• শিপ্ত বড়ুয়া

সর্বশেষ রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্যমতে ২০২০ সালে সারাদেশে ৫৪৩১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় সর্বমোট পাঁচ হাজার চারশত একত্রিশ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাছাড়া এই গেলো এপ্রিলে সড়কে ৪২৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এতে ঝরেছে ৫৪৩টি প্রাণ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতি মাসের তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রতি মাস অন্তর অন্তর কি পরিমাণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। আমরা কি সড়ক দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পাবো না?

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের গবেষণা বলছে আমাদের দেশের বেশিরভাগ চালকদের অদক্ষতা ও অসতর্কতা সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ। তাছাড়া দেশের সড়ক ব্যবস্থা নিয়েও আছে বিস্তর অভিযোগ। তুলনামূলকভাবে দেখা গেছে চারলেনের সড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই নি।

এবার প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের মোট কত শতাংশ মহাসড়ক চারলেনের? আমাদের কাছের সড়ক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কথা ধরা যাক। দেশের পর্যটন খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে একের পর এক ঘটে চলেছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পটিয়া-লোহাগাড়া-চকরিয়া এই তিনজায়গার বিভিন্ন পয়েন্টে দুটি গাড়ি ঠিকভাবে ক্রস হতেই বাধে বিপত্তি। দীর্ঘদিনের দাবী দাওয়া থাকলেও এই সড়কগুলো নিয়ে রাষ্ট্রের যেন মাথা ব্যাথা নেই। তবে এটাও উল্লেখ করা জরুরী যে বাংলাবাজার স্টেশনের পর ছমুদা ব্রিজ থেকে কক্সবাজার শহরের ভেতর পর্যন্ত সড়কগুলো চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে এবং লক্ষ্য করলে দেখবেন এইসব সড়কে দুর্ঘটনা তুলনামূলক কমে এসেছে।

যাহোক, প্রতিনিয়ত সারাদেশে উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা নিয়ে রাষ্ট্র কতটুকু ভাবছে তা সহজেই অনুমেয়। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমি দাবী করতেই পারি সড়কে যাতে অকারণে আমার প্রাণ না যায়। গতকালকেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের উত্তর মিঠাছড়ি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে আমাদের এক ছোট ভাই প্রকৌশলী। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তার জীবনের নূন্যতম মূল্যটুকুও কি রাষ্ট্র দিতে ব্যর্থ হয়নি?

সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কিভাবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। নাহয় আমার কিংবা আপনার রক্তাক্ত লাশ হয়তো পড়ে থাকবে সড়ক-মহাসড়কে।

লেখক: শিপ্ত বড়ুয়া, রিপোর্টার, আজকের পত্রিকা।
[email protected]