা পলাতক বলছেন, তিনি পলাতক নন, তিনি নির্বাসিত। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের কথা বললেও মি. আলমগীর বলেন, নির্বাচনের প্রশ্ন তখনই আসে যখন দেশে একটা নির্বাচনের পরিবেশ থাকে।

দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মি. আলমগীর বলেন, নির্দলীয় সরকার ছাড়া আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি।

 
  
%d bloggers like this: