ইমাম খাইর:
কক্সবাজার সদর মডেল থানা সড়ক হয়ে বদর মোকাম মসজিদের সামনে দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে থাকে। বিশেষ করে খুরুশকুল সংযোগ সড়কের কাজে নিয়োজিত মালবাহী ট্রাকসমূহ বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। যে কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। ভারী গাড়িসমূহ চলাচল বন্ধ করা না গেলে মসজিদ, স্কুল ও আশপাশের বহুতল ভবনে ফাটলসহ বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করছে স্থানীয়রা।
বদর মোকাম জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান সাউদ বলেন, দেশের অন্যতম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত মসজিদ বদর মোকাম। এখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি প্রতি জুমায় অন্তত ৫ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়ে থাকেন। মসজিদকে কেন্দ্র করে অসংখ্য বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি নুরানি মাদরাসা ও হিফজখানা রয়েছে বদর মোকাম এলাকায়। দীর্ঘ অনেক বছর ধরে সংস্কার নেই বদর মোকাম সড়কের। খানাখন্দেভরা সড়কটি দিয়ে কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের চলাচল। মুসল্লি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজনের চলাচলেও প্রচুর চাপ রয়েছে।
তিনি বলেন, খুরুশকুল সংযোগ সড়কের জন্য কস্তুরাঘাট এলাকায় বক্স গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ কাজ চলমান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের যোগসাজসে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ঠিকাদার বদর মোকাম সড়কটি বেপরোয়া ব্যবহার করছে। নির্মাণাধীন ব্রীজের পাশে বাঁকখালী নদীর উপরে জাহাজের মাধ্যমে ভরাট বালি, পাথর, বালি ইত্যাদি মজুত করা হচ্ছে। ১০/১২ চাকা বিশিষ্ট শতশত ভারি ট্রাক বদর মোকামের সামনের ছোট্ট সড়কটি দিয়ে নির্মাণসামগ্রী পরিবহন করছে। তাতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসী।
বদর মোকাম সমাজ কমিটির সভাপতি ইকবাল মোহাম্মদ শামসুল হুদা টাইডেল বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মীর আকতারের শক্তিশালী ট্রাক চলাচলের কারণে বদর মোকাম সড়কটি দেবে যাচ্ছে। ভেঙ্গে উঠে যাচ্ছে কংকর, ইট, পাথর। ব্যক্তি স্বার্থে সড়কটি বেপরোয়া ব্যবহার করছে। তাতে ইবাদত ও বসবাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
তিনি বলেন, মালবাহী ট্রাকগুলোর বিকট আওয়াজের কারণে ভোগান্তির শিকার এলাকাবাসী। বিঘ্ন ঘটছে নিরাপত্তার। ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা।
ঐতিহ্যবাহী বদর মোকাম এলাকার সহনশীল পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ভারী যানবাহন/ট্রাক চলাচল বন্ধ অথবা শিথিল করতে হবে বলে জানান ইকবাল মোহাম্মদ শামসুল হুদা টাইডেল। মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদেরও একই দাবি।