মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় হিউম্যান হলার জিটু গাড়ির চালকদের অদক্ষতায় বাড়ছে দুর্ঘটনা। একের পর এক দূর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হাইওয়ে পুলিশ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, মালবাহী মিনি পিকআপে ছাউনি লাগিয়ে যাত্রীবাহী করা হয়েছে। এসব গাড়ির বৈধ কোন কাগজপত্র নেই বলেও জানায় হাইওয়ে পুলিশ। চালকদের নেই কোন প্রকার ড্রাইভিং লাইসেন্স। কথিত কিছু মালিক সমিতির নাম ব্যবহার করে মহাসড়কে বীরদর্পে চলানো হচ্ছে। দিনদিন চকরিয়া মহাসড়কে বাড়ছে এ হিউম্যান হলার জিটুর সংখ্যা।

সরেজমিনে ডুলাহাজারা বাস-স্টেশনে গাড়িগুলোর লাইন স্থাপন করায় যানজটে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণের। অপরদিকে অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক দিয়ে মহাসড়কের এসব গাড়ি চালানো হচ্ছে। তাদের কোনপ্রকার প্রশিক্ষণ বা মহাসড়কের আইন-কানুন জানা না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানায় ভারি গাড়ির চালকরা। যার কারণে এসব গাড়ি যাত্রী উঠানামা করাতে কোন সংকেত ছাড়া মহাসড়কের কিনারায় হঠাৎ ব্রেক করছে আর ঘটছে দুর্ঘটনা।

চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে পরপর দুটি দুর্ঘটনায় যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল সোমবার সকাল ১১ টায় ঈদগাঁও থেকে ডুলাহাজারা বাজারে যাত্রাপথে খুটাখালী ইউনিয়নের ফুলছড়ি গেইট এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, যাত্রী উঠানামা করতে হঠাৎ হিউম্যান হলার জিটু গাড়িটি তাৎক্ষণিক দাড়িয়ে গেলে পেছন থেকে কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী জিটু গাড়িটি ছিটকে ধানক্ষেতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় জিটুর বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে৷ হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠিয়ে ধানক্ষেত থেকে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি উদ্ধার করে। এসময় মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকে।

এ ঘটনার তিনদিন আগে ঈদুল ফিতরের পরদিন শুক্রবার সকালে একই স্থানে হিউম্যান হেলার জিটু গাড়ির আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। ডুলাহাজারা লাইনের একটি জিটু অতর্কিত ব্রেকের কারণে পেছন থেকে প্রাইভেট কারসহ কয়কটি গাড়ি ধাক্কার কবলে পড়ে এতে জিটুর যাত্রী ফুলছড়ি এলাকার নুরুল ইসলাম (৬৫) নামের বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়েছে। মাথা, হাতে ও কোমরে প্রচন্ড জখম হলে তাকে স্থানীয় আছিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে জিটু গাড়ির মালিক পক্ষ আহত বৃদ্ধের কোনপ্রকার খোঁজখবর নেয়নি বলেও অভিযোগে জানায় রোগীর স্বজনরা।

এ বিষয়ে মালুমঘাট হাইওয়ে থানার পরিদর্শক ইমন কান্তি চৌধুরী জিটু গাড়ির দুটি দুর্ঘটনার সত্যতা জানান। তিনি বলেন, মহাসড়কে অনুমোদন নেই এমন কোন গাড়ি আমরা ছাড় দিচ্ছি না। গতকালের দুর্ঘটনায় গাড়ি সমূহ জব্দ করা হয়েছে। ঈদের পরদিনের দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটিও খোঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এনিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং আহত বৃদ্ধের চিকিৎসার খোঁজখবর নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।