প্রেসবিজ্ঞপ্তি

কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে ‘এসএসসি কক্স-৮৭’ ব্যাচের বন্ধুরা।
শনিবার রাতে সৈকতের পাঁচ তারকা হোটেল সি-গালের বলরুমে অনুষ্টিত ঈদ পুনর্মিলনী উৎসবে জেলার ২৬ লাখ মানুষের পক্ষে এ দাবি উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণ, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানের উন্নয়ন, মাতারবাড়ীতে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীরসমুদ্র বন্দর, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল, সোনাদিয়ায় বিশেষ পযটন পল্লি, টেকনাফের সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, খুরুশকুলে জলবায়ূ উদ্বাস্তুদের জন্য হাজার কোটি টাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ ৮০টির বেশি মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

৩৩ বছর  আগে অর্থাৎ ১৯৮৭ সালে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন  স্কুল থেকে এসএসসি পাস করাদের সংগঠন ‘এসএসসি কক্স-৮৭’। বিকাল পাঁচটায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবে সূচনা। এরপর সংগঠনের বিশেষ প্রতিবেদন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন এসএসসি কক্স-৮৭ ব্যাচের সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম আলো কক্সবাজার আঞ্চলিক অফিস প্রধান সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস রানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ও কক্সবাজার-২ ( মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক। আশেক উল্লাহ রফিক ভবিষ্যতে সংগঠনকে সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে যুক্ত রাখার অঙ্গীকার করেন।

উৎসবে জেলার ২০টির বেশি স্কুলের ১৭২ জন বন্ধু এবং তাদের পরিবারের তিন শতাধিক সদস্য অংশ নেন। উৎসবের শ্লোগান ছিল- এসো মিলি প্রাণের টানে’। উৎসবে বন্ধুদের স্মৃতিচারণ, নাচ-গান, আবৃত্তি উৎসবে নতুনমাত্রা পায়। চলে উপজেলা ভিত্তিক ফটোসেশনও।

করোনা মহামারির দুই বছরে এবং বিভিন্ন সময় যেসব স্কুলের শিক্ষক এবং বন্ধুদের মৃত্যু হয়েছেন, তাঁদের রুহের মাগফেরাত ও শোক প্রকাশ করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।

উৎসবে স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করেন ব্যারিষ্টার প্রশান্ত ভুষন বড়ুয়া, রাজনীতিক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, সোহেল আহমদ বাহাদুর, কাজী মোস্তাক আহমদ শামীম, অ্যাডভোকেট মো. মোস্তাকিম, অ্যাডভোকেট ওসমান সরওয়ার আলম, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান, ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আবদুল হান্নান, অধ্যাপক মিলন বড়ুয়া, অধ্যাপক হাশেম উদ্দিন, ব্যবসায়ী নুরুল আজিম ফরাজি, গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।

রকমারি গান পরিবেশ করে উৎসব মাতিয়ে রাখে বন্ধু গিয়াস উদ্দিন কোম্পানি, আবদুল আল মাসুদ রুমেল, ঠিকাদার গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের কর্মকর্তা মইন উদ্দিন কোহেল, হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোস্তাকিম প্রমুখ।  কবিতা আবৃত্তি করেন চট্টগ্রামের মানবিক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও শিক্ষিকা নিলুফা ইয়াসমিন নিলু ও মইন উদ্দিন কোহেল।

সবশেষে র‌্যাফেল ড্র পরিচালনা করে শফিকুল ইসলাম ও ওসমান সরওয়ার আলম। আফরিদ কুদ্দুস ছোট্টসহ পরিবারের কয়েকজন শিশু গান, ডান্স ও ছড়া-কবিতা আবৃত্তি করে উৎসব মাতিয়ে রাখে। শিশু শিল্পি ও র‌্যাফেল ড্র বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এসএসসি কক্স-৮৭ সভাপতি সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক।

উৎসবে ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ‘ বে-ইন্টারন্যাশনাল’ চেয়ার চেয়ারম্যান তৌফিক লিপু। উৎসব গান পরিবেশন করে শহরের জনপ্রিয় শিল্পি  সাজু ও ইফতি।

এসএসসি কক্স-৮৭ এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস রানা বলেন, বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সংগঠনের প্রথম ঈদ পুর্নমিলনী উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। আগামীতে আরও ঝাঁকজমকভাবে উৎসব পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তখন জেলার গুনী শিক্ষকদের পাশাপাশি সমাজে বিশেষ অবদান রেখেছেন-এমন ব্যক্তিদের সংবর্ধিত করা হবে। উৎসব থেকে আমরা জেলার ২৬ লাখ মানুষের পক্ষ থেকে কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টার দাবি জানিয়েছি। যেন জেলার দরিদ্র ও দুর্গম উপকূলের সন্তানেরা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। পাশাপাশি আমরা ২০০৯ সালে প্রতিষ্টিত কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছি। যেন জেলার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।