দেলওয়ার হোসাইন,পেকুয়া ;

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বারবাকিয়া ইউপির পাহাড়িয়াখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কবির আহমদ (৬৫) নামের এক মুসল্লীকে শয়তানের ভাই বলে ফতোয়া দিয়ে সওদাগর হাটে (বারবাকিয়া বাজার) জনসম্মূখে মারধর করলেন একই মসজিদের ইমাম মৌলানা আজিম উদ্দিন। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে । পুলিশ পাহারায় শুক্রবার জুমা আদায় করলেন মুসল্লীরা ।
মসজিদ স্থলে আসা পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এ এস আই) রূপম বলেন, মসজিদের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষের সুত্রপাত হতে পারে এ ধরণের আশংকা জানিয়ে থানায় সংবাদ দেয়ায় ওসি স্যার আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি সবাইকে সংযত থাকার এবং কোন অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে চলে এসেছি।
কতিপয় সুবিধাবাদী মৌলভীদের ফতোয়াকে নিষিদ্ধ করে মহামান্য হাইকোর্ট । রায় প্রচার করে তা দেশের প্রতিটি এলাকার মসজিদে নির্দেশনা দেয়া সত্বেও তা অমান্য করে মসজিদের একজন নিয়মিত মুসল্লীকে ফতোয়া দিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করার দৃষ্টতা দেখালেন ইমাম মৌলানা আজিম উদ্দিন।
স্থানীয় মুসল্লীরা দ্রুততম সময়ে অভিযুক্ত ইমামের অপসারণের দাবী জানান। তারা ক্ষোভ প্রকাশ আরো বলেন,স্বঘোষিত মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু তাহের এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না, করে মাদক পান ও বিকি-কিনির কারবার তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইমাম আজিম উদ্দিন উল্টো মুসল্লীদের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে। অথচ যে লোক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জা-মাতের সহিত আদায় করে তাকে শয়তান বলে ফতোয়া দিয়ে সমাজে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে সে লোক কোনদিন মসজিদের ইমাম হিসাবে থাকতে পারে না। এ ফতোয়াদানকারী ইমামের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবীও জানান স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুসল্লীরা।
স্থানীয় মুসল্লী মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আবু তাহের নিজেকে স্বঘোষিত মসজিদ কমিটির সভাপতি হিসাবে দাবী করে ঘাপটি মেরে বসে ইমামের সহযোগিতায় মসজিদের সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছেন। এ নিয়ে যখন স্থানীয় মুসল্লী কবির আহমদ সওদাগর প্রশ্ন তোলেন এমনকি মসজিদের অর্জিত তহবিলের হিসাব চেয়েছেন তখন তাকে স্বঘোষিত মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু তাহেরের নির্দেশে সওদাগর হাটে জনসম্মূখে শয়তান আখ্যায় ফতোয়া দিয়ে পেটালেন ইমাম আজিম উদ্দিন। তার এমন কর্মকান্ডে সমাজে বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়েছে। কবির হোছেনকে ইমাম কর্তৃক মারধরের বিষয় নিয়ে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পরে মিমাংসা করে দিবে বলে জানান সভাপতি আবু তাহের কিন্তু তিনি জুমায় মসজিদে না এসে মারামারির আশংকা জানিয়ে পুলিশে খবর দিলেন এবং ইমামকে দ্রুত চলে যেতে মুটোফোনে নির্দেশ দেন। আবু তাহের ও মসজিদের ইমাম আজিমকে দ্রুত সরিয়ে না দিলে বড় ধরণের সংঘর্ষ সংঘটিত হতে পারে বলে আশংখা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। এব্যাপাওে প্রশাসনের কাছে আবেদন দ্রুত সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
মুসল্লী মোঃ ফিরোজ আহম্মদ অভিযোগ করে বলেন,সমাজের একজন বাসিন্দা হিসাবে এ মসজিদের নিয়মিত মুসল্লীø আমি,এ ইমাম বেনামাজী সভাপতি আবু তাহের সহযোগীতায় নামাজের সময়ে মসজিদে আসে না। অনেক সময় তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে নিজেরা ইমামতি করে নামাজ আদায় করতে হয়। সময়মত না আসার কারণ জানতে চাইলে জবাবে বলেন সভাপতি আবু তাহের আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে তাই আমার ইচ্ছামত আসব আর নামজ পড়াব কারো কথা শোনার সময় আমার নাই। ইমাম আজিম উদ্দিন দূর্নীতি পরায়ণ। মসজিদের নামে আসা বিভিন্ন অনুদান সভাপতির যোগসাজসে আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে ইমাম আজিম উদ্দিন যখন তখন ফতোয়া দিয়ে সমাজে ঝগড়া সৃষ্টি করে দিচ্ছে। আমরা এ স্বেচ্ছাচারী ইমাম ও বেনামাজি মাদকসক্ত সভাপতির প্রত্যাহার চাই।
ফতোয়ার শিকার কবির হোছেন প্রকাশ কবির সওদাগর বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আবু তাহের মসজিদের সভাপতি দাবী করে মসজিদের সংগৃহিত অর্থ লোপাট করে চলেছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার এমনকি মাঝে মধ্যে জুমার নামাজ ছাড়া এক ওয়াক্ত নামাজও তিনি পড়েন না মসজিদে। তার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে সে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী ও আমাকে ইমাম আজিমের মাধ্যমে ফতোয়া জারী করে প্রকাশ্যে মারধর করে। তাদের এহেন কর্মকান্ড থেকে রেহায় পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মসজিদের জমিদাতা ৭০ উর্ধো সাবেক মেম্বার ইসমাঈল ও মুসল্লি আলী আবছার বলেন, আমরা এ দূর্নীতিবাজ সভাপতি ও স্বেচ্ছাচারী ফতোয়াবাজ মৌলানা আজিম উদ্দিনের অপসারণ দাবী করছি। অন্যথায় যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য স্বঘোষিত সভাপতি আবু তাহের ও ফতোয়াবাজ মৌলানা আজিম উদ্দিন দায়ী থাকবে।মসজিদের টাকা আত্মসাত করে এধরণের বেপরোয়া আচরণকারী সভাপতি ও ইমাম সমাজে দেখতে চায়না এলাকাবাসী।
একেতো দূর্নীতিপরায়ণ ও মাদক সেবনকারী সভাপতি ও স্বেচ্ছাচারী ফতোয়াবাজ ইমাম তাদের দিয়ে আর যাই হোক মসজিদের মত পবিত্র আল্লাহর ঘর পরিচালিত হতে পারে না। তাই অতি দ্রুত এদের অপসারণে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বঘোষিত মসজিদ কমিটির আবু তাহের বলেন, কবির হোছেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেও সে শয়তান,তবে ইমাম আজিম উদ্দিন বাজারে শত শত মানুষের সামনে তাকে মারধর করা অন্যায় হয়েছে। দীর্ঘ এক যুগ ধরে কিভাবে সভাপতি পদ আঁকড়ে আছে জানতে চাইলে বলেন, সময়ের অভাবে সভা (মিটিং) আহবান করতে পারিনি বিধায় আমি এখনো সভাপতি আছি।