আব্দুস সালাম,টেকনাফ(কক্সবাজার):
কক্সবাজারের টেকনাফ সদরের কেরুনতলী সংলগ্ন নাফনদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ২৭ লক্ষ ৯৩ হাজার ৭৮৪ টাকা মূল্যের ৪০ হাজার পিস ইয়াবা,মিয়ানমারের প্রচলিত মুদ্রা ২লক্ষ ৩০ হাজার ২০০কিয়াত ও আনুমানিক ১৪ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়েছে। এসময় চার পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার গণমাধ্যামকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শুক্রবার (১৩ মে) ভোররাতে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ টেকনাফ বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-৭ থেকে আনুমানিক ৮০০গজ উত্তর-পূর্ব দিকে কেরুনতলী নামক এলাকায় নাফনদীর পাশে একটি বাড়িতে মিয়ানমার হতে পাচার করে আনা মাদকদ্রব্য মজুদ রাখা আছে।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর হতে একটি চোরাচালান প্রতিরোধ টহলদল দ্রুত বর্ণিত এলাকায় গমন করে স্থানীয় গন্যমান্য বক্তিদের উপস্থিতিতে একটি তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত বাড়িতে অবস্থানরত চারজন ব্যক্তিকে পুঙ্খাপুঙ্খানুভাবে তল্লাশী এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে শোয়ার ঘরে গ্যাস সিলিন্ডারের পাশে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১০ হাজার পিস ইয়াবা,মিয়ানমারের প্রচলিত মুদ্রা ২লক্ষ ৩০ হাজার ২০০কিয়াত (বাংলাদেশী ১০হাজার ৭৭৪ টাকা সমমান) ও ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের ১৪ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত আসামীদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে হ্নীলা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকা চৌধুরী পাড়া এলাকায় ব্যাটালিয়ন সদর ও হ্নীলা বিওপির চোরাচালান প্রতিরোধ টহলদল কতৃক একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানে আটককৃত ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী ১নং স্লুইচগেইট নামক স্থান হতে ৩০হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উল্লেখিত বর্ণিত বাড়ি হতে আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা পূর্ব হতেই পারিবারিকভাবেই মাদক চোরাচালান,বলপূর্বক মিয়ানমারের ব্যাস্ত্তচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মিয়ানমারসহ বিদেশে পাচারের সাথে জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদান করে। এ পর্যন্ত তারা আনুমানিক ১৫০/১৬০ মিয়ানমারের নাগরিককে বিদেশে পাচার করেছে মর্মে স্বীকার করে।
আটককৃতরা হলেন, টেকনাফ সদরের বরইতলী এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে মো. শফিউল্লাহ(৫৫),মো. শফিউল্লাহর ছেলে মো. আনোয়ার হোসাইন(১৯), মো. শফিউল্লাহ এর স্ত্রী মোছাঃ তৈয়বা বেগম(৪০) ও মো. আনোয়ার হোসাইনের স্ত্রী মোছাঃ লাকী আকতার(১৯)।

তিনি আরো জানান,আসামীদের নিকট থেকে উদ্ধারকৃত মিয়ানমারের কিয়াত ও স্বর্ণ কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের ট্রেজারী শাখায় জমা করে আটককৃতদের মাদক চোরাচালান এবং অবৈধভাবে বিদেশে মানব পাচারের সাথে জড়িত থাকার দায়ে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।