বলরাম দাশ অনুপমঃ
কক্সবাজার থেকে বিদায় নিলেন মানবিক ও চৌকষ সাহসি পুলিশ কর্মকর্তা প্রীতেশ তালুকদার। কক্সবাজার ট্যুরিষ্ট পুলিশ থেকে উপ-পরিদর্শক প্রীতেশ তালুকদারের নতুন কর্মস্থল র‌্যাব হেডকোয়াটার্স। যিনি দীর্ঘ ১৬ মাসে কক্সবাজার ট্যুরিষ্ট পুলিশে কর্মরত অবস্থায় একদিকে যেমন চাঞ্চল্যকর বেশ কয়েকটি মামলার ক্লু উদঘাটন থেকে শুরু করে আসামী আটক, ছিনতাইকৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে পর্যটন এলাকাকে পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল তথা ভ্রমণের স্থান হিসেবে পরিণত করেছিল অন্যদিকে পথশিশু থেকে শুরু অসহায়দের খাবার-পোশাক দিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
রবিবার (৮ মে) সকালে কক্সবাজার ট্যুরিষ্ট পুলিশের কার্যালয়ে বদলীজনিত কারণে আনুষ্ঠানিক বিদায় দেয়া হয় চৌকষ এই পুলিশ কর্মকর্তাকে। বিদায় অনুষ্ঠানে প্রীতেষ তালুকদারের দীর্ঘ কর্মজীবনের বক্তব্যে রাখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ট্যুরিষ্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের এসপি মোঃ জিল্লুর রহমান। এসময় ট্যুরিষ্ট পুলিশের অতিরক্তি পুলিশ সুপার রেজাউল করিম, সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে সিআইডি হতে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশে উপ পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে যোগদান করেন প্রীতেশ তালুকদার। তখন পর্যটন এলাকায় সপ্তাহে দুই তিনটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতো। তখন ট্যুরিস্ট পুলিশের তদন্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সবে মাত্র। ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রথম মামলাই ছিল ছিনতাইয়ের। মামলা ছিল অজ্ঞাতনামা আসামি। কোন ক্ল্যু ছিলনা।
পরে পুলিশ সুপার ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার মামলাটির তদন্তভার প্রীতেশ তালুকদারকে দেয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে সকল ডাকাত গ্রেফতার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হন ট্যুরিষ্ট পুলিশের চৌকষ এই অফিসার। পরে সকল আসামি ফৌ:কা:বি: ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। মামলাটি তদন্তে ডাকাতি মামলার রূপ নেয়। আরকেটি অজ্ঞাতনামা ছিনতাই মামলার আসামী তিন দিনের মধ্যেই গ্রেফতার করেন এসআই প্রীতেশ তালুকদার।
পাশাপাশি মোটর সাইকেলও উদ্ধার করা হয়। ট্যুরিষ্ট পুলিশের পুলিশ সুপারের নির্দেশে পনের দিনের দিনের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের সহিত সম্পর্ক স্থাপন করে বিভিন্ন কৌশলে কক্সবাজার পর্যটন এলাকাকে সম্পূর্ন ছিনতাই মুক্ত ও পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন সেই অবস্থার তৈরি করা হয়। যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে।
শুধু মামলা তদন্ত কিংবা আসামী আটকই নয়। মানবিক কাজেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন ট্যুরিষ্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের এই কর্মকর্তা। কক্সবাজারের এতিম পথ শিশুদের ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা করে সারাদেশে ট্যুরিস্ট পুলিশের সুনামও বৃদ্ধি করেছেন। এসএসসি ৯৫ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কক্সবাজারে শতাধিক ছিন্নমূল পথ শিশুদের ঈদে নতুন কাপড় ও পুরো রমজান মাসের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। কক্সবাজারের স্থানীয়দের ভালবাসা অর্জনসহ লক্ষ লক্ষ ট্যুরিস্টদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত হয়েছেন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা প্রীতেশ তালুকদার।
এক প্রতিক্রিয়ায় ট্যুরিষ্ট পুলিশের এসআই প্রীতেশ তালুকদার বলেন, কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান স্যারের দক্ষ নেতৃত্বের কারণে এগুলো সম্ভব হয়েছে। স্যারের সুদক্ষ নেতৃত্বে আজ পর্যটন এলাকাকে পর্যটকদের জন্য নির্বিঘ্নে ভ্রমণের একটি স্থান হিসেবে তৈরি করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
উল্লেখ্য-প্রীতেশ তালুকদার ট্যুরিষ্ট পুলিশে যোগ দেয়ার এক মাসের মাথায় ছিন্নমূল কিশোরীর তথ্যে ‘ক্লু-লেস দস্যুতা’র রহস্য উন্মোচন করে আলোচিত হন। এর আগে সিআইডিতে কর্মরত থাকাকালীন শতাধিক ডাকাতি ও হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন সূত্র বিহীন চাঞ্চল্যকর মামলারও রহস্য উদঘাটন করেছিলেন।