মোহাম্মদ ইমরান, উখিয়া:

অনুকূল আবহাওয়ায় এবার বোরো ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে সীমান্ত জনপদ উখিয়ায়। কৃষক বোরো ধান ঘরে তুললেও বেশিভাগ বোরো ধান এখনো কর্তন করা হয়নি। কিন্তু বর্তমান ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র সংকেতে তড়িঘড়ি করে ফসল ঘরে তুলতে কৃষক/কৃষাণী হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষকরা বলেছেন, চলতি মৌসুমে বৈশাখ মাসের শুরু থেকে উখিয়ার বিভিন্ন যায়গায় হালকা, মাঝারি এবং ভারী বৃষ্টিপাত হলেও। বোরো ধানের সেইরকম কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সম্প্রতি খারাপ আবহাওয়ার কারণে অবশিষ্ট পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে বলে জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে মোট ৬ হাজার ৪ শ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। গত বছরের ন্যায় এই বছর বোরো ধানের উৎপাদন একটু বেশি হবে। কারন এইবার ৪ হাজার ৩ শ জন কৃষকের মাঝে হাইব্রিড জাতের বীজ দেয়া হয়েছে। বেশি চাষ হয়েছে ব্রিধান ২৮. এরপর ৫৮, ৬৭, ৮৮, লালস্বর্না, অন্নপূর্ণা ইত্যাদি।

তবে, প্রথম পর্যায়ে ৪ শ হাইব্রিড + ২ শ ৩০ উফশি। পরবর্তীতে ৩ হাজার জনকে উফশী। হাইব্রিড জাত- অ্যারাইজ তেজ, ব্র্যক সীড। উফশী – ২৮, ৫৮, ৭৫, ৭৮, ৭৯, ৮৮ রাজস্ব- ৩০ জন তারমধ্যে ৫৮, ৬৭, ৭৫, ৭৮, ৮৮ বিনা ১৭ ও বিনা-২০ উৎপাদন এবার বেশি হবে অল্প পরিমানে। ব্রি ধান ২৮ বেশি হয়েছে।

কৃষক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, গতবছর নেক ব্লাষ্ট (শীষ মরা) রোগের আক্রমণে ব্রি ধান ২৮ চাষ করে আমি তেমন লাভবান হয়নি। এই বছরও ব্রি ধান ২৮ চাষ করেছি। কিন্তূ গত বছরের ন্যায় এই বছর বিভিন্ন রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়াতে ফসল অনেকটা ভাল হয়েছে।

কৃষক মীর আহমেদ বলেন, আমি ব্রি ২৮ এবং ৭৫ জাতের ধান চাষ করেছি ব্রি ২৮ ঘরে তুলতে পারলেও এখনো ৭৫ কর্তন করা হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২/৩ দিন পর ফসল ঘরে তুলতে পারবো বলে আশাকরতেছি।

কৃষক আবুল শামা বলেন, গত বছরের ন্যায় ফসল এই বছর অনেকটা ভাল হয়েছে। কিন্তু এখনো স্বপ্নের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ আঘাত আনলে ফসলের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, আগামী ১০-১২ মে এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল গুলোতে আঘাত আনতে পারে। তাই, যাদের বোরো ধান ৮০% পেকে গেছে দ্রুত ধান কর্তন করে ঘরে তুলার জন্য আহবান করছি। এতে, জনপ্রতিনিধি, সচেতন মহল, সকল পর্যায়ের মাঠ কর্মীদের একান্ত সহযোগিতা কাম্য।