রাশেদুল ইসলাম:

কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলোচিত কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিন সিকদারের বিরুদ্ধে শওকতুল ইসলাম নামের এক রেস্তোরা ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল রাত ১০টায় পৌরসভার আলির জাহাল এলাকায় ব্যবসায়ী শওকতুল ইসলামের রেস্তোরায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ীকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তার পরিবার৷

আহত শওকতুল ইসলাম বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, সাহাব উদ্দিনের সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের জমির বিরোধ ছিল৷ হঠাৎ গতকাল আমার রেস্তারায় ঢুকে কথা বলতে বলতে গাছের বাটাম দিয়ে আমার হাতের উপর মারতে মারতে হাত ভেঙ্গে দেয়৷ আমি এখনো কিছু বলতে পারতেছিনা৷ আমার হাত শেষ হয়েগেছে৷

আহত ব্যবসায়ীর পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে ব্যবসায়ী শওকতুল ইসলাম আলির জাহাল এলাকায় তাঁর রেস্তোরায় বসা ছিলেন। এ সময় পৌর কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদার ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসীদের নিয়ে রেস্তোরার সামনে অবস্থান নেয়৷ এক পর্যায়ে কাউন্সিলর একটি গাছের বাটাম দিয়ে শওকতুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।

এতে তাঁর হাত ভেঙ্গে যায় এবং শরিরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখম হয়৷ স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে শওকতুল ইসলামকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত ব্যবসায়ী শওকতুল ইসলামের ছোট ভাই মোঃ নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, আলির জাহাল এলাকার আব্দুল সত্তার থেকে ১৯৯৯ সাং এবং ২০০০ সালে দুই বারে ৩ শতক জমি আমার বাবা ক্রয় করে৷ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জায়গাটি আমরা ভোগ করে আসতেছি৷ হঠাৎ গত ৫ জুন সন্ধা ৭টার দিকে কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকাদার ৭ থেকে ৮ জন সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে আমার জায়গায় ইট, বালি, সিমেন্ট মওজুত করে৷ আমাদের জায়গায় কেন ইট, বালি, সিমেন্ট রাখা হয়েছে জানতে চাইলে কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদার ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন এইখানে তোমাদের কিসের জায়গা৷

ছোট ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলর’র নির্যাতন থেকে এবং আমাদের জায়গাটি রক্ষা করতে ৬ জুন আদালতের সরণাপন্ন হয়৷

আদালত আমাদের জায়গার সমস্ত কাগজপত্র দেখে ১৪৪ ধারা দিয়ে আমাদের জায়গায় যেন কেহ আসতে না পারে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন৷

আহতের ভাই নজরুল বলেন, ১৫ জুন সকালে সদর থানার এএসআই মোঃ নোমান এডিএম কোর্টের ১৪৪ ধারার একটি আদেশনামার নোটিশ ১ম পক্ষ এবং ২য় পক্ষের হাতে দেন৷ নোটিশ পাওয়ার পর আমরা না থাকা অবস্থায় রাত ১০টার দিকে কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদার তার বাহিনী নিয়ে আমাদের রেস্তোরায় এসে আমার ভাইকে গাছের বাটাম দিয়ে মারধর করে৷ আমার ভাই চিৎকার করে মাটিতে পড়েগেলে পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে ভাইকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়৷

নজরুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদার আমার ভাইয়ের উপর যে নির্যাতন চালিয়েছে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এ বিচার দাবী করি৷

জেলা সদর হাসপাতালের কর্মরত এক চিকিৎসক বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, ব্যবসায়ীর হাতের অবস্থা ভালনা৷ আঘাতে প্রচুর জখম হয়েছে।

কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদার বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, তার দাদার জমি দখল করার জন্য রেস্তোরা ব্যবসায়ী শওকত অনেকদিন ধরে চেষ্টায় আছে৷ আমরা তাকে দখল করতে দিচ্ছিনা৷

আহত শওকতুল ইসলামের মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে অস্বীকার করে কাউন্সিলর বলেন, তাকে আমি কেন মারব৷ সে গতকাল রাস্তার গর্তে পড়ে ব্যাথা পেয়েছে৷ এগুলো সব ভিত্তিহীন এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা৷

১৪৪ ধারার নোটিশ বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এএসআই মোঃ নোমান বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, আমি উভয়পক্ষকে নোটিশ দিয়েছি এবং রিসিভ কপি ও নিয়েছি৷ সাথে তাদের কে শান্ত থাকার আইনি নির্দেশ দিয়ে আসছি৷

এএসআই বলেন, যদি তারা আদালতের আদেশ পাওয়ার পরেও আদেশ অমান্য করে ফৌজধারী অপরাধ করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে৷

 
  
%d bloggers like this: