এম.এ আজিজ রাসেল, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফিরে ◾
২০১৭ সালে মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্যের শিলখালী এলাকায় যখন রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন—নিপীড়ন চলছিল তখন নুর খালেদের বয়স মাত্র ১২ বছর। সেখানে সে পড়তো তৃতীয় শ্রেণিতে। একদিন হঠাৎ করে তাদের পাড়ায় সেনাবাহিনী আক্রমণ করলে প্রাণে বাঁচতে পানিতে ঝাঁপ দেয় তার চার বছর বয়সী ছোট ভাই জসীম উদ্দিন। সেখানেই জসীমের মৃত্যু হয়। এটিই ছিল ছোট ভাইয়ের সঙ্গে খালেদের শেষ স্মৃতি। এর পর জীবন বাঁচাতে মা—বাবার সঙ্গে খালেদ ও পালিয়ে আসে বাংলাদেশে।
রবিবার (১৯ জুন) সকালে উখিয়া—টেকনাফের ১০টি ক্যাম্পের নির্ধারিত স্থানে মিয়ানমারে বাপদাদার ভিটায় ফেরার দাবি নিয়ে পৃথক সমাবেশে যোগ দিয়েছেন নুর খালেদ (১৭)। তিনি অশ্রু ঝরা চোখ মুছে মুছে এসব কথা জানিয়েছেন। তার ঠিকানা এখন টেকনাফের লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা শিবির।

শুধু খালেদ নয়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। সেই ট্র্যাজেডি বা রোহিঙ্গা ঢলের আজ ৫ বছর পূর্তি হলো। এর আগেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন বহু রোহিঙ্গা। সবমিলিয়ে বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৪টি অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করা রোহিঙ্গার সংখ্যা কমপক্ষে ১২ লাখ।

দেশে ফেরার আকুতি বিশ্বকে জানাতে নীরব সমাবেশ করেছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। ‘গো হোম ক্যাম্পেইন’—শিরোনামে উখিয়া—টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে স্ব—উদ্যোগে এ সমাবেশ করেছে তারা। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে অনলাইন—অফলাইনে রোহিঙ্গারা ব্যাপক প্রচারণা চালায়। ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শৃংখলা বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্টরাও তাদের এ দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।

এসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই। সমস্যার পাঁচ বছর পার হলেও এখনো পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেননি। প্রত্যাবাসনের জন্য গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ দফায় দফায় বৈঠকে বসছে, অব্যাহত রয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতাও। বৈঠক বা কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে কী হবে ফেরার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহ এবং মিয়ানমারের সদিচ্ছার অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে ঝুলে গেছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। এমন পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফেরা নিয়ে সংশয় কাটছে না রোহিঙ্গাদের।

উখিয়ার ৯, ১৪, ১৩, ১৭, ২ ওয়েস্ট, ১ ওয়েস্ট, ৪ ও ১৮নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পের নির্ধারিত স্থানে সকাল ৮টা থেকে সমাবেশে আসা শুরু করে রোহিঙ্গারা। ক্যাম্পগুলোর পার্শ্ববর্তী ক্যাম্পের সববয়সী রোহিঙ্গারা এখানে অংশ নিয়েছেন।

একই দাবিতে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর নেতৃত্বে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তের গুলি নিহত হন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন স্বপ্ন দেখানো নেতা মুহিবুল্লাহ।

রোহিঙ্গাদের রোহিঙ্গা বলেই ডাকা, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে আরাকানের গ্রামে গ্রামে প্রত্যাবাসন, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত প্রত্যেক চুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, এনজিও, সংশ্লিষ্ট সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা, বার্মার ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল, সম্পত্তি ফেরত, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারসহ নানা দাবী উত্থাপন করা হচ্ছে সমাবেশে।

উখিয়ার ১৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি হোসাইন আহমদ বলেন, ‘সম্মানজনক প্রক্রিয়ায় আমরা নিরাপদ প্রত্যাবাসন চাই। আমাদের আশা সমাবেশে উত্থাপিত রোহিঙ্গাদের যৌক্তিক দাবিগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্ব পাবে।

নয়াপাড়া শিবিরের রোহিঙ্গা আমির হোসেন বলেন, ‘সম্মান ও মর্যাদার সাথে নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চাই। বিশ্ববাসীর কাছে এটাই আমাদের মূল দাবী। বাংলাদেশ সরকার আমাদের আশ্র‍য় দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, আমরা কৃতজ্ঞ।

তবে, এবারের সমাবেশের একক কোন আয়োজক কিংবা নেতৃত্ব পর্যায়ের কেউ সামনে না এলেও প্রচারপত্রে আয়োজক হিসেবে ‘নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী’ লেখা হয়েছে।

তাদের দাবি, নাগরিকত্ব, নিজ ভিটে বাড়ি ফেরত, জাতিসংঘ ফোর্সের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত, রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারসহ সব দাবি মেনে নেওয়ার পাশাপাশি অধিকার ফিরিয়ে দিলেই মিয়ানমারে ফিরে যাবে তারা।

পাঁচ বছরেও রোহিঙ্গারা ভুলতে পারেনি সেই সহিংসতা—

টেকনাফের লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের এফ ব্লকে মায়ের সঙ্গে বসবাস করে সেই নুর খালেদ। তার মা জুসনা খাতুন (৩২) । তিনি বলেন, মিয়ানমারে মগদের তাড়া খেয়ে চোখের সামনে পানিতে পড়ে মারা গেছে আমার চার বছরের শিশু জসীম। সেই স্মৃতি কীভাবে ভুলি?

‘সেখান থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পরও রাতে চিৎকার দিয়ে মারতে আসছে, কাটতে আসছে বলে ঘুম থেকে উঠে যেত খালেদ। এখন সে অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে।

কুতুপালং—১ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মোঃ আবুল কাশেম বলেন, শুধু একবার দুইবার নয়, দফায় দফায় আমরা সেখানে (মিয়ানমারে) নির্যাতনের শিকার হয়েছি। রাস্তায় বের হতে পারতাম না, বাজারে যাওয়া যেত না। তাদের ইচ্ছা—অনিচ্ছার উপর নির্ভর করতো রোহিঙ্গাদের জীবন যাত্রা। মরার আগেও এ নির্যাতনের কথা ভুলব না।

ফিরে যাওয়ার বিষয়ে খালেদ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে থাকতেই সব কিছুর সমাধান করতে চাই। আবার যেন ফিরে আসতে না হয়, সেজন্য সব অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হলেই আমরা সেখানে ফিরে যাব। এর আগে নয়। ’

রোহিঙ্গা নেতা মো. আলম বলেন, ২৫ আগস্ট এ দিনটি আমাদের জন্য একটি কালো দিন। এ রকম দিন আর কোনো রোহিঙ্গার জীবনে না আসুক আমরা সেটাই চাই। তাই আমাদের এবারের দাবি থাকবে সব অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন।

তিনি আরও বলেন, তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবছর আমরা বড় কোনো সমাবেশ করবো না। ঘরে বসেই আমরা আমাদের দাবি আদায়ে জাতিসংঘসহ বিশ্বসম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।

এই রোহিঙ্গা নেতা আরও বলেন, এটি আমাদের দেশ নয়। আমরা এ দেশে থাকতেও চাই না। আমরা আমাদের জন্মভূমিতে ফিরে যেতে চাই। সেটা অবশ্যই নাগরিকত্ব, রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচার, ক্ষতিপূরণ, সম অধিকারসহ সব অধিকার নিয়েই। আমরা টেকসই প্রত্যাবাসন চাই। মিয়ানমার সরকার ১৩৫ জাতিকে সেদেশে মেনে নিয়েছে। আমরাও সেই ১৩৫ জাতির সঙ্গে বসবাস করতে চাই। আমরা চাই, আমাদের সব দাবি পূরণ করা হোক এবং অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

‘মিয়ানমারে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। এ সরকারের প্রতি আমাদের লাখ লাখ শুকরিয়া’, যোগ করেন মোস্তফা।

এই রোহিঙ্গা নেতা আরও বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার অতীতে অনেকবার রোহিঙ্গাদের দাবি—দাওয়া নিয়ে প্রতারণা করেছে। আমরা আর প্রতারিত হতে চাই না। সব দাবি—দাওয়া এবং নিরাপত্তাসহ নিজ দেশে ফিরতে চাই। মিয়ানমারে আরও ১৩৫ জাতি যেভাবে বসবাস করে সেভাবে আমরাও অধিকার এবং মর্যাদা নিয়ে সেখানে বেঁচে থাকতে চাই। ’

বাংলাদেশে যেভাবে রোহিঙ্গা আসা শুরু

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। ১৯৭৮ সালে ২ লাখ ৩৩ হাজার এবং ১৯৯১ সালে আড়াই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ছাড়া বাকিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হলেও ২০০৫ সালের ২৮ জুলাই থেকে প্রত্যাবাসন বন্ধ হয়ে যায়। এখন প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা বইছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বার বার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ভেস্তে যাচ্ছে। গতবছর ২২ আগস্ট ও আগের বছরে দফায় দফায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে কেন্দ্র করে ইয়াবা পাচারকারী, সন্ত্রাসী ও মানবপাচারকারীসহ সমাজবিরোধী চক্রের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেছে। ফলে দিন দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

জানতে চাইলে বিষয়ে ৮—এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কামরান হোসেন জানান, ‘মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার দাবিতে তাঁর ক্যাম্পে ৯টি জায়গায় ১৪ হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশ নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে নতুন ও পুরনো মিলে কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবির এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে বসবাস করছেন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা।

এ বিষয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, উখিয়া—টেকনাফে এখন স্থানীয়রা সংখ্যালঘু। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শিগগির শুরু না হলে এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এমনকি রোহিঙ্গাদের নিয়ে বর্তমানে স্থানীয়দের চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা দিনদিন প্রকট হয়ে ওঠছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক তৎপরতা জোরদার এবং সরকারকে বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। অন্যথায় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান আশা করা যাবে না।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, ‘রোহিঙ্গারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দাঁড়িয়ে নিজ দেশে বাড়ি ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন। শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করছে তারা। এবং বর্তমান সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের মানবিকতা দেখিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর থাকা—থাওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে সরকার। তবে সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে প্রত্যাবাসন। সরকারও চায় যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হউক এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য সরকার সচেষ্ট আছে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সরকার চায় যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে।

২০১৮ সালের দিকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের নেতা হিসেবে আর্বিভাব হয় মাস্টার মুহিবুল্লাহ’র। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরত নিয়ে যেতে সংগঠিত করেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ জোরালো জনমত গড়ে তুলেছিলেন। তিনিই শুরু করেছিলেন ‘গোয়িং হোম’ ক্যাম্পেইন। কিন্তু প্রত্যাবাসন বিরোধী রোহিঙ্গাদের একটি চক্র ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকে সংগঠনের কার্যালয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী আটক হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছে। সম্প্রতি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে আদালতে।

এদিকে, সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুন আর অস্ত্রের মহড়া বেড়েই চলেছে। আধিপত্য বিস্তারের জন্য মাস্টার মুন্না গ্রুপ, নবী হোসেন গ্রুপ, মো. ইসলাম গ্রুপ ও আরসার মধ্যে দিনদিন সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার রাতে অত্যাধুনিক এম—১৬ ডিজাইনের একটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে এপিবিএন। এই ধরণের ভারী অস্ত্র এর আগে ক্যাম্প থেকে উদ্ধার হয়নি। তাই বিষয়টি নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

তবে নিজেদের মাদক কারবারসহ অপরাধ কর্মকাণ্ড জিইয়ে রাখতে নবী হোসেন গ্রুপ, আরসাসহ সকল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রত্যাবাসন ঠেকাতে তৎপর। তাই তারা ক্যাম্পে ক্যাম্পে খুন ও নাশকতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝির দাবী।

 
  
%d bloggers like this: